ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চার হাজার বছর পূর্বের কাবিননামা!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:২৯ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার
চার হাজার বছর পূর্বের কাবিননামা!

আধুনিক যুগে নারী-পুরুষের বিবাহ শুধুই বর্তমান সময়ের তৈরি কোনো চুক্তিনামা নয়, এটা বহন করে আসছে হাজার হাজার বছর আগের তৈরি ইতিহাস। তেমনি একটা বিবাহ চুক্তিনামা বা কাবিননামা মিলেছে তুরস্ক থেকে। এই কাবিননামাটি (বিয়ের চুক্তিপত্র) প্রায় চার হাজার বছর আগের। তুরস্কের হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিকগণ এটি উদ্ধার করেছেন।

এই চুক্তিপত্রটিতে বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি সুস্পষ্ট শর্তের উল্লেখ আছে। পিণ্ডাকৃতির শর্তগুলো একটি মাটির খণ্ডে সুন্দরভাবে খোদাই করে লেখা রয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করেছেন এটি আসিরীয় যুগের। আসিরীয়রা প্রথম মাটির পাত্রে খোদাই করে লেখার কৌশল উদ্ভাবন করেন ও তাদের নিজেদেরে বর্ণমালা ছিল। পিটিআই জানায়, মাটির পিণ্ডটি পাওয়া যায় বর্তমান তুরস্কের কালতেপে-কানেশ থেকে। এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং জাতিসংঘের ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য।

হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিকদের উদ্ধারকৃত এই মাটির পিণ্ড ও সংশ্লিষ্ট আরও কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শেষে গবেষকরা জানান, আসিরীয় যুগের এই কাবিননামাই প্রাচীনতম কাবিননামা।

গবেষকরা আরও বলেন, লাকিপাম নামে পুরুষ ও হাতালা নামে নারীর মধ্যে বিয়ের শর্তগুলো বলা হয়েছে। এটির একটা শর্ত এমন যে, হাতালা যদি সন্তান জন্মদানে অক্ষম হন, তবে তার স্বামীর জন্য একজন কৃতদাসী এনে দেবেন তিনি। কাবিননামার বিষয়ে একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে গাইনোকোলজিক্যাল এনডোক্রাইনলজি জার্নালে।

এতে গবেষকরা দাবি করেন, প্রজনন অক্ষমতার সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। এর একটি হচ্ছে সারোগেসি বা গর্ভ ভাড়া। হাজার বছর পূর্বের এই কাবিননামাতে বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে।

অমৃতবাজার/ইকরামুল