ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ৯টি উপায়


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ৯টি উপায়

আপনি লাজুক কিংবা বহির্মুখী- যাই হন না কেন, নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ আছে আপনার। নেতা হওয়ার বিষয়টি কোনো একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার মতো সহজ নয়। এর জন্য আপনাকে শিখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়। আর এসব বিষয়ে মনযোগ দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চেষ্টা করলে আপনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন একজন নেতা হিসেবে।

১. অন্যদের উৎসাহিত করুন:
নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অন্যদের উৎসাহিত করা। উৎসাহ একটি শক্তিশালী বিষয়, যা অন্যদের দিতে পারেন আপনি। এর মাধ্যমে আপনি কারো প্রতি আপনার বিশ্বাস ও আস্থা প্রকাশ করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারবেন। একজন উদ্যমি নেতা হিসেবে এ বিষয়টি আপনার জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

২. টিমের প্রতি অনুগত থাকুন:
মহান নেতারা কখনোই অনুসারীদের ত্যাগ করে না। যে টিমমেটরা নেতার প্রতি লক্ষ রাখে, নেতারও নজর থাকে তাদের প্রতি। মনে রাখতে হবে এটা নেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনুগত থাকা এমন একটি বিষয় যা কাউকে অনেক ওপরে নিয়ে যায়। আপনি যদি টিমের সদস্যদের বোঝাতে পারেন যে, তাদের প্রতি আপনি অনুগত তাহলে তারাও আপনার প্রতি অনুগত থাকবে। এতে তারা আপনার নেতৃত্ব উপভোগ করবে।

৩. সব সময় বিশ্বস্ত থাকুন:
আশপাশের মানুষের প্রতি আপনি যদি বিশ্বস্ত থাকেন তাহলে তারা আপনাকে সম্মান করবে, ভালোবাসবে এবং একজন নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। মানুষ আপনার কাছে জানতে চায় তাদের প্রতি আপনি বিশ্বস্ত কি না। সততা ও স্বচ্ছতা আপনার গুরুত্বের তালিকায় সর্বাগ্রে রয়েছে, এমনটা প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যরা যদি বুঝতে পারে যে, আপনি তাদের প্রতি বিশ্বত্ব তাহলে তারাও আপনার এ মনোভাবকে সম্মান করবে।

৪. পেশাদারি বজায় রাখুন:
টিমের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে খুবই কাছাকাছি চলে গেলে আপনার প্রতি তাদের মনে যে ইমেজ তৈরি হয়েছে তা নষ্ট হবে। ফলে পেশাদারি কাজের বদলে সম্পূর্ণ বিষয়টা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক হয়ে যাবে। এ কারণে সব সময় পেশাদারি বজায় রয়েছে কি না, তা লক্ষ করতে হবে। অভিজ্ঞতা শেয়ার করার প্রয়োজন আছে। কিন্তু এসব থেকে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সযত্নে দূরে রাখতে হবে।

৫. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখতে হবে:
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী বজায় রাখা নেতারা যথেষ্ট সমর্থন পায় এবং বহু দূর যেতে পারে। ইতিবাচক মনোভাবের মধ্যে রয়েছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও নিজেকে ভালোবাসা। আপনি যদি কোনো নেতৃস্থানীয় পদে থাকেন তাহলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে ভালোবাসা ও নিজের অর্জনগুলোতে আত্মতৃপ্তি লাভ করা কঠিন সময় পার করতে সাহায্য করে।

৬. লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি রাখুন:
আপনার সব কাজের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। সেই লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের বিভিন্ন শক্তি আপনাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করবে কিন্তু আপনি তা হতে দেবেন না। কারণ অন্য বিষয়গুলোর দিকে মনযোগ দিলে তা আপনার লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেবে।

৭. নেতিবাচকতা দূরে সরিয়ে দিন:
জীবনের নেতিবাচকতা আসবেই। কিন্তু বড় নেতা হতে হলে এসব নেতিবাচক বিষয়গুলো সরিয়ে দিতে হবে জীবন থেকে। এজন্য প্রয়োজন সাধনা। ভয়, দ্বীধা ইত্যাদি আপনাকে লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। নেতিবাচকতা আপনাকে বলবে, ‘আপনি যথেষ্ট ভালো নন’, ‘আপনি এ কাজের উপযুক্ত নন’ ইত্যাদি বিষয়। কিন্তু এসব বাদ দিয়ে ইতিবাচকতা আনতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে বলতে হবে, ‘আমি আমাকে ভালোবাসি এবং আমি সফল হব।’ এ ছাড়াও বলা যেতে পারে, ‘আমি খুবই শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী। আমি সবসময় বিজয়ী।’

৮. শিক্ষার অভ্যাস রাখতে হবে:
শিক্ষা এমন একটি বিষয় যা কখনোই শেষ হয় না। শিক্ষার্থীর এ মনোভাব সাফল্যের জন্য ধরে রাখতে হবে সব সময়। আপনার আশপাশে সব সময় নানা বিষয়ে জ্ঞানী মানুষ পাবেন। তাদের কাছ থেকে কোনোকিছু শিখে নিতে দ্বীধা করবেন না। আপনার প্রতি প্রসারিত তাদের হাতকে ফিরিয়ে দেবেন না। শিক্ষা গ্রহণকে না করে দিলে আপনি অহংকারী হিসেবে পরিচিত হবেন। ফলে নেতা হিসেবে আপনার অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।

৯. আত্মবিশ্বাসী হোন, আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করুন:
শুধু কথার জন্য কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কোনো কাজে লেগে থাকলে তা সত্যিই কার্যকর হয়। ঠিক একই ভাবে আত্মবিশ্বাসী মানুষকে সবাই পছন্দ করে। আত্মবিশ্বাস এমন এক ওষুধ, যা সব বিষয়কে একত্রিত করে। আর এ আত্মবিশ্বাসই এমন এক শক্তি, যা আপনাকে একজন নেতায় পরিণত করবে।

অমৃতবাজার/মিঠু