ঢাকা, রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আকাশে আলোর ঝর্ণা দেখা যাবে আজ রাতেই!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার
আকাশে আলোর ঝর্ণা দেখা যাবে আজ রাতেই! ফায়েথন ৩২০০

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর একটা গ্রহাণু (অ্যাস্টারয়েড)। অসম্ভব দ্রুত তার গতি। যার নাম ‘ফায়েথন ৩২০০’। লম্বায় এটি ৪ কিলোমিটারেরও বেশি।

সাম্প্রতিক অতীতে এত বড় চেহারার গ্রহাণু পৃথিবীর এত কাছাকাছি আসেনি কখনও। গ্রহাণুটি এই মুহূর্তে রয়েছে পৃথিবী থেকে প্রায় এক কোটি কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ সূর্য থেকে পৃথিবী যতটা দূরে রয়েছে, গ্রহাণুটি তার প্রায় ১৬ ভাগের ১ ভাগ দূরত্বে রয়েছে।

ভারতের গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, কলকাতার ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স-এর অধিকর্তা জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তী আজ বুধবার এ খবর দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, এমন চেহারার গ্রহাণুই ছিলো কোটি কোটি বছর আগে ডাইনোসরদের ধ্বংসের মূল কারণ।

গ্রহাণুটি নিয়ে ইতোমধ্যেই কলকাতাসহ বিশ্বের বড় বড় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা রীতিমতো উদ্বিগ্ন। তাঁদের চিন্তার প্রধান কারণ হলো কক্ষপথ ধরে গ্রহাণুটির আসার কথা থাকলেও এখনই তার থেকে অনেকটা সরে এসে পৃথিবীর কয়েক হাজার কিলোমিটার বেশি কাছাকাছি এসে পড়েছে।

তবে এই উদ্বেগের মধ্যেও মানুষের কাছে একটা সুখবরও রয়েছে। ওই গ্রহাণুটি হুড়মুড়িয়ে পৃথিবীর এতো কাছাকাছি এসে পড়ায় বুধবার রাতে উল্কাবৃষ্টি বা মেটিওর শাওয়ার দেখা যাবে খালি চোখেই।

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডল (৭টি তারা দিয়ে ‘শিকারী’র মতো চেহারা) সে দিকে তাকালেই দেখা যাবে এই উজ্জ্বল আলোর ঝর্ণা। কালপুরুষের মাথা থেকে বাঁ দিকে আকাশের উত্তরে তাকালেই দেখা যাবে ওই আলোর ঝর্ণা। এই ঝর্ণা আগামী তিন দিন ধরে দেখা গেলেও আজ রাতেই সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে প্রতীয়মান হবে।

ফায়েথন ৩২০০-এর বিশেষত্ব হলো বহু কোটি বছর আগে এই গ্রহাণুটি মূলত ছিলো একটি ধূমকেতু। কিন্তু সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের তাপে সেই ধূমকেতুর বরফের লেজটা পুরোপুরি উবে গিয়েছে। পড়ে রয়েছে তার পাথুড়ে দেহটা। সেটাই এখন হয়ে উঠেছে একটু গ্রহাণু।

আজ থেকে ৭৫ বছর পর আবারও পৃথিবীর এত কাছাকাছি আসবে গ্রহাণুটি। তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, যে ভাবে প্রত্যাশিত কক্ষপথ থেকে অনেকটা সরে গিয়ে পৃথিবীর অনেক বেশি কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে তাতে, গ্রহাণুটি এ বার না হলেও ৭৫ বছর পর তা পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে।

অমৃতবাজার/সাজিদ