ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ট্র্যাফিক সিগন্যাল থেকে কী আবিষ্কৃত হয়েছিল জানেন?



প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার
ট্র্যাফিক সিগন্যাল থেকে কী আবিষ্কৃত হয়েছিল জানেন?

সাদামাটা ট্র্যাফিক সিগন্যাল। তার ইশারায় গাড়ি থামে, গাড়ি চলে। ট্র্যাফিক সিগন্যাল থেকে একটি যুগান্তকারী বস্তুর আবিষ্কার হয়েছিল। অবশ্য, একটি না-বলে দু’টি বলা ভাল।

তারা প্রায় যজম ভাই। একসঙ্গে থাকে, একসঙ্গেই তাদের কাজ এবং সবথেকে বড় কথা, পৃথিবীর বাঘা বাঘা লোকেরা এই দু’জনকে যমের মতো ভয় পান। যেমন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার, সুয়ারেজ- সকলে এই জুজুতে ত্রস্ত! এই দু’জনের জন্মের নেপথ্যেই রয়েছে ট্র্যাফিক সিগন্যাল।

এবারে বলে দেওয়া যাক। ট্র্যাফিক সিগন্যাল থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে ফুটবলের লাল এবং হলুড কার্ড! এবং সেই জন্মবৃত্তান্তও বেশ মজার।

১৯৬২ সালের চিলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলানোর দায়িত্বে ছিলেন রেফারি কেন অ্যাস্টন। ম্যাচটি ছিল চিলে এবং সুইৎজারল্যান্ডের মধ্যে। চিলে জিতেছিল ৩-১ গোলে। সেই ম্যাচে এত ভাল খেলান অ্যাস্টন যে, তাকে চিলে বনাম ইতালি ম্যাচেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়। খেলার আগে দু’দলের পারদ এমন চড়েছিল যে, সকলেই একবাক্যে বলতে শুরু করেছিলেন, এই ম্যাচ হতে চলেছে রেফারির অগ্নিপরীক্ষা। অ্যাস্টন অনেক পরে বলেছিলেন, ‘ওটা ফুটবল ম্যাচ ছিল না। ওটা ছিল জার্সি পরে ২২ জন মিলিটারির ল়ড়াই।’ ম্যাচে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশের সাহায্যে ম্যাচ শেষ করেন অ্যাস্টন। চিলে জিতেছিল ২-০ গোলে।

এরপরে ১৯৭০-১৯৭২ সালে ফিফার রেফারি কমিটিতে যোগ দেন অ্যাস্টন। কিন্তু আরও বড় বিতর্ক তার জন্য অপেক্ষা করছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় আর্জেন্তিনার। গোটা টুর্নামেন্টে রেফারিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাস্টন। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্তিনার অধিনায়ক রাতিনকে বহিষ্কারের পরে ম্যাচ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল। অ্যাস্টন কোনওক্রমে খেলা চালিয়ে যান।

কিন্তু আরো বড় বিতর্ক দেখা দিল চার্লটন ভাইদের (ববি এবং জ্যাক) নিয়ে। সংবাদপত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়, রেফারি দুই চার্লটন ভাইকেই বুক করেছিলেন। যদিও সে কথা রেফারি গোপন করে যান বলে দাবি করা হয়। এই বিতর্ক থেকেই অ্যাস্টনের মাথায় চিন্তা আসে, কীভাবে খেলোয়াড়দের এই বুকিং (অর্থাৎ, বহিষ্কার করে দেওয়া) প্রথায় স্বচ্ছতা আনা যায়।

অ্যাস্টন বলেছিলেন, ‘কেনসিংটন হাই স্ট্রিট দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ট্র্যাফিক সিগন্যালে লাল আলো দেখে দাঁড়িয়ে যাই। তখনই বিদ্যুতের মতো বিষয়টি মাথায় খেলে গেল। হলদে আলো মানে সতর্ক হও। লাল মানে থেমে যাও!’

যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। সোজা ফিফায় জমা দিলেন নিজের প্রস্তাব। দু’রঙের কার্ড দেওয়া হোক রেফারিকে। সর্বসম্মতিতে সেই প্রস্তাব পাশ হয়ে যায় ফিফায়। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথম আনা হয় লাল এবং হলুদ কার্ড। ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবার মারা যান অ্যাস্টন। কিন্তু বিশ্বফুটবলের দিকনির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ফুটবলে অন্যতম সেরা যুগান্তকারী আবিষ্কার এটিই।

অমৃতবাজার/সুজন