ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি ও প্রতিকার


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৫ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার
করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি ও প্রতিকার

বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ‘উহান’ করোনা ভাইরাস। প্রথমবারের মতো এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয় চীনের হুবেই প্রদেশের উপকূলীয় উহান শহরে। শ্বাসযন্ত্রে আঘাত হানা রহস্যময় এ ভাইরাস বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এবার জেনে নিন উহান ভাইরাসের উৎপত্তি, প্রতিকার ও ভবিষ্যত নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাসের অন্তর্গত শ্বাসযন্ত্রের সিভিয়ার একিউট রেসপাইরেটোরি সিন্ড্রোম বা সার্স সর্বপ্রথম দেখা যায় ২০০২ সালে, তাও চীনে যাতে ৭৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া শাসযন্ত্রের আরেকটি ভাইরাস মিডল ইস্টার্ন রেসপাইরেটোরি সিন্ড্রোম মার্সও করোনাভাইরাসের অন্তর্গত। তবে ‘উহান’ করোনা ভাইরাস গোত্রের সম্পূর্ণ নতুন ও রহস্যময় একটি ভাইরাস যা সর্বপ্রথম গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ ও পশুর মাংসের বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত পশু থেকে বিশেষ করে বাদুড়, শুকর ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকেই করোনা ভাইরাস মানবদেহে ছড়িয়ে থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের নতুন এ ভাইরাসটি বাদুড় কিংবা সাপ থেকে আন্তর্বর্তী প্রাণির মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উহানের মূল উপসর্গ শাসযন্ত্রে প্রদাহ। এখন পর্যন্ত যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশই কাশির পাশাপাশি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন বলে জানা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শরীরের যে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অকেজো হয়ে পড়ে। ভাইরাসঘটিত নিউমোনিয়া হওয়ায় কোনো লাভ নেই এন্টিবায়োটিক সেবনে। করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সুস্থতা নির্ভর করে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে যারা মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশই যথেষ্ট সুস্থ সবল ছিলেন না বলে জানা গেছে।

উহান থেকে শুরু করে চীন তো বটেই গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। হাঁচি কাশির মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে এই ভাইরাস সহসাই ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে চীনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চীনের নতুন বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেউ যদি সম্প্রতি চীন ভ্রমণ না কোরে থাকে সেক্ষেত্রে শুধু কাশির জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হবার খুব বেশি প্রয়োজন নেই। শুধু জ্বর, বুক ব্যথা ও খুব বেশি অসুস্থ্যবোধ করলেই কেবল ডাক্তার দেখানো উচিত।

অমৃতবাজার/আরইউ