ঢাকা, রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাতজাগা মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বেশি!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার
রাতজাগা মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বেশি!

ইদানিং বেশিরভাগ মানুষের ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। আর যারা এই সমস্যায় ভুগে রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি প্রমাণের জন্য ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালান। এতে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। জরিপে দেখা যায় সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি। গবেষণায় আরো দেখা গেছে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার কারণ।

তবে এর সঙ্গে ব্যক্তির বয়স , লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব করেই দেখা গেছে সকাল বেলায় যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার কম।

বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার জন্য চার ধরনের মানুষকে বেছে নিয়েছে। এরা হলেন- যারা প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা নিয়মিত রাত জাগেন।

রাত জাগার বদভ্যাস রয়েছে এমন মানুষের মধ্যে ৯০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির শিকার হন। ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ৩০ শতাংশের। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

পরে এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখানো হয়েছে যে ব্যক্তি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তার গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি।

সুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোনোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ম্যালকম ভনের মতে, রাত জাগার এই সমস্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই।

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টেন নুটসন জানান, অবেলায় খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ব্যয়াম না করা, রাতে ঘুম থেকে ওঠা বা মাদক সেবন এ ধরনের বদভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। এমন বিভিন্ন অনিয়মের ফলে মানুষের ঘুমের সময় ওলট পালট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

তবে রাত জাগার কারণে শরীর মন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে, এমনটাও ভাবার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন অধ্যাপক নুটসন। তিনি জানান, শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া বা দেহঘড়ির পরিচালনা নির্ভর করে জিনের বৈশিষ্টের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।

নিজের দেহঘড়িকে নিয়মের মধ্যে আনতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা

১. শোবার জায়গাটা এমন হতে হবে যেখানে সূর্যের আলো সহজেই পৌঁছায় কিন্তু রাতের বেলা অন্ধকার থাকে।

২. প্রতিরাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং খুব বেশি দেরিতে বিছানায় না যাওয়া।

৩. সুস্থ লাইফস্টাইলের জন্য যে অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজন সেগুলো আয়ত্বে আনতে নিজের প্রতি কঠোর হওয়া। ঘুমের সময়ের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আপোষ করা যাবে না।

৪. দিনের কাজ দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলার চেষ্টা করা।

৫. ঘুমানোর সময় মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকা।

এর আগে বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্স ডেইলির এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন এবং ইউনিভার্সিটি অব সারে’র এই গবেষণা তথ্য প্রকাশ করা হয়। সূত্র: বিবিস বাংলা

অমৃতবাজার/সবুজ