ঢাকা, রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আমোও হাজি: ৬০ বছর ধরে গোসল করে না যে মানুষটি


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
আমোও হাজি: ৬০ বছর ধরে গোসল করে না যে মানুষটি

এই শীতে কতদিন হল গোসল করেননি আপনি? কতদিন গোসল না করে থাকার রেকর্ড আছে আপনার? একদিন, চারদিন, দশদিন? আমোও হাজিও গোসল করেন না, নিজেকে পরিষ্কার করতে একেবারেই ইচ্ছে হয় না তার। তবে আপনার রেকর্ড তার কাছে কিছুই নয়।

পাঁচ বা দশদিন নয়, টানা ৬০ বছর ধরে নিজেকে পরিষ্কার করেন না আমোও হাজি! বিশ্বাস হয়? আমোও হাজির বয়স ৮০ বছর। গোসল করা বা নিজেকে পরিষ্কার করা নিয়েই যে অনাগ্রহ তার এমনটা নয়, খাবারের ক্ষেত্রেও তার বাছবিচারটা চোখে পড়ার মত। আমোও হাজির সবচাইতে পছন্দের খাবার পচা শজারু। কেবল তা-ই নয়, নিজের বিশ্রামের সময়েও যে ধূমপান করতে ভালোবাসেন তিনি সেই পাইপেও ভরা থাকে পশুপাখীর মল। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, কেন আমোও হাজি গোসল করেন না বা নিজেকে পরিষ্কার করতে চান না? কারণ আছে।

আর কারণটি হল এই যে, বৃদ্ধ এই মানুষটির ধারণা, গোসল করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। নিজের জীবনের প্রথমভাগের সময়গুলোর খুব বড় প্রভাব আছে আমোও হাজির বর্তমান জীবনে। কম বয়সে পাওয়া অভিজ্ঞতার কারণেই এমন এক জীবন বেছে নিয়েছেন তিনি, এমনটাই ভাবেন আমোও হাজি।

ইরানে ফার্সের দক্ষিণ প্রদেশের দেজগাহ গ্রামে আমোও হাজির জন্ম। গ্রামে থাকাকালীন একবার কিছু তরুণ মিলে তাকে গোসল করিয়ে দিতে চায় জোর করে। সেবার কোনোরকমে পালিয়ে বেঁচেছিলেন আমোও হাজি। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়েও কোনো ঝুঁকি নিতে চান না এই মানুষটি। তাই ঘুম পেলে চলে যান মাটির একটি গর্তে, যেটা অনেকটাই কবরের মতো। আমোও হাজির কথা ভেবে স্থানীয়রা একটি ইটের ঘর বানিয়ে দিয়েছে তার পাশেই। সেখানেও মাঝেমাঝে সময় কাটান এই অদ্ভুত মানুষটি।

"/

যেমনটা বলেছিলাম, শুধু পরিষ্কার হওয়ার ব্যাপারেই নয়, খাবারের ব্যাপারেও অনেকটাই অপরিষ্কার আমোও হাজি। সাধারণত পচা মাংস খান তিনি। দিনে পাঁচ লিটার পানি পান করেন। তবে সেটাও ময়লা একটি পাত্র থেকে। পরিষ্কার খাবার আর বিশুদ্ধ পানীয়তেও সমস্যাবোধ করেন হাজি। তবে তার অর্থ এই নয় যে, আমোও হাজি নিজেকে সুন্দর দেখাতে চান না।

তবে গোসল না করার এই তালিকায় কেবল তিনি একাই নন, তামারা ডাইবিনিয়ান, ডেভ হুইটলক এবং চু কিম গুয়ানসহ আরো অনেকেই আছেন। তবে এদের মধ্যে যে যতদিনই গোসল না করে থাকুক না কেন, আমোও হাজির কাছাকাছি আসাটা তাদের জন্য কষ্টকর হবে। আর সেটা কেবল গোসল করার ক্ষেত্রেই নয়, সেইসাথে আরো আছে নোংরা খাদ্যাভ্যাসও।

এভাবেই নিজের জীবন নিয়ে অবশ্য খুশি আছেন হাজি। তার শরীরের সাদা রঙ ময়লার আস্তরের কারণে অনেকটা মাটির রঙ নিয়ে নিয়েছে। অনেক সময় মাটির উপরেই পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। অবশ্য এ কারণেই অনেকে আমোও হাজিকে সুখী মানুষ বলে মনে করেন। কারণ, তাদের মতে এই মানুষটির পাওয়ার কিছু নেই, হারানোর কিছু নেই, এমনকি ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। পৃথিবীর সবচাইতে অপরিষ্কার বা নোংরা মানুষ হিসেবে বর্তমানে স্বীকার করা হয় আমোও হাজিকেই।

অমৃতবাজার/সুজন/মাসুদ