ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মানুষকে সহজে আপন করে নেয়ার কিছু কৌশল!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮, রোববার
মানুষকে সহজে আপন করে নেয়ার কিছু কৌশল!

মানুষকে আপন করে একটি বিশেষ দক্ষতা। দেখা যায় আপনার পরিচিত কেউ অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে অন্য যেকোনো মানুষের প্রিয় পাত্র হয়ে উঠতে পারে। মানুষের সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মিশতে পারে। কথা বলতে পারে। ফলে তাদের সে সম্পর্ক টেকে অনেকদিন। অথচ দেখা যায় আপনি নতুন কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। অথবা লজ্জা পাচ্ছেন। কাজ করছে সংকোচ এবং দ্বিধা।

শুরু করার আগে একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন একই সূত্র সবার জন্য সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। কারণ পৃথিবীর কোনো সম্পর্কই কোনো নির্দিষ্ট সূত্র দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। এটি স্থান, কাল, পাত্র অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। আর একটি জিনিস দেখবেন এই ধরনের মানুষেরা যারা মানুষকে আপন করে নিতে পারে তারা কখনই কোথাও আটকে থাকে না। মানুষ তাদেরকে দুই হাত ভরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। মানুষ তাদের ভালোবাসে। আপনিও যদি মানুষের ভালোবাসা পেতে চান। অথবা মানুষের মনে দীর্ঘদিন স্থান পেতে চান তাহলে এবিষয়গুলো কাজে লাগাতে পারেন। আশাকরি এই গুলো জীবনে অনেক কাজে লাগবে। 

প্রথম সাক্ষাতেই কুশল বিনিময়:
প্রথম সাক্ষাতেই কুশল বিনিময় একটি সাধারণ ভদ্রতা। এই সারা পৃথিবীর সকল স্থান, কাল ও পাত্র অনুযায়ী একই হয়। কোন মানুষের সঙ্গে প্রথম দেখা কিংবা পরিচিতির প্রথম ধাপই হচ্ছে কুশল বিনিময়। আর কুশল বিনিময়ের একদম শুরুতেই নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সালাম কিংবা নমস্কার অথবা এরকম কিছু দিন। পুরুষ হলে তার সঙ্গে হ্যান্ড শেক করুন। আর যদি ধর্মীয় বিশ্বাসকে এভয়েড করতে চান তাহলে গুড মর্নিং বা এরকম কিছু বলুন। তবে চেষ্টা করবেন মৃদ্যু হাসি বিনিময় করে সালাম দিতে। তবে এক্ষেত্রে একটি কথা আছে। পরিবেশ বুঝতে হবে। সব পরিবেশে আবার হাসবেন না। যেমন ধরুন কোন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গেলেন তখন হাসি বিনিময় করে সালাম দেয়াটা আবার বোকামি। তাই আশেপাশের পরিবেশ, পরিস্থিতি খেয়াল করে কুশল বিনিময় করুন।

চোখে চোখ রেখে কথা বলা:
মানুষকে আপন করে নিতে চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। ধরুন আপনি কারো উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলছেন। তখন অপর পাশের ব্যক্তি মোবাইল টিপছে বা অন্যদিকে তাকিয়ে আছে, কেমন লাগবে আপনার? আশাকরি তাতে আপনি ভালো বোধ করবেন না। ঠিক তেমনি যখন কেউ আপনার সঙ্গে কথা বলবে, আপনি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো শুনুন। এতে আপনি যে তার কথা মনযোগ সহকারে শুনছেন, সেটা সে পছন্দ করবে।

ঝুঁকে বসুন:
মানুষকে আপন করে নেয়ার এটি একটি অন্যতম কৌশল হলো তারদিকে ঝুঁকে বসা। যখন বসে অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন তখন হেলান দিবেন না। অথবা কোনো দিকে কাত হয়ে বসবেন না। একদম সোজা হয়ে একটু তার দিকে ঝুঁকে বসবেন। মানে মাথাটা একটু এগিয়ে দিন। তাতে ওই ব্যক্তি মনে করবে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে সহজেই আপনাকে সে আপন ভেবে কথা বলবে।

কথার উত্তর দিন:
কাওয়কে আপন করে নেয়ার আরেকটি কৌশল হচ্ছে কথা কম বলুন আর মনযোগ দিয়ে কথা শুনুন। তবে রোবটের মতো কথা শুধু শুনেই যাবেন না। মাঝে মাঝে কথার মাঝখানে হ্যাঁ, হু, ও আচ্ছা, তাই! এরকম কিছু শব্দ ব্যবহার করুন। এর মানে আপনি যে তার সঙ্গে কথা গুলো শেয়ার করছে, সেটা মিন করে। তবে খেয়াল রাখবেন, হ্যাঁ, হু, ও আচ্ছা, তাই! এগুলো যেন প্রতি শব্দের সঙ্গে সঙ্গে না বলেন। তাহলে ব্যাপারটা মেকি হয়ে যাবে। সিচ্যুয়েশন বুঝে কথার উত্তর দিবেন।

আমি, আমার এই শব্দগুলো পরিহার করুন:
মানুষকে আপন করে নেয়ার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটা। মানুষ মানুষকে অপছন্দ করার সবথেকে বেশি কারণ হচ্ছে এটা। ধরুন আপনি কারো সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে খালি নিজের কথা বলেই যাচ্ছেন। আমি এটা করেছি, ওটা করেছি, আমার এটা হয়েছে ওটা হয়েছে– এই ধরনের কথা মানুষ খুব অপছন্দ করে। যেমন- কারো সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বললেন, ভাই আমি বিশাল বড় বেতনের একটা চাকরি পেয়েছি। আমার তাতে ভীষন খুশি লাগছে। আমার মা আমাকে দোয়া করেছে। আমার বাবা পিঠ চাপড়েছে। আমার ভাই গিফট দিয়েছে। আমার বোন এটা করেছে, ওটা করেছে। এই ধরনের কথায় মানুষ অস্বস্তিবোধ করে। প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ মানুষের সাফল্য সহ্য করতে পারেনা। আবার ধরুন বললেন, ভাই আমি সমস্যায় আছি। আমার গরু মারা গেছে। আমার বিড়াল মারা গেছে। আমার মোবাইল চুরি হয়েছে।

আমার মানিব্যাগ হারানো গিয়েছে। এই ধরনের সমস্যাও মানুষ পছন্দ করে না। বরং আপনি তার কথা জানতে চান। আমি, আমার এই শব্দের পরিবর্তে আপনি আপনার শব্দ প্রয়োগ করুন। ভাই, আপনি কেমন আছেন, আপনার চাকরি কেমন চলছে, আপনার বিড়ালের খবর কি? মানুষ নিজেরটা বলতেই বেশি পছন্দ করে, আর সে কথা যদি কেউ মনযোগ সহকারে শোনে তাহলে আরো বেশি পছন্দ করে।

অমৃতবাজার/সবুজ