ঢাকা, রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লাঠি যেখানে নারীদের রক্ষাকবচ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৯ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার
লাঠি যেখানে নারীদের রক্ষাকবচ

ওরোমো জাতিগোষ্ঠীর নারীরা নিজের রক্ষাকবচ এই লাঠি হাতে নিয়ে চক্রাকারে ঘুরছে আর নিজেদের ভাষায় গান গাইছে। মাঝখানে একজন মহিলা বসে আছেন। ওরোমো নারীদের যখন বিয়ে হয় তখন তারা এই কাঠের লাঠিটা পেয়ে থাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে। সিনকিউ নামের এই লাঠিকে ওই নারী এবং তার পরিবারের রক্ষার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ, সারা ডুবে বলছিলেন ‘এখানকার ঐতিহ্যবাহী যে আইন আছে তাতে বলা হয়েছে, একজন বিবাহিত নারীকে অপমান বা কোনো ধরনের নির্যাতন করা যাবে না। এটা একটা অপরাধ।’

ইথিওপিয়ার ওরোমো নারীদের জন্য প্রাচীন যে গাডা ব্যবস্থা আছে তার একটি অংশ এই সিনকিউ। বিশেষজ্ঞ সারা ডুবে বলছিলেন, ‘যখন এই গাডা সিস্টেম চালু করা হয় তখন পুরুষদেরকে বিভিন্ন অস্ত্র দেয়া হতো যাতে করে তারা পশু শিকার করতে পারে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে পারে।’

তিনি আরো বলছিলেন, ‘মেয়েদের হাতে দেয়া হয় সিনকিউ, যাতে তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করতে পারে।’

এদিকে, নারীদের এই শব্দ শুনে গ্রামের মুরুব্বিরা চলে আসেন একটা বিচার বসানোর জন্য। চলতে থাকে শুনানি। নারীরা বলেন, ‘তাকে মারা মোটেই উচিত হয়নি। তার স্বামীর বিচার না করা পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’

শুনানির পর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাদের রায় শোনালেন। রায় অনুযায়ী মহিলার স্বামী সবার সামনে ওই নারীর কাছে মাফ চাইলেন। একই সঙ্গে সবার সামনেই প্রতিজ্ঞা করলেন আর কখনো তাকে মারবেন না। রায়ে আরো বলা হলো, যদি সে এর ব্যতিক্রম করে তার জন্য ভবিষ্যতে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন, ‘নারীরা কখনো এসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলেন না।’ এই সম্প্রদায়ের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ জি আললাক গুই বলছেন, ‘ঈশ্বর সব সময় তাদের পাশে থাকে যারা মিথ্যা বলেন না।’ তারা এই ঐতিহ্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিয়ে যেতে চান।

বিয়ের সময় মেয়ের বাবা এই সিনকিউ তৈরি করেন। আর মেয়ের মা সেটা মেয়ের হাতে তুলে দেন। গারবি তাফিসি নামে এক নারী বলছেন, ‘এটা আমি আমার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছি এবং আমি নিশ্চিত করব, যাতে করে এটা আমি আমার মেয়ের কাছে আমি পৌঁছে দিতে পারি।’

অমৃতবাজার/জয়