ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নতুনরূপে সেজেছে পতেঙ্গা সৈকত


মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০২:৪৭ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার
নতুনরূপে সেজেছে পতেঙ্গা সৈকত

যান্ত্রিক এ নগরীর কর্মব্যস্ত মানুষগুলোর কাছে ছুটির দিন মানেই হলো জীবনকে নতুন কিছু উপহার দেওয়া। তাই তো কর্মক্ষেত্রের কারণে যন্ত্রের মাঝে ডুবে থাকা যান্ত্রিক মানুষগুলো ছুটির দিনগুলোতে হারিয়ে যেতে চান প্রকৃতির মাঝে। বড় বড় অট্টালিকা আর মিল-কারখানার কারণে নগরীতে প্রকৃতির দেখা না মিললেও রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। যার মধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি রয়েছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের।

তবে নানা অযত্ন আর অবহেলার কারণে দিন দিন দর্শনার্থী হারাতে বসেছিল পতেঙ্গা সৈকত। তবে সমুদ্রের বিশালতার সাথে দর্শনার্থীদের আলিঙ্গন করার ইচ্ছা ও আগ্রহকে হারিয়ে যেতে দেয়নি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পতেঙ্গা সৈকতকে দর্শনার্থীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে সৈকতের তীর। বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সৈকত জুড়ে করা হয়েছে শতকোটি টাকার উন্নয়ন। যেখানে পর্যটকদের হাঁটার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াক ওয়ে। তীর জুড়ে করা হয়েছে ফুলের বাগান। দর্শনার্থীদের জন্য বসানো হয়েছে ছোট-ছোট বিশ্রাম চেয়ার এবং নানা ধরনের রঙিন পাথর। চলছে শিশুদের জন্য রাইড নির্মাণের কাজ। সব মিলিয়ে আধুনিক ও নান্দনিকতার ছোঁয়ায় নতুন রূপে সেজেছে পতেঙ্গা সৈকত।

কথায় আছে, ‘একেতো নাচুনি বুড়ি-তার উপর আবার ঢোলের বাড়ি’। কথাটি দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে, নাচার জন্য পাগল ব্যক্তিদের সামনে ঢোল বাজালে তারা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না। ঠিক তেমনি সমুদ্রকে ভালোবাসে না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। সেখানে যান্ত্রিক শহরের বুকে সমুদ্র সৈকত যা কিনা আবার গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আদলে। তাইতো নতুন রূপে সাজা পতেঙ্গা সৈকতকে নতুনভাবে দেখতে ভিড় জমিয়েছে দর্শনার্থীরা।

শুক্রবার ছুটির দিনে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্রের বিশালতার মাঝে নিজেকে হারিয়ে দিতে সৈকতে ভিড় জমিয়েছে দর্শনার্থীরা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু মহল আর প্রিয় মানুষকে নিয়ে দর্শনার্থীরা চষে বেড়াচ্ছে নতুন রূপে সাজা পতেঙ্গার বুক জুড়ে। দর্শনার্থীদের মাঝে কেউ কেউ হাঁটছেন নতুন তৈরি হওয়া ওয়াক ওয়েতে, কেউবা বিশ্রাম নিচ্ছে বিশ্রাম চেয়ারে, কেউবা আবার বাগানে ফোঁটা ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে দেখছেন সমুদ্রের বিশালতা।

ওয়াক ওয়ে ধরে হাঁটতে থাকা মো. সোহাগ নামে এক পোষাক শ্রমিক বলেন, ‘ আমি কেইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করি। সপ্তাহের ৬ দিন কাটে আমাদের মেশিনের সাথে। আর মেশিনের সাথে থাকতে নিজেও মেশিন হয়ে যাচ্ছি। তাই একটু রিফ্রেশমেন্টের জন্য ছুটির দিনে এখানে চলে আসি। আগে প্রায় প্রতি সপ্তাহে আসতাম। তবে মাঝখানে সমুদ্র তীর জুড়ে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে আর আসিনি। তবে এখন সেই দোকানগুলো উচ্ছেদ করে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে এই সৈকতকে। এজন্য দেখতে আসলাম। আমি কখনো ভাবতেও পারিনি যে সৈকতকে এতো সুন্দর করে গড়ে তোলা যায়। ভাবছি এখন থেকে নিয়মিত এখানে এসে মনটাকে একটু হালকা করে যাবো।’

তুহিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাসা সৈকতের একেবারেই কাছে। তবে সমুদ্রের এতো কাছে থেকেও সমুদ্র তীরে আসতে ইচ্ছে হতো না। অযত্ন আর অবহেলায় পড়েছিল আমাদের এ সৈকত। তবে বর্তমানে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। যা দেখে সত্যিই মন ভরে গেলো। আমি অনুরোধ করবো পতেঙ্গা সৈকতের নতুন রূপ দেখতে কেউ যেন বিলম্ব না করেন।’

এছাড়া ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে ও তাদের নিরাপত্তায় সৈকত জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়ছে বলে জানান পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া। তিনি বলেন, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিনিয়ত এখানে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি টিমকে ডিউটি দেওয়া হয়। এছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ কমিউনিটি পুলিশ কাজ করে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের ভিড়ের কথা ও তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাদা পোশাকে ডিউটি ও ফোর্সের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

অমৃতবাজার/আরএইচ