ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তা গোপন রাখার ৭টি কার্যকর কৌশল


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:৪৫ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তা গোপন রাখার ৭টি কার্যকর কৌশল

দাম্পত্য জীবনের কিছু গোপনীয়তা রয়েছে যা দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায় না। এ বিষয়গুলো মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তবুও নানা পরিস্থিতির কারণে অনেক বিষয় অনেক সময় জানান দিয়ে ওঠে। তা ছাড়া আশপাশে কিছু মানুষ আপনি সব সময়ই পাবেন যারা আপনাদের সংসার জীবন নিয়ে দারুণ মাথা ঘামান। তাদের কারণে অনেক সহজ সরল বিষয় বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এসব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপায় রয়েছে। দাম্পত্য জীবনের গোপন বিষয়কে যেকোনো পরিস্থিতিতে আদতে গোপন রাখার ৭টি কৌশল বাতলে দিচ্ছেন একজন বিশেষজ্ঞ। এগুলো রপ্ত করে নিন।

১. বিস্তারিত জানাবেন না
দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়টি হলো কোনো কিছু বিস্তারিত না বলা। কিন্তু অনেকে এই কৌশলটিকে গুরুত্ব দেয় না। নিজের ভিতরে গোপন তথ্য ধরে রাখা একটি গুণ। আর গোপন বিষয়কে তার নিজের মতোই রাখতে পারাটাও চর্চায় বিষয়।

২. অন্যের সামনে গোপন প্রসঙ্গ তুলবেন না
বিয়ের পর গোপনীয় বিষয় অন্যের সামনে উত্থাপন করতে নেই। এজন্য স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বোঝাপড়া থাকাটাও জরুরি। নিজেরা কথা বলে নেওয়া ভালো যে, আমরা একান্ত প্রসঙ্গ নিয়ে আমরাই কথা বলবো। যদিও পরিবারের অন্যরা বা কাছের বন্ধুর সঙ্গে অনেক কিছু ভাগাভাগি করা যায়। তবুও সব কিছু উন্মুক্ত করে দেওয়াটা ঠিক নয়।

৩. অন্যের সামনে ঝগড়া করবেন না
এ বিষয়েও আপনারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারেন। দাম্পত্য কলহ থাকবেই। কিন্তু কখনো কোনো অবস্থাতেই অন্যের সামনে বিবাদের প্রয়োজন নেই। কোনো বিষয়ে সবার সামনে দুজনের মতের মিল না হলে সাধারণ তর্ক চলতে পারে। কিন্তু সেখানে যাবতীয় বিতর্কের সম্ভাবনা থাকলে আপাতত চুপ থাকুন।

৪. ধৈর্য্যশীলতার সঙ্গে চাতুর্যপূর্ণ উত্তর দিন
আপনার আশপাশে সব সময় কিছু মানুষ থাকবেন যারা নানা বিষয়ে জানতে চাইবে এবং উপদেশ দেবে। বিশেষ করে গোপন বিষয়গুলো নিয়েই বেশি খোঁচাবে। এগুলো নিয়ে আপনার ভুল ধরবে এবং গা-জ্বালানো নানা মন্তব্য করবে। এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য্যের পরীক্ষার চেয়ে ভালো কোনো উপায় নেই। তাদের কথার বিপরীতে গোপনটিকে গোপন রেখেই কৌশলী উত্তর দিন। মাথা গরম করলেই গোপন ফাঁস হয়ে যাবে।

৫. আপনি জানেন কখন প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে হয়
গোপন বিষয়ের প্রসঙ্গে কথা উঠলে তা এড়িয়ে যেতে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাবেন। বেশ কাজের এই কৌশলটি। ঠিক কোন পর্যায়ে প্রসঙ্গটি পরিবর্তন করতে হবে তা নিশ্চয় আপনি ভালো বোঝেন। যদি ওই ব্যক্তি নাছোড়বান্দা হন, তাহলে স্পষ্ট বলে দিন এ প্রসঙ্গে আপনি কথা বলতে চান না।

৬. প্রশ্নের পর পাল্টা প্রশ্ন
এ পদ্ধতিটি বেশ কাজের। দাম্পত্য জীবন বা গোপন কোনো বিষয় নিয়ে জানতে কেউ প্রশ্ন করলে একই প্রশ্ন ঝটপট তার দিকে ছুঁড়ে দিন। এসব ক্ষেত্রে অপরজন সব সময়ই অপ্রস্তুত থাকে এবং তার কোনো জবাব থাকে না। অন্য পক্ষ তৎক্ষণাৎ বুঝে যাবে যে, এসব বিষয় আলোচনার নয় এবং আর এগোনোর পথ নেই।

৭. নিজেরা আলোচনা করে ঠিক করে নিন
আপনার দাম্পত্য জীবন অবশ্যই নিরাপত্তার জালে রয়েছে। তবে এ জন্য কিছু কৌশলী পরিকল্পনা নিতেই হয়। দুজন মিলে আলোচনা করে নিন যে, এখন থেকে এ সকল বিষয় নিয়ে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন না অথবা কিছু বিষয় নিজেদের মধ্যেই রাখতে হবে। আর দুজন একবার মতৈক্যে পৌঁছে গেলে দেখবেন দুজনেই অনেক হালকা বোধ করছেন। একজন অপরজনের দুশ্চিন্তার কারণ হবেন না। গোপন রাখার বিষয়গুলো গোপন রাখতে পারলে দেখবেন, দাম্পত্য জীবনে অন্তত অন্যের কারণে সহজে অশান্তির সৃষ্টি হবে না।

অমৃতবাজার/মিঠু