ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আনারসের ঔষধি গুনাগুণ!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৮ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার | আপডেট: ০৯:৩৩ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার
আনারসের ঔষধি গুনাগুণ!

সৌন্দর্যের জন্য আনারসকে ‘স্বর্ণকুমারী’ বলে অ্যাখায়িত করা হয়। পুষ্টিগুণে আনারস অতুলনীয়। ভিটামিন-এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে আনারসে। প্রতি ১০০ গ্রামে আনারসে পাওয়া যায় ৫০ কিলোক্যালরি শক্তি। ১০০ গ্রাম আনারসে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, ০.১২ গ্রাম সহজপাচ্য ফ্যাট, ০.৫ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১৩.১২ গ্রাম শর্করা, ০.১১ গ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৪ মি. গ্রাম ভিটামিন-২, ভিটামিন- সি ৪৭.৮ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.০২ গ্রাম, আঁশ ১.৪ গ্রাম এবং ১.২ মিলি গ্রাম লৌহ রয়েছে।

আরো আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ। আনারসে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এ কারণে সুস্থ থাকার জন্য আনারস নিয়মিত খাওয়া উচিত। এ লেখায় তুলে ধরা হলো আনারসের কিছু উপকারিতার কথা।

পুষ্টির উৎস: আনারসে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ ও বেটা ক্যারোটিন। এসব উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

আথ্রাইটিসের উপশম: এই ফল আথ্রাইটিসের ব্যথা উপশম করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি অস্থিসন্ধী ও মাংসপেশীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে রয়েছে ব্রোমেলেইন নামে একটি এনজাইম। এটি আথ্রাইটিসের ব্যথা উপশমে প্রধান ভূমিকা পালন করে। 

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা: আনারসের আছে ভিটামিন সি যা বহু রোগ প্রতিরোধে দেহকে প্রস্তুত করে। এছাড়া আরো কিছু ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে আনারস সার্বিকভাবে দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে: আনারসে আঁশ থাকে যেটাই ফ্যাট নেই বললেই চলে। ওজন কমানোর জন্য আনারস জুস হিসেবে বা সালাদ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। জুস হিসেবে খেলে যেন বাড়তি চিনি দেওয়া না হয় সেজন্য খেয়াল রাখতে হবে। 

মজবুত হাড় তৈরিতে: আনারসে আছে পযার্প্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় কিছু আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত বহু রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

দাঁত ও মাড়ির সুস্থতায়: এই ফলের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে কার্যকারি ভূমিকা পালন করে এটি। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে। 

সুস্থ চোখের জন্য: গবেষণায় দেখা যায়, আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। আনারসে আছে বেটা ক্যারোটিন। এটি নিয়মিত খেলে ভালো থাকে চোখ। 

হজমশক্তি বৃদ্ধিতে: আনারসে আছে ব্রোমেলিন, যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায়তা করে। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন আনারস খাওয়া যেতে পারে। 

সুস্থ রক্ত প্রবাহ: দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় আনারস। ফলে শিরা-ধমনির (রক্তবাহী নালি) দেয়ালে রক্ত জমে না এবং সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে।

অমৃতবাজার/সবুজ