ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বয়স হবার পরেও কথা বলছে না আপনার সন্তান?


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ০৩ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার
বয়স হবার পরেও কথা বলছে না আপনার সন্তান?

শিশুর আধো আধো বোল শুনতে কার না ভালো লাগে? একটা বয়সের পরে সন্তানের ভাঙা ভাঙা হাজারো কথায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে পরিবারের সকলে। সাধারণত শিশুরা ছয় থেকে আট মাস বয়সের পর থেকেই ছোট ছোট শব্দ বলা শিখতে শুরু করে। বারো থেকে আঠারো মাসের মধ্যেই শিশুরা সাধারণত কথা বলা শিখে যায়। উচ্চারণ পরিষ্কার হতে শুরু করে তিন বছর বয়সের পর থেকে। কিন্তু অনেক শিশুই কথা বলার বয়স হলেও কথা বলে না।

শিশুর কথা না শেখা বা দেরিতে কথা বলার পেছনে থাকতে পারে বেশ কিছু কারণ। যেমন -

শিশু বংশগত কারণে দেরিতে কথা বলা শুরু করতে পারে।

মস্তিষ্কের জন্মগত ত্রুটি।

প্রসবকালীন জটিলতা।

প্রসবোত্তর স্বল্পকালীন অসুখ যেমন - ভীষণ জ্বর, খিঁচুনি, জীবাণু সংক্রমণ, মস্তিকের ভেতর জীবাণু সংক্রমণ ইত্যাদি শিশুর কথা বলার বাধা হতে পারে।

জিহ্বার ত্রুটির কারণে অনেক শিশু ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না।

শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। অনেক সময় দেখা যায় বড়রা শিশুদের সাথে ঠিকমতো কথা না বললে শিশুরা ভুল উচ্চারণ শিখে থাকে।

শিশুর মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে অর্থাৎ বুদ্ধির মাত্রা কম হলেও শিশু দেরিতে ভাষা শেখে।

শিশুর সামনে ঝগড়া বা উচ্চারণ বেশি মাত্রায় করলে তাদের কথা জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।

করণীয়:
শিশুর কথা বলার বয়স হওয়া সত্ত্বেও মুখে বুলি না ফুটলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত। আবার কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা না থাকলেও অনেক শিশু দেরিতে কথা বলা শুরু করে বা বলেই না। সেক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে শিশু কথা বলাকে ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। যেমন -

শিশুর সাথে কথা বলুন:
পরিবারের সদস্যরা শিশুর সাথে শুদ্ধ উচ্চারণে প্রচুর কথা বলুন। শিশুকে এমন প্রশ্ন করুন যার উত্তর সে ছোট ছোট শব্দ বা বাক্য অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে দিতে পারে। অনেকেই শিশুকে টিভি দেখতে বসিয়ে দেন। তা না করে তাকে গল্পের বই পড়ে শোনান।

গান বা ছড়া শোনান:
শিশুকে ছড়া বা গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ান। গানের অর্থ না বুঝলেও গান ছুঁয়ে যায় শিশুর কোমল হৃদয়ও। শিশুকে গান শোনান বা ছন্দোবদ্ধ ছড়া-কবিতা শোনান। নিজে না পারলে মিউজিক সিস্টেমের সাহায্য নিন। আপাতদৃষ্টিতে এটা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম মনে হলেও শিশুর কথা পরিষ্কারভাবে বলতে সাহায্য করবে।

শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশ অনুকূল রাখুন:
শিশুকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে দিন। শিশুর সামনে তর্ক বা ঝগড়া করবেন না। কোনো ব্যাপার দ্বিমত হলে তা শিশুর সামনে প্রকাশ করবেন না।

উচ্চারণ শুধরে দিন:
শিশুর ভুল উচ্চারণে ভাঙা ভাঙা কথা শুনতে ভালো লাগলেও তাতে উত্‍সাহ দেবেন না। শিশুর ভুল উচ্চারণ শুনে খুশি না হয়ে বরং তা তত্‍ক্ষণাত্‍ শুধরে দিন।

বাচ্চাকে সময় দিন:
শিশুর মা-বাবা যতটা সম্ভব শিশুর সাথে সুন্দর সময় কাটান। বাচ্চা যেন হীনমন্যতায় না ভোগে বা নিজেকে অসহায় না ভাবে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

অমৃতবাজার/মিঠু