ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দূর্বা ঘাসের ঔষাধি গুণাগুণ!



প্রকাশিত: ০২:৪৪ পিএম, ১৭ মার্চ ২০১৮, শনিবার
দূর্বা ঘাসের ঔষাধি গুণাগুণ!

গ্রাম বাংলায় অতি পরিচিত ঘাস হচ্ছে দূর্বা ঘাস রং টা সবুজ এটি স্বভাবিক ঘাস থেকে একটু সরু টাইপের হয়। এটি একটি ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। দূর্বা ঘাস দীর্ঘকাল প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে। এর পাতা সরু, লম্বা। মসৃণ ও সবুজ বর্ণের হয়। মাটির নিচে এর গুচ্ছ মূল থাকে। আজকে স্বাস্থ্যে দূর্বা ঘাসের ঔষাধি গুণাগুণ বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

দূর্বা ঘাসের পরিচিতি-
প্রচলিত নাম -দূর্বা ঘাস
আয়ুর্বেদিক নাম-দুব
ইংবেজী নাম- Bermuda grass, Dove grass.

১। আঘাতে কারণে রক্তক্ষরণে হলে বা কেটে গেলে দূর্বা ঘাস সামান্য পানি মিশিয়ে বটে কাটাস্থানে বেঁধে দিলে রক্তপাত বন্ধ হয়। কাটা স্থান জোড়া লাগে এবং শুকিয়ে যায়। তবে দূর্বার শিকড় ব্যবহার করলে বেশী উপকার পাওয়া যায়।

২। আমাশয় রোগের জন্য দূর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ এবং ডালিম পাতা কিংবা ডালিমের ছালের রস ৪-৫ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন ৩-৪ বার খেতে হবে। এভাবে ১০-১৫ দিন খেলে আমাশয় ভাল হয়ে যাবে।

৩। বমি বমি ভাব বন্ধের জন্য দূর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে ১ ঘন্টা পর পর খেলে, বমি ভাব দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।

৪। একটি পাত্রে এক লিটার নারিকেল তেল মৃদুতাপে জ্বাল দিয়ে ফেনা দুর করে নিতে হবে। তারপর দূর্বার ঘাসের টাটকা রস ২০০ মিলি সম্পূর্ণ তেলে মিশিয়ে পুনরায় জ্বাল দিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে তা সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিন গোসলের ১ ঘন্টা আগে ঐ তেল চুলে মাখতে হবে। নিয়মিত ২-৩ মাস প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৫। ঋতুস্রাব রোগের জন্য দূর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ প্রতিদিন মধু সহ ৩-৪ বার খেতে হবে। এভাবে ১০-১৫ দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

৬। আয়ুর্বেদীয় মতে রক্ত পিত্তে দূর্বা ঘাস মহৌষধ। এরোগে মুখ, নাক ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে রক্তস্রাব হতে পারে। সেক্ষেত্রে দূর্বা ঘাসের রসের সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে খাওয়ালে রোগের উপাকার হয়।

৭। শ্বেতপ্রদরজনিত দূর্বলতায় দূর্বা ঘাস ও কাঁচা হলুদের রস সমপরিমাণে মিশিয়ে খেলে রোগী দূর্বলতা কাটিয়ে ওঠে।

৮। দূর্বা ঘাস সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় ওষুধ। গর্ভধারণে অসমর্থ হলে দূর্বা ও আতপ চাল এক সঙ্গে বেটে বড়া করে ভাতের সঙ্গে সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৯। শরীরের রেচনতন্ত্রের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এই ঘাস। প্রস্রাবে কষ্ট হয় কিন্তু পাথুরী রোগ হয়নি এরকম ক্ষেত্রে দূর্বার রস দুধ ও পানি মিশিয়ে খেলে ভাল ফল দেয়। অর্শরোগ থাকলে এটা খাওয়া যাবেনা।

১০। দূর্বা ঘাস শুকিয়ে গুড়ো করে সেই গুড়ো দিয়ে দাঁত মাজলে পায়োরিয়া রোগ ভালো হয়।

অমৃতবাজার/সবুজ