ঢাকা, রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সমলৈঙ্গিক প্রেমিকের যত কথা


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৪১ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সোমবার
সমলৈঙ্গিক প্রেমিকের যত কথা

নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ভোপালের বাসিন্দা ন্যানোটেকনোলজির রিসার্চ স্কলার ২৭ বছরের নীলোৎপল সরকার। সেটা দেখেই চিন্তায় পড়ে যান তার পরিবার, বন্ধুবান্ধবরা। বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। না-পেয়ে তার মা ফেসবুকেই তাকে বাড়ি ফিরে আসার কথা লেখেন। মনে করিয়ে দেন বাবার অসুস্থতার কথা।

ফেরেননি নীলোৎপল। সোমবার আপার লেকে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ। সমপ্রেমী পার্টনারকে বাঁচাতেই পুনর্জন্মে বিশ্বাসী নীলোৎপল আত্মঘাতী হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব ভেবেচিন্তেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। দেহটির হাতে বাঁধা একটি ট্যাগে তার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লেখা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাইয়া পুলিশ স্টেশনের এসআই রাজকুমার গুপ্তা জানিয়েছেন, `দেখে মনে হচ্ছে নীলোৎপল চেয়েছিলেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার দেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে পাঠানো হোক।`

ন্যানোটেকনোলজির রিসার্চ স্কলার নিজের ঘরের দেয়ালে যে নোটটি বিজ্ঞানের সাধকদের উদ্দেশে লিখে গিয়েছেন, তাতে লেখা আছে, `ডার্ক ম্যাটার বুঝতে গেলে শিব-কে বুঝতে হবে। যদি আপনি ব্ল্যাক-হোল বুঝতে চান, তাহলে বুঝতে হবে কালীকে। আর যদি বিগ ব্যাং বুঝতে চান তাহলে বুঝতে হবে ওম-এর ভাষা।`

তিনি লিখেছেন, `২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর দিওয়ালিতে আমি একটা খুব সুন্দর স্বপ্ন দেখি। দেবী কালী স্বপ্নে এসেছিলেন। তিনি আমায় একটা দারুণ আশীর্বাদ করেন। আজ পর্যন্ত তা গোপনেই রেখেছি। কারণ যে দিন আমি এটা বলব, সে দিনই এই পৃথিবীতে আমার শেষ দিন...।`

তার সমপ্রেমী সঙ্গীর সঙ্গে তিনি এক বছরের মধ্যে মিলিত হবেন। স্বপ্নে কালী তাকে এটাই জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন নীলোৎপল! তিনি লিখেছেন, `সে যখন আমার জীবনে আসবে, তখনই এক শাশ্বত সুখ পাব। ও আমার সঙ্গে সেক্স করবে না। তবে একে-অপরকে শান্তিতে রাখব সবকিছু করব। তবে যে দিন আমি ওকে প্রপোজ করব, সে দিনই আমার মৃত্যু হবে। আর যে দিন সে আমার ভালোবাসা বুঝতে পারবে, সে দিন তার মৃত্যু হবে। এটা যাতে না-হয়, সে জন্য কালীর কাছে আরজি জানিয়েছিলাম। ওর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই। কালী মা বললেন, তোমরা এই জন্মেই দুজন মিলিত হবে। তবে বিয়েটা হবে পরের জন্মে। আমি কালীকে ধন্যবাদ জানাই।` সূত্র : ইন্টারনেট

অমৃতবাজার/জয়