ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘২৩ হাজার পোস্টমর্টেম করার পর মানসিক সঙ্কটে’


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
‘২৩ হাজার পোস্টমর্টেম করার পর মানসিক সঙ্কটে’

আলোচিত কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডা. রিচার্ড শেফার্ড। টুইন টাওয়ারে বোমা হামলায় নিহতদের থেকে শুরু করে ২০০৫ এর লন্ডন হামলায় নিহত ব্যক্তিদেরও পোস্টমর্টেম হয়েছে তার হাতে।

১৯৯৩ সালে সাড়া জাগানো খুন স্টিফেন লরেন্স থেকে শুরু করে প্রিন্সেস ডায়ানা`র মৃতদেহ - ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনিই। তবে দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ ব্যবচ্ছেদ করার ফলে নানা ধরনের মানসিক জটিলতায় ভুগছেন ডা. রিচার্ড শেফার্ড।

এই ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট পেশা তার মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালোই প্রভাবিত করেছে। ‘মৃত্যুর সাথে আমি খুবই পরিচিত, গত ৩৫ বছর ধরেই মৃত্যুর সাথে আমার পরিচয় - কিন্তু এর মধ্যে এমন একটা সময় আসে যখন এটিকে দৈনন্দিন জীবন থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় না’। এক জায়গায় ২০০টি টুকরো টুকরো, ক্ষতবিক্ষত প্রাণহীন দেহ আপনার মনে একটি ছাপ রেখে যায়।

ডা. শেফার্ড জানান, তিনি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৩ হাজারেরও বেশী পোস্ট মর্টেম করেছেন। এর মধ্যে অনেক দেহই ছিল গত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মরদেহ। দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকার কারণে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগতে হয়েছে তাকে।

ড. শেফার্ড বলেন, ‘হাঙ্গারফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর মানসিক অস্থিরতার প্রথম ইঙ্গিতটা পাওয়া যায়’। ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের হাঙ্গারফোর্ড এলাকায় বন্দুকধারী মাইকেল রায়ান নিজেকে হত্যা করার আগে ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ড. শেফার্ডের প্রথম বড় কেস ছিল সেটি।

‘ঐ ঘটনাটি খুবই উদ্ভট ও অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি তৈরি করেছিল আমার ভেতরে। যা পরবর্তীতে ক্রমশ বিস্তার লাভ করে,’ বলেন ড. শেফার্ড। একসময় চোখ বন্ধ করতেও অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি। কারণ তার মনে হতো চোখ বন্ধ করলে রক্তাক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার চিন্তাকে গ্রাস করবে।

তিনি বলেন, ‘পরিপাকতন্ত্র, স্যাঁতস্যাঁতে যকৃত, স্পন্দনহীন হৃদয়, ছিন্ন হাত, দম আটকানো রক্তের গন্ধ প্রতিনিয়ত আমার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দিতো। মাঝেমধ্যে আমার মনে হতো এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মনে হয় মৃত্যুই ভালো।’

অমৃতবাজার/জয়