ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সরকারি কর্মকর্তারা যা পারেনি, তা করে দেখাল বাঘ!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪০ এএম, ১১ মার্চ ২০১৮, রোববার
সরকারি কর্মকর্তারা যা পারেনি, তা করে দেখাল বাঘ!

ভারত বিভিন্ন দিক থেকে অনেক উন্নতি করেছে, তবে স্যানিটারি ব্যবহারের দিক থেকে তারা বাংলাদেশ থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের গ্রামগুলোতে বহু মানুষ এখনো প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ব্যবহার করেন জঙ্গলকে।

মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘স্বচ্ছ ভারত’ গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে গ্রামবাসীদের বোঝালেও তাদেরকে বনে-জঙ্গলে শৌচকার্য করা বন্ধ করা যাচ্ছিল না।

তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরে ভয় ছড়িয়েছে এক বাঘ। প্রথমে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে বাঘের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় গ্রামবাসী। এরপর সরকারিভাবে ছাড়াও বিভিন্নভাবে খোঁজ চলে বাঘের। তবে একবার ক্যামেরায় ধরা পড়লেও পরবর্তী সময়ে আর দেখা যায়নি। বন বিভাগের তরফে খাঁচা পাতা হলেও কোনো লাভ হয়নি।

এরপরই বনে-জঙ্গলে বাঘ আছে এমন ভয়ে আর শৌচকার্য করতে বাড়ির বাইরে যাচ্ছে না সেখানকার বাসিন্দারা। কারো আগে বাড়িতে শৌচাগার তৈরি ছিল কেউবা দ্রুত বাড়িতে শৌচাগার তৈরি করছেন।

স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য সনৎ মাহাতো বলেন, ‘বাঘের ভয়ে এই একটা লাভ হয়েছে। এতদিন বুঝিয়ে-সুঝিয়েও যাদের শৌচাগার ব্যবহার করানো যাচ্ছিল না, এখন তারা নিজে থেকেই শৌচাগার ব্যবহার করছেন।’

গুড়গুড়িপালের তপন তুঙ্গ বলছিলেন, ‘জঙ্গলে বাঘ ঘুরছে। তারপরে কোন সাহসে কেউ খোলা জায়গায় যাবে!’` বাঘের পায়ের ছাপ মিলেছিল মেদিনীপুর সদর ব্লকের মুচিবেড়ায়। সেখানকার উপপ্রধান অঞ্জন বেরার জানান, ‘জঙ্গলে বাঘ আসার পরে অনেকেই শৌচাগার ব্যবহার শুরু করেছেন।’

বাঘের আবির্ভাবে রাতারাতি ছবিটা পাল্টে গেছে। মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা বলছিলেন, ‘`যতদিন না বাঘ ধরা পড়ছে, ততদিন গ্রামবাসীকে জঙ্গলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। গ্রামবাসী সহযোগিতাও করছেন।’  সূত্র: আনন্দবাজার

অমৃতবাজার/জয়