ঢাকা, রোববার, ২৮ মে ২০১৭ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

চাকরি ছাড়ার সময় হয়েছে, বুঝে নিন লক্ষণ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৬ পিএম, ১৭ মে ২০১৭, বুধবার
চাকরি ছাড়ার সময় হয়েছে, বুঝে নিন লক্ষণ

যে চাকরিটা করছেন তার ওপর আগ্রহ হারানোর বহু কারণ থাকতে পারে। ক্যারিয়ারে নতুন স্বাদ, বেতন বৃদ্ধি বা প্রমোশন কিংবা স্রেফ যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে আসার জন্যেও চাকরিটার প্রতি বিতৃষ্ণা আসে। চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত না থাকলেন এমন পরিস্থিতির উদয় হতে পারে যা চিন্তাটাকে উস্কে দেয়। যখন চাকরির সঙ্গে আর খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না, তখন আপনার গুটিকয়েক আচরণে তা প্রকাশ পায়। `জার্নাল অব ম্যানেজমেন্ট`-এ প্রকাশতি এক গবেষণাপত্রে এমনটাই বলা হয়েছে। এখানে জেনে নিন কর্মী হিসাবে আপনার সেই আচরণ ও মানসিক অবস্থার কথা। এগুলো নিজের মধ্যে দেখা দিলে বুঝতে হবে, চাকরিটা বোধকরি ছেড়ে দেয়ার সময় হয়েছে।

১. উৎপাদনশীলতার হ্রাস
এটাই প্রথম লক্ষণ। কাজে আপনার উৎপাদশীলতা কমে আসবে। নিজের অজান্তেই পেশাদার কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। দায়িত্ব পালনে উৎসাহ থাকবে না। এত কাজের গতির অধঃপতন একান্ত স্বাভাবিক ঘটনা।

২. আর দলের কেউ নন আপনি
বিভাগের অন্যতম করিৎকর্মা ছিলেন। উদ্দীপনার ঘাটতি ছিল না। দলের সবাই আপনাকে ছাড়া কোনো কাজেই হয়তো এগোতে পারতেন না। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি এমন হয়েছে, যেন আপনি দলের কেউ নন। দলবদ্ধ কাজে আর ভালোলাগা বোধ কাজ করে না। হঠাৎ এই দলছুট হওয়ার লক্ষণ আপনার বিচ্ছিন্ন হওয়ার বার্তা বহন করে।

৩. ন্যূনতম তৎপরতা
অফিসের দায়িত্ব পালনে আপনি আর আগের মতো সক্রিয় নন। যতটুকু না করলেই নয়, ততটুকুই দিচ্ছেন। এতে এমনকি চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কিন্তু সে ভয় আপনাকে মোটেও কাবু করতে পারে না। অর্থাৎ, চাকরি গেলেও কিছু যায় আসে না আপনার। বুঝতে হবে, চাকরিটা আর করতে চাইছেন না।

৪. বসের সুনজরে থাকার চেষ্টা নেই
সব কর্মী বসের সুদৃষ্টি পেতে চান। এর জন্য কত কিছুই না করেন সবাই। কিন্তু আপনার সে ইচ্ছায় ভাটা পড়েছে। বিভাগীয় প্রধান আপনার সম্পর্কে যাই ভাবুন না কেন, এ নিয়ে কোনো টেনশন কাজ করে না। মনে হয়, আপনি আর তার অধীনে কাজ করতে চাইছেন না।

৫. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দোদুল্যমান অবস্থা
চাকরি করতে গেলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা নিয়েই এগিয়ে যান। প্রথম অবস্থায় আপনারও তাই ছিল। কিন্তু এখন সেই চিন্তায় সেঁটে নেই আপনি। অফিসের মিটিং বা কাজের ডেডলাইন নিয়ে কোনো পেরেশানি আর কাজ করে না। ব্যর্থতা নিয়েও আক্ষেপ নেই।

৬. বাজে আচরণ
অফিসের সবচেয়ে বন্ধুসুলভ কর্মী হিসাবে পরিচিতি পেলেও এখন বদলে গেছেন আপনি। যার তার সঙ্গে হঠাৎ করেই বাজে আচরণ প্রকাশ পায়। মেজাজ বিগড়ে যায় যখন তখন। আর এ নিয়ে কোনো অনুশোচনাও আসে না মনে। এটা চাকরিতে অনীহা আসার বড় লক্ষণ বটে।

৭. আলস্য ভর করে
টেবিলে বসলেই দুনিয়ার যত আলস্য ভর করে আপনার ওপর। কোনভাবেই মন বসে না। অর্থাৎ, এই চাকরিটা একবারেই সহ্য করতে পারছেন না। অথচ আপনি মোটেও অলস নন।

৮. অন্য কাজে মন বেশি
যদি দেখেন অফিসে এসে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপেই বেশি সময় কাটছে, তাহলে ভাববার বিষয়। পেশার বাইরের কাজে খেয়াল দিতে মন চাইছে। ঠিক তাই করছেন আপনি। অফিসের কাজ আর ভালো লাগে না। কাজেই তা ছেড়ে দেয়ার সময় হয়েছে। সূত্র : চিট শিট অবলম্বনে

অমৃতবাজার/সাইফ

Loading...