ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করবে যে খাবার


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৭, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:৫৫ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৭, মঙ্গলবার
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করবে যে খাবার

আমাদের জানা ভালো, দিনে-রাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বেলার খাবার তা হলো প্রাতরাশ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তো বটেই। সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আমাদের সমাজে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ডায়াবেটিস নির্মূল সম্ভব নয় তবে একটু সচেতন থাকলেই রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সাধারণ কিছু খাবারের মাধ্যমেই রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যদি কেউ সকালবেলা উঠে দেখেন, রক্তের সুগারের মান উঁচুতে, যেমন—৩০০ মিলিগ্রাম, তবু প্রাতরাশ খেতে হবে। তবে এতে প্রোটিনের প্রাধান্য থাকবে। শর্করা সামান্য খেলে হয়, যেহেতু রক্তের শর্করা উঁচুতে। সে জন্য একে আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে পরের বেলার খাবারে যখন রক্তের সুগার নেমে আসবে, তখন আবার শর্করাকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঢোকাতে হবে খাবারে।

কী খেতে হবে?

প্রাতরাশে চাই সুষম খাবার। ভালো প্রাতরাশে থাকবে প্রোটিন, চর্বি ও জটিল শর্করা। এ সময় ফল খেতে হবে। আর ফলের জুসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়া ভালো। ফলের জুস খেলে রক্তের সুগার মানের যে ওঠানামা হয়, গোটা ফল খেলে তা হয় না। প্রাতরাশের জন্য অনেক ভালো বিকল্প আছে। যেমন :

১. ঔষধি ক্ষমতাসম্পন্ন এ গাছ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি তুলসি কিডনির কার্যক্ষমতা সচল রাখাসহ শরীরের অন্যান্য কাযক্রম ঠিক রাখে। এক গবেষণায় জানা গেছে, খালি পেটে তুলসির রস খেলে রক্তের শর্করার পরিমাণ ঠিক থাকে। তাতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে।

২. তিল একটি আঁশ সমৃদ্ধ খাবার। তিল রক্তে শর্করার পরিমাণ ও কোলেস্ট্রেরল কমিয়ে থাকে। এছাড়া হৃদযন্ত্রের জটিলতা, হার্টঅ্যাটাকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করে এ খাবার।

৩. একটি ডিমের শ্বেত অংশের ওমলেট, এক স্লাইস আটার রুটি, এক টুকরো ফল। একটি ডিমের স্যান্ডউইচ, আটার রুটি আর এক টুকরো ফল।

৪. ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর উৎকৃষ্ট একটি উৎস হলো দুধ। রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে দুধ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এছাড়া দুধ দিয়ে ঘরে তৈরি পনির ও দই ডায়াবেটিস প্রশমিত করে। দুধ সকালের নাস্তায় আর পনির স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়।

৫. প্রতি সপ্তাহে চারটি ডিমের বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। সে জন্য ডিমের শ্বেত অংশের স্যান্ডউইচ নিলে ভালো, অথবা একটি ডিমের সঙ্গে দুটো বা তিনটি ডিমের শ্বেত অংশের ক্রাম্বল করে খেতে পারেন।

৬. খেজুরে একটি আঁশ সমৃদ্ধ খাবার। গবেষণায় জানা গেছে, খেজুর ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। শুকনো খেজুর সংরক্ষণ করে অনেক দিন পর্যন্ত খাওয়া যায়।

৭. এক বাটি ওটমিল তৈরি করুন। শস্যখাদ্য বেশি হয়ে যায় সহজেই, তাই কতখানি নিলেন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৮. আঁশযুক্ত শস্য খেলে রক্তের সুগার থাকে সুনিয়ন্ত্রিত থাকে। বরবটিও উচ্চ আঁশ সম্পন্ন খাবার। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায় এছাড়া কোলেস্ট্রেরলেও পরিমাণ কম রাখে। বরবটিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়া এটি শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। বরবটি সালাদ কিংবা এর স্যুপ বানিয়ে খাওয়া যায়।

অমৃতবাজার/মাহফুজ

 

 

 

 

 

 

Loading...