ঢাকা, রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্রমাগত কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক


অমৃতবাজার রিপোর্ট 

প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
ক্রমাগত কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিকি ছবি

 

অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে উপকারী অ্যান্টিবায়োটিক আর আগের মতো কাজ করছে না। এই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন ২১ থেকে ৩০ বছরের নারী-পুরুষরা। এদের ব্যবহারের হার ২২ শতাংশ। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৭ শতাংশ নারী।

এর পরই আছেন ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা। তাদের হার ১৬ শতাংশ। এই তথ্য প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

রোববার (২৪ নভেম্বর) আইইডিসিআর মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, আইসিইউতে ব্যবহার করা হয় এমন ওষুধের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধ প্রতিরোধী সবচেয়ে বেশি। এর পরই রয়েছে বার্ন, সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগ।

২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের নয়টি হাসপাতালের ১৪ হাজার ৬৬৯ রোগীর ওপর এই গবেষণা করা হয়। তাদের মধ্যে হাসপাতালের ইনডোরে ৫২ শতাংশ, আউটডোরে ৪৭ শতাংশ এবং বাসাবাড়িতে ১ শতাংশ রোগীর রক্ত, প্রস্রাব, পায়খানা, মুখের লালা ও নাকের সর্দি নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়। এতে কলেরা, প্রস্রাব ইনফেকশন, হাসপাতাল ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, সেফটিসেমিয়া- এই পাঁচটি রোগ ও ১০টি ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে গবেষণা কাজ চালানো হয়।

আইইডিসিআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন হাবিবের উত্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি স্যাম্পল নেওয়া হয় প্রস্রাবের, ৪৬ শতাংশ। আবার রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্যাম্পল নেওয়া হয় মেডিসিন বিভাগের, ৬৬ শতাংশ। প্রস্রাবের নমুনায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। পায়খানার নমুনায় ৪৭ শতাংশ ভিডিওকলেরি এবং রক্তের ৫৮ শতাংশ ক্ষেত্রে সালমোনিয়া ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাত হাজার ৪৮৬ অ্যান্টিবায়োটিক আইটেমের মধ্যে রিজার্ভ ড্রাগস আছে ২১২টি। এই হিসাবে রিজার্ভ ড্রাগসের পরিমাণ ৩ শতাংশ। তবে চারটি রিজার্ভ ড্রাগস সেফিপিম, লাইনোজলিড, টাইগেসাইলিন ও কোলিস্টিন বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা হয়। আইসিইউতে সবচেয়ে বেশি ৪১ শতাংশ সেফিপিম ব্যবহার করা হয়। এর পরই বার্নে ৩২ শতাংশ এবং মেডিসিন বিভাগে ২৪ শতাংশ ব্যবহার করা হয়।

লাইনোজলিড সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সার্জারি বিভাগে। এর পরিমাণ ৪৬ শতাংশ। এর পরই মেডিসিনে ২৮ শতাংশ, আইসিইউতে ২২ শতাংশ এবং বার্নে ৪ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। টাইগেসাইলিন সবচেয়ে বেশি (৯৫ শতাংশ) আইসিইউতে বার্নে ৩ শতাংশ এবং মেডিসিনে ২ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। কোলিস্টিন বেশি বার্নে ৭৬ শতাংশ এবং আইসিইউতে ২৪ শতাংশ ব্যবহার করা হয়।

এই চারটি ওষুধ ব্যবহারকারী রোগীরাই বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধ প্রতিরোধী। এসব রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক তেমনভাবে কাজ করছে না। তাই সবারই উচিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা।

অমৃতবাজার/এএস