ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জন্মনিয়ন্ত্রক পিল স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৮ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
জন্মনিয়ন্ত্রক পিল স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

বার্থ কন্ট্রোল পিল বা জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবনের ফলে নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় বলে এক গবেষণায় জানা যায়। মার্কিন গবেষক দল ১,১০০ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, যারা অতীতে বা বর্তমানে বার্থ কন্ট্রোল পিল নিয়েছিলেন বা সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি নারীর মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বার্থ কন্ট্রোল পিল বন্ধ করার পর ১০ বছর পর্যন্ত স্তন ক্যান্সারের কোনো লক্ষণই পরিলক্ষিত হয় না বা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তবে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কম পরিমাণে সেবন করলে এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকে বলে গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছেন তারা।

আমেরিকার ফ্রেড হোচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের গবেষকরা আরো জানতে পেরেছেন, স্তন ক্যান্সার সাধারণত খুব কম লোকের হয়ে থাকে, তবে যেহেতু নারীরা বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবন করে থাকেন, বিশেষ করে যে নারীরা বার্থ কন্ট্রোল পিল বেশি ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। সে জন্য জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবনের মাত্রা ও বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণের ফর্মুলেশন নিয়ে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।

বার্থ কন্ট্রোলের পিল নেওয়ার আগে পেশেন্টদের চিকিত্সকের সঙ্গে বার্থ কন্ট্রোলের বিভিন্ন দিক ও অন্যান্য বিকল্প উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

জানা যায়, গত ৩০ বছরে ইস্ট্রোজেনের কম্বাইন্ড পিল-এর মাত্রা আরো কমানো হয়েছে। তারপরেও গবেষকরা বলছেন, তারা এখনো জানেন না এর মাত্রা কত কম হলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় বা সম্ভাবনা একই থাকে কিনা! তাদের মতে, এ বিষয়ে আরো বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

চিকিত্সকদের মতে, সাধারণত ৪০ বছরের নিচের মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তেমন থাকে না। তা তিনি পিল সেবন করেন বা না করেন। অথচ, নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ইস্ট্রোজেন বার্থ কন্ট্রোল কম্বাইন্ড পিল সেবনের ফলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।

২১,৯৫২ জন রোগী, যারা বিধিনিষেধ মেনে চলেন, তাদের মধ্যে ১,১০২ জনের উপর টানা ১০ বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে মার্কিন গবেষকরা এই তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

অমৃতবাজার/মিঠু