ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যে দেশে ইফতারির ৫৫ মিনিট পরই সাহরি!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৫ পিএম, ২০ মে ২০১৯, সোমবার
যে দেশে ইফতারির ৫৫ মিনিট পরই সাহরি!

পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই মুসলমানরা রোজা রাখছেন। নরওয়ে, আইসল্যান্ড হয়ে ফিজি সব দেশেই মুসলিমরা রমজানের বিভিন্ন ইবাদতে অংশ নিচ্ছেন।

পৃথিবীর উত্তরাঞ্চলের মুসলমানরা বিশেষত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর (১. আইসল্যান্ড ২. সুইডেন ৩. নরওয়ে ৪. ডেনমার্ক ৫. ফিনল্যান্ড) অধিবাসীরা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রোজা রাখেন।

গড়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা সময়জুড়ে তাদের রোজা রাখতে হয়। আবার আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডে বসবাসরত মুসলমানদের রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য গড় ২১ ঘণ্টা। ফিনল্যান্ডের উলু নামে একটি শহর আছে, যেখানকার বাসিন্দাদের ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়ানের নর্ডিক অঞ্চলের দেশ ফিনল্যান্ড। জীবনযাত্রার মান যথেষ্ট উন্নত হওয়ায় নানা দিক থেকে বিশ্বের মানুষের মাঝে বেশ আলোচিত একটি দেশ এটি।

শীতপ্রধান এই দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম। ৫০ লাখ নাগরিকের দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। এবারের রোজায় ২২ ঘণ্টারও অধিক সময় ধরে রোজা রাখতে হচ্ছে ফিনল্যান্ডের মুসলিমদের।

ফিনল্যান্ডের রোজার সবচেয়ে কম সময় হলো ২২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। রাজধানী হেলসিংকি সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে বসবাসরত রোজাদাররা এ দীর্ঘসময় রোজা রাখেন। দেশটির অন্যান্য এলাকায় রোজার সময় আরও বেশি।

ল্যাপল্যান্ড এলাকায় বসবাসরত মুসলমানরা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখেন। সেখানে রাত আসে মাত্র ৫৫ মিনিটের জন্য। ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের রোজা রাখতে হয়।

রাজধানী থেকে উত্তর দিকের শহরগুলোতে রোজার সময় আরও বেড়ে যায়। ফিনল্যান্ডের উত্তর দিকের বৃহত্তম শহর উলু। সেখানকার রোজাদারগণ ৭ মিনিট কম ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখেন। দেশের উত্তরের অন্যান্য শহরে ১ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইফতার ও সেহরি সম্পন্ন করতে হয় রোজাদারদের।

ইরাক, সোমালিয়া, তুরস্ক, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম নাগরিক বসবাস করেন ফিনল্যান্ডে। রমজানের সময়টুকু ভালোভাবেই অতিবাহিত করেন তারা। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় সময়ের দৈর্ঘ্যতা তাদের দৈনন্দিন জীবনে তেমন প্রভাব ফেলে না।

ফিনল্যান্ডে ইসলাম ধর্মের প্রবেশ হয় তাতারিযুগে। তবে ‘৯০-এর দশকের শুরুতে শরণার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

ফিনল্যান্ডে দীর্ঘসময় ধরে সব ধরনের ইসলামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। ১৯২৫ সালে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইসলামী অনুষ্ঠান করার অনুমতি পায় দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ডই সর্বপ্রথম কোনো ইসলামী অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করে।

সময়ের দৈর্ঘ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে ফিনল্যান্ডের অনেক মুসলিম পার্শ্ববর্তী দেশের সময় অনুযায়ী রোজা রাখতে শুরু করেছেন। ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় রোজার দৈর্ঘ্য হলে ফিনল্যান্ডের অধিকাংশ মুসলমান পার্শ্ববর্তী দেশের সময়ের সঙ্গে মিল করে রোজা রাখেন।

দেশটির সবচেয়ে উত্তরের শহর ল্যাপল্যান্ডে বসবাসরত মুসলমানরা সবচেয়ে কাছের মুসলিম দেশ তুরস্কের সময় অনুযায়ী তাদের রোজার সময় নির্ধারণ করেন।

সে দেশের ইসলামিক স্কলাররা গত বছর তাদের মক্কা অথবা নিকটতম মুসলিম দেশের রোজার সময় অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ বছর তাদের অনেকেই এ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সূত্র : আল মিসরি আল ইয়াউম

অমৃতবাজার/পিকে