ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লাশ কাটা ঘরে কী করা হয় জানেন? আপনার কল্পনা কেও হার মানাবে


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ২১ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:২২ এএম, ২১ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
লাশ কাটা ঘরে কী করা হয় জানেন? আপনার কল্পনা কেও হার মানাবে

লাশটা একটা যুবতী মেয়ের। বয়স আন্দাজ ২৪ হবে। স্বামীর সঙ্গে রাগ করে বিষ খেয়েছে। পুলিশ আসতে আসতে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে লাশ। ফোলা লাশটাকে মেডিকেল এ ময়না তদন্ত করতে পাঠিয়েছে সালামকে দিয়ে। সালাম এই লাশ বহনের কাজ করছে চার বছর ধরে।

গভীর রাতে বের হলেই এক বোতল বাংলা নিয়ে যায় সালাম সবখানে। এভাবে প্রায় সময় ওকে মর্গের বাইরে বসে থাকতে হয়। সরকারি চাকরি করে রমেশ। তাই কোনো সময় আসে সেটার কোনো ঠিক থাকেনা। আর লাশ ফেলে রেখেও যাবার উপায় নেই। রমেশের হাতের আঙ্গুলের ছাপ একটা সরকারি কাগজে নিতে হয় ওকে। এই ছাপের জন্যই বসে থাকে প্রায় সময়।

গাঁজা খাবার অভ্যাস সেই ছোট বেলা থেকেই ছিল সালামের। একসময় গাঁজা বিক্রি করত রেললাইনের বস্তিতে। সেখান থেকে চলে আসে পনের বছর বয়সে। সেই থেকে ভ্যান চালায় সালাম। এই পেশায় খুব একটা টাকা আসেনা দেখে থানার দারোগা বাবুর হাতে পায়ে ধরে চার বছর আগে লাশ টানার কাজটা পেয়েছিল।

বৃষ্টি থেমে গেছে একটু আগে। এখন মাটিতে সোঁদা গন্ধ- সঙ্গে সালামের গাঁজার ফ্যাকাসে গন্ধ মিলে একটা অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করেছে মর্গের আশ পাশে। এর মাঝে বাংলার বোতল ও প্রায় শেষ করে ফেলেছে- এমন সময় হঠাৎ করেই ওর সামনে এসে হাজির হল রমেশ ডোম। বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু এখন ও শরীরে প্রচণ্ড শক্তি। আর এই বয়সে ও দিব্যি মাল খেয়ে বেড়ায় সে। সারাদিন ঘুমায়- রাতে এসে লাশ কাটাকাটি করে। সালামের সামনে এসে দাঁড়াতেই সালাম চমকে উঠে বলল-

দেখলাম তুই কতটা ডরাস রাতে, বলেই আবার হাসি শুরু করে দিল রমেশ। রেগে গেল সালাম-  হ- আমিই ডরাই- আর তুমি যে আমারে এতক্ষণ বসায়া রাখলা- এই লাশ ঘরের সামনে বইতে বইতে আমার পা দুইখান শেষ হই গেল। এতক্ষণ যে তুমি বৃষ্টিরে ডরাই লা?

মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি- সঙ্গে খালি গায়ে সাদা লুঙ্গি পরিহিত রমেশ কে দেখে খানিকটা ভয় পেল সালাম। বলল-দাও গো কাকা- কাগজ টাতে একখান টিপ মাইরা- আমি চলি যাই- বেশ রাত হইসে। ঘরে যামু। বলে পকেট থেকে কাগজ বের করে এগিয়ে দিল রমেশের দিকে।

কিন্তু রমেশ যেন দেখেও দেখল না- বলল-তা তো যাইবাই- কিন্তু আজকা তোমারে ছাড়ুম না চান্দু- তোমারে আমার লাশ কাটা দেখামু - বলে আবার হো হো করে হেসে ফেলল রমেশ। না না- আমার কোনো স্বাদ নাই দেখনের। তুমি কাট তোমার লাশ- আমারে টিপ দাও- আমি যাইগা- বলেই উঠে পড়তে চাইল সালাম- কিন্তু রমেশ সালামের বাম হাত ধরে ওকে টেনে নিয়ে গেল লাশ কাটা ঘরের সামনে। কোমড় থেকে চাবি বের করে খুলে ফেলল দরজা। তারপর চাবির গোছাটা ভেতরে রেখে ভ্যান এর সামনে নিয়ে আসল সালাম কে- বলল- নাও বাছা ধর তো- নিয়া যাই ভেতরে- সালাম না করল না। দুইজনে মিলে মেয়েটার লাশটাকে তুলে নিয়ে গেল লাশঘরের ভেতরে। সেখানে একটা সাদা কাপড় পাতা টেবিলের উপর লাশটা রেখে বাতি জ্বালিয়ে দিল রমেশ ডোম।

আইজকে তোমারে আমি লাশ কাটা দেখামু। কোনো দিন দেখলা না কিভাবে কাটি আমি লাশ বলে হাসি হাসি মুখে তাকাল । মন্ত্রমুগ্ধের মত মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তারপর দেখতে লাগল কি করে রমেশ। অদ্ভুত এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে চারপাশে। এই অন্ধকার রাতে স্যাঁত স্যাঁতে সোঁদা গন্ধের সঙ্গে একটা পঁচা পঁচা গন্ধে ভরে গেল সারা ঘর।

রমেশ আস্তে আস্তে চারটা দড়ি কেটে লাশের উপর থেকে পাটি সরিয়ে ফেলল। তারপর সেই লাশের উপর থেকে সাদা কাফনের কাপড়টা সরিয়ে দিল। বাঁধন খুলতে গিয়ে সালাম ও হাত লাগাল। উপরের দিকের কাপড়টা খুলে সালাম দেখল এক অনিন্দ্য সুন্দরীর মুখ।

আহা কত সোন্দর আছিল- এখন কেউ এরে ছুইতেও চাইব না- একদিন নিশ্চয় সবাই এই মায়ারে পাইতে চাইত- নিজের বউ বানাইতে চাইত- আইজকে সেই লোক গুলান আর এই মায়াটারে স্বপ্নেও পাইতে চাইব না- কি আজিব দুনিয়া না রমেশ কাকা?

মনটা খারাপ হয়ে গেল সালামের। রমেশের খিস্তি হাসি শুনে আরো বেশী মন খারাপ হল। এক নজরে দেখতে লাগল রমেশ কি করে। সালাম একটা ধারাল কাঁচি দিয়ে মেয়েটার উন্মুক্ত শরীরে বুক এর মাঝখান থেকে ধরে একটানে সোজা কেটে ফেলল নাভি পর্যন্ত। সঙ্গে সঙ্গে ফিনকি দিয়ে ছুটল রক্ত পড়া। কোত্থেকে এক গ্লাস পানি এনে ঢেলে দিল সেই রক্তের উপর। সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল অনেক রক্ত। জীবন্ত মানুষের অপারেশন করতে অনেক কষ্ট- কিন্তু মরা লাশের অপারেশন করা অনেক সহজ। এরপর সেই লাশের দুইদিকে সুই দিয়ে চামড়া টান টান করে ট্রের সঙ্গে লাগিয়ে দিয়ে কাটা শুরু করল লাশের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। লাশের শরীর ফোলার কারণ বুঝা গেল এবার। মেয়েটা অনেক মোটা ছিল- সারা শরীরে ভর্তি চর্বি।

এই চর্বি গুলো হলদে আকার ধারণ করেছে মরার পর। সেই চর্বি গুলো কেটে কেটে একটা বালতিতে ফেলে দিল রমেশ। অনেক দিনের অভ্যস্ত হাতে একটা একটা করে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কাটছে রমেশ খালি হাতে- আর একটা ওজন যন্ত্রের উপর রেখে রেখে ওজন নিচ্ছে। তারপর টেবিলের আরেকপাশে সেই অঙ্গ গুলো রেখে দিচ্ছে সাজিয়ে। হা করে তাকিয়ে আছে সালাম। কোনো দিন লাশ কাটা দেখেনি। আজকে দেখছে- কিন্তু খেয়াল করেনি কখন পায়ের কাছে একটা কুকুর এসে পড়েছে- হঠাৎ পায়ে একটা হালকা ছোয়া পেতেই ভয় পেয়ে গেল সালাম- তারপর টেবিলের নিচে তাকিয়ে দেখল রমেশের কুকুর ভুতু। সে টেবিলের তলায় রাখা বালতি থেকে মুখ দিয়ে কি যেন খাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল সালামের-এই বালতিতেই লাশের চর্বি গুলো রেখেছিল রমেশ। উপরে উঠে রমেশ কে সেটা বলতে যেতেই দেখল রমেশ হাসি মুখে তাকিয়ে তাকিয়ে বলল-আরে এই জিনিসটা ভুতুর অনেক প্রিয়। ওরে ভাল কিছু তো খাইতে দিতে পারিনা- তাই

এখানে আসলে ও হলুদ জিনিসটা খায়। ওরে আগে বকা দিতাম- কিন্তু চিন্তা করলাম – ভুতুরে ভাল মন্দ কিছু খাইতে দিতে পারিনা- কুকুরটা যখন এই জিনিসটা পছন্দ করছে- তাইলে কি হয় খাইলে একটু- বলে আবার হেসে ফেলল রমেশ।

এবার কেমন যেন গা গুলিয়ে উঠল সালামের। খেতে দিতে হলে ময়লা খাবে- তাই বলে মানুষের চর্বি খাবে একটা পোষা কুকুর? নাক মুখ কুঁচকে আবার নিচে দেখে নিল সালাম। কুকুরটা তখন ও খেয়ে চলেছে চর্বি।

আস্তে আস্তে কাজ করে চলেছে রমেশ। সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ প্রায় কাটা শেষ এমন সময় কি যেন চিন্তা করে কাজ থামিয়ে দিল সে। তারপর একটা একটা অঙ্গ আবার যথা স্থানে রেখে দিতে লাগল। শুধু কলিজাটা পড়ে আছে টেবিলের এক কোনায়। কালচে আকার ধারণ করেছে সেটা। হঠাৎ কি মনে করে কলিজাটা একটা পলিথিন ব্যাগে পেচিয়ে নিয়ে হাটা দিল রমেশ। অবাক হয়ে গেল সালাম। অবাক হয়েই জিজ্ঞাস করল-

কই যাও কাকা? কইলজাটা কই নিয়া যাও তুমি? কি করবা এটা দিয়া? পেছন ফিরে তাকাল রমেশ- খুব একটা ভাল ভাবে চেহারা দেখা যাচ্ছেনা- দেখা যাচ্ছে শুধু হলদে দাঁতের পাটি। হেসে হেসেই বলল রমেশ-

এইত- এই কইলজাটার একটা ব্যাবস্থা কইরা আসি রে সালাম- তুই থাক- আমি অক্ষণ ই আইতাসি- এই যামু আর আসমু- সামান্য সময় থাক তুই বলেই হন হন করে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে গেল রমেশ। পেছন পেছন কুকুরটা ও ছিল। কি মনে করে পেছন ফিরে তাকাল কুকুরটা- অন্ধকারে কুকুরটার হলদে চোখের মনি দেখে ভয় পেয়ে গেল সালাম। একটু পরেই আবার বের হয়ে গেল সেটা। হাঁপ ছেড়ে যেন বাচল রমেশ। লুঙ্গির গিট্টু থেকে একটা গাঁজার পুরিয়া বের করে টানা শুরু করতেই হঠাৎ চিৎকার চেচামেচি শুনতে পেল সালাম- লাশ ঘরের বাইরে থেকে কারা যেন কথা বলে কিছু বুঝতে চাইছে। কেউ একজন মহিলা কাঁদছে। তাড়াতাড়ি লাশ ঘর থেকে বের হয়ে আসল সালাম। দরজা খুলে বের হয়েই অবাক হয়ে গেল সালাম। বাইরে আরেকটা ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে। সালামের ভ্যানটা সরানো নিয়ে তর্ক করছিল কিছু মানুষ। মনে হচ্ছে ভ্যানে করে কোনো একটা লাশ নিয়ে এসেছে কেউ। সঙ্গে সেই লাশের আত্মীয় স্বজন। তাদের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল ভেতর থেকে।

সালাম বের হয়েই জিজ্ঞাস করল- কি হইসে ভাই- কার লাশ নিয়া আসিছেন? রমেশ তো একটু আগে বাইর হইল- এখনই আসি যাবে বলে গাঁজায় শেষ টান দিয়ে ফেলে দিল ফিল্টারটা। হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল সামনের জনতা। ভোর হতে শুরু করেছে মাত্র। আস্তে আস্তে জেগে উঠতে শুরু করেছে পাখি গুলো। এমন সময় যেন একটা বোমা ফাটাল সালাম। সামনে থাকা সবাই ওর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। একজন মহিলা এগিয়ে সালাম কে বলল-

কে আছিল এতক্ষণ? কে আছিল ভেতরে? ক্যান কইলাম না রমেশ কাকা বাইরে গেছে- একটু পরেই আইসে পড়বে বিরক্তি সুরে বলল সালাম। সেই মহিলা হঠাৎ গিয়ে ভ্যানে রাখা লাশটার মুখ থেকে কাপড় খুলে ফেলে বলল- রমেশ যদি এখানে আসে- তবে এইটা কেডা?

লাশে মাথাটা দেখে হটাত মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল সালামের। রমেশ সাদা কাপড় এ বাঁধা লাশ হয়ে পড়ে আছে সালামের সামনের ভ্যানে। হঠাৎ করে বুঝতে পারল সালাম- ও অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। শুধু অজ্ঞান হবার আগে সেই ভ্যানের পাশে দাঁড়ানো রমেশের কুকুরটাকে দেখতে পেল সে।

অমৃতবাজার/জয়