ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শীতকালীন রোগ ও প্রতিকার


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২০, রোববার | আপডেট: ০৪:২৯ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২০, রোববার
শীতকালীন রোগ ও প্রতিকার ছবি- প্রতিকী

শীতকালে ঠাণ্ডা তাপমাত্রা ও যে সব সংক্রমণ আপনাকে অসুস্থ করে তোলে সে সম্পর্কে জানা থাকলে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতে পারে সেসমস্ত রোগ থেকে । চলুন আমরা খুঁজে বের করি সে সমস্ত ঠাণ্ডাজনিত রোগগুলো এবং জেনে নেই তার প্রতিকার।

সাইনোসাইটিস-
মাথাব্যথা এ রোগের অন্যতম কারণ। সাইনাসের ধরণ অনুযায়ী মুখ ও মুখমণ্ডলের বিভিন্ন স্থানে এ ব্যথা হতে পারে। কপালে, মাথার পিছন দিকে ব্যথা থাকতে পারে। জ্বরের সাথে কখনো আবার নাকের গোড়া, চোখের নীচে ফুলে যেতে পারে, ব্যথা হতে পারে শরীরেও। নাকের ভিতরে হাড় বাকা বা মাংস ফুলে গেলে সাইনোসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সাইনোসাইটিস হলে চোখ ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে। চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মেনিনজাইটিস এমনকি ব্রেইন এবসেসের মত মারাত্নক রোগ সাইনাস ইনফেকশনের কারণে হতে পারে।
ঠাণ্ডা ও অ্যালার্জির কারণে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। তাই আপনার উচিত এগুলো থেকে দূরে থাকা। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে আজ থেকেই ছাড়তে চেষ্টা করুন। দূষিত পরিবেশে এ রোগের অন্যতম কারণ। আপনার পরিবার নিয়ে যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করুন। ঘুমানোর সময় মাথা উচু করে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

সর্দি-
বিভিন্ন ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণে এরোগ হয়। প্রায় ২০০ প্রকার ভাইরাসের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘রাইনো ভাইরাস’ এ জন্য দায়ী। অন্যান্য ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে কোরোনা ভাইরাস, রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রভৃতি।
লক্ষণ হিসাবে শরীর ম্যাজ ম্যাজ করবে, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি ঝরা, গলাব্যাথা, ঘন ঘন কাশি, হালকা জ্বর জ্বর থাকতে পারে। এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা, খাবারে অরুচি, মাংশপেশীতে ব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সাধারণত সর্দি ৭ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে ক্ষেত্র বিশেষ তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় থাকতে পারে।
কিছু সর্তকতা অবলম্বন করলে সর্দির মত বিরক্তিকর রোগ থেকে আমরা সহজেই রক্ষা পেতে পারি।
১। সর্দিতে অক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি- কাশি থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকুন। কেননা হাঁচি-কাশির সময় এ রোগের জীবাণু বাইরে বের হয়ে আসে এবং খুব সহজে তা চোখ বা নাকের ভিতর দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
২। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, কমপক্ষে দৈনিক ৮ গ্লাস। পানি দেহ থেকে জীবাণু নির্গমনে সাহায্য করে।
৩। আঙ্গুল দিয়ে ঘন ঘন নাক, চোখ চুলকাবেন না।
৪। হাত সবসময় পরিষ্কার রাখুন। হাঁচি-কাশির জীবাণু হাতে লেগে স্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
৫। সর্তকতার জন্য মাস্ক ব্যবহার করে যেতে পারে।
৬। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।
সাধারণত সপ্তাহখানেকের মধ্যে এ রোগ থেকে মুক্তি মিলে। কিন্তু তার থেকে বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ইনফ্লুয়েঞ্জা-
ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণত ‘ফ্লু’ হিসাবে পরিচিত। ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি ভাইরাস জনিত রোগ। শীতকাল আসলেই এ রোগ বেশি হতে দেখা যায়।
সর্দিকাশি, জ্বর ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাথমিক কারণ হতে পারে। মাথাব্যাথার সাথে জ্বর বাড়তে পারে এ রোগে। থাকতে পারে গলা ব্যাথা ও পেশি ব্যাথা। এমন লক্ষণ ৩-৫ দিনের বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অনেকে এটাকে গুরুত্ব দেয় না ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ধীরে ধীরে নিউমোনিয়ায় রূপান্তর হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে শীতকালে একটু বেশি সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।
ইনফ্লুয়েঞ্জার হাত থেকে বাঁচতে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা যেতে পারে। ধূলাবালি থেকে দূরা থাকার চেষ্টা করা, হাচিঁ কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করা। খাবারের পূর্বে অবশ্যই ভালোভাবে হাত ধোঁয়া। ঠাণ্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
আক্রান্ত ব্যাক্তিকে বেশি বেশি তরল জাতীয় খাবার খেতে দিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।

নিউমোনিয়া-
নিউমোনিয়া সংক্রমনে ফুসফুসের প্রদাহ ঘটে। নিউমোনিয়া একটি সংক্রামক রোগ। শীতকালে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে এ রোগের প্রকোপ বাড়ে। হৃদরোগ, ক্যানসার, হাঁপানির মত দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও বাচ্চাদের নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নিউমোনিয়ায় অক্রান্ত ৫ বছরের কম বয়সী শিশু শতকরা ২২জন মারা যায়।
জ্বর ও কাশি এরোগের প্রধান লক্ষণ। রোগীর শরীর বেশ দূর্বল হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ করে বয়ষ্করা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। লক্ষণ হিসাবে এরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট হতে পারে। হতে পারে ডায়রিয়া। আক্রান্তের কোন একপর্যায়ে বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিষেধকমূলক ভ্যাকসিন নিতে হবে। যথাসম্ভব ঠাণ্ডা থেকে দূরে থাকা। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় রুমাল বা মাস্ক ব্যবহার করা কেননা এরোগের জীবাণু আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশি মাধ্যমে ছড়ায়। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। খাবারের পূর্বে অবশ্যই হাত পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

অমৃতবাজার/এমআর