ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গরমে ঘামাচি থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায়


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ২১ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
গরমে ঘামাচি থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায়

চলছে গরমে আবহাওয়া। এ আবহাওয়া আমাদের শরীরে বিভিন্ন উপসম দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে ঘামাচি হচ্ছে অন্যতম। তবে কিছু পদক্ষেপ নিলে ঘামাচি কমনো সম্ভাব। আসুন জেনেনি কী উপায়ে ঘামাছি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ঠাণ্ডা চিকিৎসা:
ঘামাচি আক্রান্ত এলাকায় ঠাণ্ডা শীতল পরশ খুব কাজে আসে উদ্দিপ্ততা এবং চুলকানি দূর করতে। কিছু বরফ টুকরা নিয়ে ঘামাচি আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে পারেন। দৈনিক ৪-৬ ঘন্টা পরপর এটি করতে পারেন। এইভাবে ২ থেকে ৩ দিন করুন। ঘামাচি সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং পুনরায় দেহে ছড়াবে না।

অন্যভাবে আপনি একটি পরিষ্কার কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে পারেন, এইভাবে দিনে ৩-৪ বার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত।

তাছাড়া আপনি ঠাণ্ডা পানির গোসল নিতে পারেন ঘামাচির তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।

নিম পাতা:
নিমপাতার মধ্যে উদ্দিপ্ততা বিরোধী এবং অ্যান্টিসেপটিকে বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ঘামাচি জনিত চুলকানি এবং জ্বালা থেকে সুরক্ষা করে। ফ্রশ নিম পাতা গুড়ো করে পেস্ট তৈরি করুন এবং আক্রান্ত এলাকায় লাগিয়ে দিনে এবং যতক্ষন পর্যন্ত্য নিজে নিজেই না শুকাচ্ছে অপেক্ষা করুন। শুকনোর পর পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে একবার করে এক সপ্তাহ ব্যবহার করুন।

অন্যভাবে একমুঠো নিম পাতা ২ কাপ পরিমাণ পানিতে ২০ মিনিট সিদ্ধ করুন। এই বার সিদ্ধ করা পানিটি ঠাণ্ডা হতে দিন। পরিষ্কার একটি কাপড় নিয়ে ঐ পানিতে ভিজিয়ে নিন এবং আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে থাকুন। দিনে ৪ থেকে ৫ বার লাগান এক সপ্তাহ পর্যন্ত্য।

এলোভেরা:
এলোভেরার শীতল উদ্দিপ্তা বিরোধী এবং ঠাণ্ডা বৈশিষ্ট্যের ফলে এটি ঘামাচি দূর করার অন্যতম একটি ঘরোয়া সমাধানে পরিণত হয়েছে। ফ্রেশ এলোভেরার নির্যাস এলোভেরা পাতা থেকে বের করে নিন। আক্রান্ত এলাকায় লাগান। ২০ মিনিট পর্যন্ত্য রাখুন। এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন।
দিনে ২ বার ব্যাবহার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত।

চন্দন পাউডার:
চন্দনের মধ্যও শীতলতার বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি খুবই কার্যকরি ঘামাচি দূর করার ক্ষেত্রে। এটি আপনার দেহের তাপমাত্রাকে শীতল রাখবে যা আপনার দেহের ঘামাচিকে দ্রুত দূর করতে সাহায্য করবে। সমান পরিমাণে চন্দন পাউডার এবং গোলাপ জল নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি আক্রান্ত স্থানে লাগান এবং যতক্ষন পর্যন্ত না শুখায় ততক্ষন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকনের পরে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন। দিনে ২ বার করে এক সপ্তাহ ব্যাবহার করুন।

অন্যভাবে ২ টেবিলচামচ চন্দন গুড়া এবং ধনিয়ার গুড়া পরিমাণ মত গোলাপ জলে মিশিয়ে নিন এবং আক্রান্ত স্থানে লাগান। শুকনোর পর পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দৈনিক দুইবার করে এক সপ্তাহ ব্যাবহার করুন। তাছাড়াও আপনি গোসলের পরে চন্দন গুড়া দেহে লাগাতে পারেন।

কাঁচা আম:
কাঁচা আম সবচেয়ে ভালো একটি খাবার ফল যেটা শরীরকে খুব কার্যত ভাবে শীতল রাখবে এবং ঘামাচির জ্বালা এবং চুলকানি থেকে রক্ষা করবে। ২ টি কাঁচা আম দুই কাপ পরিমাণ গরম পানিতে সিদ্ধ করুন যতক্ষন না পর্যন্ত আম গুলো নরম হয়। এইবার সিদ্ধ হওয়া আম গুলো ঠাণ্ডা হওয়ার পর পানি থেকে তুলে নিন এবং আম গুলো কে চিপিয়ে রস বের করুন।

আমের রস ঠাণ্ডা খাবার পানিতে মিশান, সঙ্গে লবণ এবং চিনি আপনার স্বাদ অনুযায়ী মিশিয়ে নিন। দৈনিক ১ বা ২ বার পান করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত যা আপনার হিলিং প্রসেস বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

শসা:
শসার আছে শীতল ভাব যা আক্রান্ত স্থানকে ঠাণ্ডা এবং শীতল করে। এটি অবশ্যই চুলকানি দূর করতেও সাহায্য করে। শসাকে পাতলা করে কেটে নিন। কিছু সময় ধরে এক বাটি ঠাণ্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখুন এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস তাতে মিশিয়ে নিন। এইবার শসার টুকরো গুলোকে নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় ১০ পর্যন্ত রেখে দিন। দিনে ৩ বার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত।

এছাড়া শসার নরম অংশ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করতে পারেন। ৩০ মিনিট পর পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার আক্রান্ত স্থানকে ঠান্ডা রাখবে এবং চুলকানি কমাতে সাহায্য করবে। দিনে কয়েকবার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত যার ফলে আপনি দ্রুত আরোগ্য লাভা করবেন। প্রতিদিন শসা খাওয়ার চেষ্টা করুন যা আপনার দেহ কে ডিহাইড্রেট হতে রক্ষা করবে।

উপরের নির্দেশনাতেও যদি আপনার কাজ না হয় তাহলে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অমৃতবাজার/সবুজ