ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ক্ষতি নয়, ঘামের আছে অবিশ্বাস্য উপকারিতা!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ক্ষতি নয়, ঘামের আছে অবিশ্বাস্য উপকারিতা!

গরমে ও পরিশ্রমের কাজ করলে সাধারণত আমদের শরীর ঘামে। অনেকে ঘাম পছন্দ করেন না। তাদের ভাষ্য, ঘাম থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, শরীর হতে ঘাম ঝরা স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারি। বিশেষজ্ঞরা এমন কল্যাণ বা উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা জেনে নিয় ঘামের উপকারিতা সম্পর্কে।

ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করে: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে কয়েক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। এর ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ হয় বলেও গবেষণায় দেখা গেছে। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যেসব বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় সেগুলোর মধ্যে আছে আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সীসা ও পারদ। গবেষনায় দেখা গেছে, দূরপাল্লার দৌড়বিদদের সাধারণ মানুষের চেয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা অনেক কম। কারণ, তাদের শরীর থেকে সাধারণ মানুষের ২০ গুণ বেশি ঘাম ঝড়ে। অতএব শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝড়ান এবং পাশাপাশি প্রচুর তরল খাদ্য গ্রহণ করুন।

ঘাম ত্বক মসৃণ করে: ঘাম ত্বক মসৃণ করে। ঘামের মাধ্যমে আমাদের লোমকূপগুলি ময়লামুক্ত হয়। পর্যাপ্ত ঘাম আমাদের ত্বককে ব্রণ ও মেচেতা থেকেও রক্ষা করতে পারে। আসলে ত্বকের যে-কোনো সমস্যার সঙ্গে জড়িত আমাদের লোমকূপের অপরিচ্ছন্নতা। প্রচুর ঘামার পর শরীর মুছে দেখবেন আপনার নিজের কাছেই মনে হবে ত্বক আগের চেয়ে বেশি মসৃণ লাগবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে: ঘামের মাধ্যমে শরীর হতে অতিরিক্ত চর্বি বের হয়ে যেতে পারে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। পর্যাপ্ত ঘাম আপনার শরীরে ও রক্তনালীতে চর্বি জমতে দেয় না। এর ফলে আপনি মুক্ত থাকতে পারেন হাইপারটেনশন ও উচ্চ কলেস্টেরলসহ বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে।

রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়: শরীর হতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘাম ঝরলে আপনার রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়বে। ঘাম ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের শরীরচর্চা করার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সপ্তাহে ৫ দিন ধরে এই শরীরচর্চা করুন। ফল পাবেন হাতেনাতে।

হজমক্ষমতা বাড়াতে: গ্রীষ্মকালে সাধারণত অনেকেরই খাবারে রুচি থাকেনা। এমন ক্ষেত্রে শরীর হতে ঘাম ঝরান, দেখবেন খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। কারণ, তখন আপনার হজমক্ষমতাও বাড়বে। যাদের কৌষ্ঠকাঠিণ্য আছে, তারা শরীরচর্চার মাধ্যমে ঘাম ঝড়িয়ে উপকার পেতে পারেন।

ঘাম স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: শরীর হতে ঘাম ঝরলে দেহকোষগুলো তেজীয়ান হয়। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোও বলবান হয় এবং আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ে। গবেষণা হতে প্রমাণিত হয়েছে যে, শরীরচর্চার মাধ্যমে ঘাম ঝরলে মস্তিষ্কের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি যে কোনো বিষয়ে আমাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতেও সাহায্য করে।

রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে: শরীর থেকে নিয়মিত ঘাম ঝড়ালে আমাদের রক্তনালীগুলো প্রশস্ত হয় এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। এই প্রক্রিয়ায় রক্তচাপও স্থিতিশীল থাকে। সুতরাং, যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের উচিত খাদ্যগ্রহণে সাবধান হবার পাশাপাশি, নিয়মিত শরীর থেকে ঘাম ঝরান।

ব্যথা কমাতে: হালকা গা ঘামানোর ব্যায়াম করে ফেলুন হঠাৎ ঘাড়ে বা হাতে বেশ ব্যথা হলেই। ব্যায়াম মস্তিষ্কের বিশেষ অংশকে উত্তেজিত করে। এতে শরীরে এন্ডরফিন হরমোন বেড়ে যায়, যা স্বাভাবিক ভাবে ব্যথা উপশমে কার্যকরী, এমনটাই মনে করেন চিকিত্সকরা।

শরীরের পাথর সৃষ্টিতে বাঁধা: কিডনি, পিত্তথলি ইত্যাদি জায়গায় পাথর হবার কথা আমরা জানি। অনেকে এ সমস্যায় ভুগছেনও। এ পাথর সৃষ্টি হয় মূলত ম্যাগনেশিয়াম ফসফেটের কারণে। ঘামের মাধ্যমে এ ধরনের পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালশিয়ামও রক্ষা পায়। পর্যাপ্ত ঘাম শরীরে পানির চাহিদা বাড়ায়, আর পানি বা তরলজাতীয় খাবার পাথর প্রতিরোধে সহায়ক।

ঘাম জ্বর ছাড়ায়: `ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া` কথাটির সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। আসলে জ্বর কোনো রোগ নয়। জ্বর হচ্ছে রোগের উপসর্গ। যে সব রোগের উপসর্গ হিসেবে গায়ের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ঘাম সেসব রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। তাই অনেকে ঘাম`কে অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে তুলনা করেন। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর ঘাম খোদ ব্যাকটেরিয়াকেই শরীর থেকে বের করে দেয়।

ঘাম হওয়া যেমন ভালো, তেমনি অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই গরমে প্রচুর পানি পান করুন এবং টাটকা ফল খান। দিনে অন্তত দু’বার গোসল করুন গরমের সময়ে শরীরের ঘাম-ময়লা দূর করতে।

অমৃতবাজার/সবুজ