ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

টাকা যখন সমস্যার কারণ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৫৪ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
টাকা যখন সমস্যার কারণ

দৈনন্দিন জীবনে টাকার গুরুত্ব অপরিসীম। আবার টাকা আমাদের জীবনে নানা ভাবে সমস্যারও সৃষ্টি করে। এমনকী বিভিন্ন সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বও নষ্ট হয় টাকার কারণে। তবে তা যাতে না হয় সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানীরা। যেমন-

১. জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন সাহায্যের জন্য অনেকে বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছে টাকা ধার করেন। কিন্তু কেউ কেউ ধার করা টাকা ঠিক সময় ফেরতে দেন না । তখন যার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন তার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। সাধারণত কাউকে টাকা ধার দেওয়ার সঙ্গে বিশ্বাস এবং সহানুভূতি জড়িত থাকে। কিন্তু সময় মতো টাকা ফেরত না পেলে টাকা ধার দেওয়া ব্যক্তি সম্পর্কের কারণে লজ্জায় টাকা ফেরত চাইতে পারেন না। তখন দুজনের সম্পর্কে একটা দুরত্ব তৈরি হয়। আবার কেউ কেউ আছেন যার কাছ থেকে ধার নিয়েছেন তাকে দেখলেই এড়িয়ে চলতে শুরু করেন, এতেও নষ্ট হয় সম্পর্ক।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে যদি সময় মতো পরিশোধ করতে না পারেন তাহলে আপনার সমস্যা সেই বন্ধু বা পরিচিতজনকে খুলে বলুন। আপনি যে টাকাটা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন সেটা তাকে বুঝিয়ে বলুন। তাকে এড়িয়ে যাবেন না।

২. অর্থ সম্পর্কের মধ্যেও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে যিনি উপার্জন করেন না তার মধ্যে সবসময় একটা নিরাপত্তাহীনতা,ভয় এবং উৎকন্ঠা কাজ করে। এটা তার আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মানবোধ আঘাত করে। এ ব্যাপারে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, টাকা উপার্জনই সংসারের একমাত্র দায়িত্ব নয়। যদি স্ত্রী উপার্জন না করেন তাহলে সন্তান লালন-পালন, গৃহস্থালী কাজকর্ম, সঙ্গীকে মানসিক সমর্থন দিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস বা আত্মমর্যাদা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, টাকা উপার্জনের চেয়ে এই কাজগুলো কোনো অংশে কম নয়।

৩. উপার্জন করে বলে অনেকসময় পুরুষরা আধিপত্য দেখাতে পছন্দ করেন। এটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যের দুরত্ব তৈরি করে।মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যদি আপনার সঙ্গী উপার্জন না করার কারণে মন খারাপ বা আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করেন তাহলে সংসারে তার অন্যান্য অবদানের জন্য প্রশংসা করুন।এতে সম্পকর্ আর দৃঢ় হবে।

৪. যদি কোনো সংসারে স্বামী উপার্জনক্ষম না হন তাহলে সমস্যা আরও প্রকট হয়। স্ত্রী বাইরে কাজ করলে তাকে নিয়ে সন্দেহ প্রবণতা তৈরি হয়। স্বামী হীনমন্যতায় ভোগেন। বন্ধু, আত্মীয়দের সঙ্গে তিনি মিশতে চান না।ধীরে ধীরে সংসারে বিশাল সমস্যা তৈরি হয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিস্থিতি উপার্জনকারী স্ত্রীই সামলাতে পারেন। স্বামীকে কাজ করতে উৎসাহ দিতে পারেন। প্রয়োজনে তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্য নিতে পারেন পরিস্থিতি সামলাতে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

অমৃতবাজার/শাওন