ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাঙালি মেয়ে বিয়ে করল মার্কিন তরুণীকে!


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:৫২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
বাঙালি মেয়ে বিয়ে করল মার্কিন তরুণীকে! ইয়াশরিকা ও কুকলি একফ্রেমে। ছবি- সংগৃহীত।

৫ বছর আগে প্রথম দেখা। তারপর বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে প্রেম। শেষমেষ বিয়ে। প্রেম থেকে পরিণয়ের সরল একটা গল্প। কিন্তু সম্পর্কটা মোটেও তাদের সরল নয়। একটু অন্য ধরনের। বাঙালি মেয়ে যে বেশ ধুমধাম করে বিয়ে করেছেন তারই লিঙ্গের একজনকে।

নিউইয়র্ক টাইমসে তাদের বিয়ে নিয়ে একটি বিশেষ আর্টিকেলও প্রকাশিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই বিয়েতে আনুমানিক হাফ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল।

বাঙালি বংশোদ্ভূত ইয়াশরিকা জাহরা হক বিয়ে করেছেন মার্কিন তরুণী এলিকা রুথ কুকলিকে (৩১)। বাঙালি জাহরা আর মাকির্ন তরুণীর এই বিয়ে মার্কিন মুলুকে হলেও বিয়ের অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। ২০১৯ এর ৬ জুন তারা বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন।

ইয়াশরিকার বাবা ইয়ামিন হক, মা ইয়াসমিন হক। ইয়াশরিকা জাহরা হক ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। তারপর ইলিনয়েসের নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে একটি ল’ ফার্মে এসোসিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিয়ের সম্পূর্ণ আয়োজনটি ব্রুকলিনের ২৪০ কেন্ট এভিনিউতে হলেও আয়োজনটি ষোলো-আনাই ছিলো বাঙ্গালিয়ানায় ভরা। ঐতিহ্য অনুযায়ী ইয়াশরিকা হকের পরনে ছিল লাল টুকটুকে বেনারসি। দু’হাতের কনুই থেকে হাতের তালু পর্যন্ত মেহেদির আলপনা। আর এলিকা রুথের পরনে ছিল অফ হোয়াইট কালার শেরওয়ানি, লাল পাজামা। দু’হাতে মেহেদির নকশা। গলায় মুক্তার মালা। এলিকা পেশাগতভাবে একজন অডিওলজিস্ট।

২০১৫ সালে একটি এলজিবিটি মার্চে তাদের প্রথমবারের মত দেখা হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পরিণয়।
এদিকে নিজেদের প্রেমের কথা জানাতে গিয়ে ইয়াশরিকা বলেন, কুকলিকে প্রথম দেখার পর আমার যে কেমন লেগেছিল তা বলতে পারব না। তখন সে একা ছিল। আমিও তার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। পরেরবার দেখা হবার পর আমাদের কথা হয়।

কুকলি বলেন, ইয়াশরিকা খুবই মায়াবী আর যত্মশীল একটি মেয়ে। যা-ই হোক না কেন সে আমার পাশেই থাকবে।

নিজেদের সম্পর্কের গভীরতার ব্যাপারে ইয়াশরিকা বলেন, `এই বিয়ের মাধ্যমে আমার তো মনে হয় যে এতদিনে দুটো চুম্বক জোড়া লাগল। আমি খুবই খুশি।`

অমৃতবাজার/এসএইচএম