ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭ | ৭ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অন্ধকারই পছন্দ বাদুই উপজাতির


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৭ এএম, ১৩ মে ২০১৭, শনিবার | আপডেট: ১০:৪২ এএম, ১৩ মে ২০১৭, শনিবার
অন্ধকারই পছন্দ বাদুই উপজাতির

১৮ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়াতে তিন শতাধিক জাতি-গোত্রের বসবাস। হাতে গোনা যে কয়েকটি উপজাতি এখনও আধুনিকতাকে বর্জন করে আদি জীবন-পদ্ধতি টিকিয়ে রেখেছে, তাদের মধ্যে বাদুই (Badui) একটি। রাজধানী জাকার্তা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ের ৫০ বর্গ-কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২৬ টি গ্রামে এদের বসবাস। হাজার বিশেক বাদুই এখনও গোত্রের স্বকীয়তা বজায় রেখে টিকে আছে সেখানে। তারা এড়িয়ে চলে বিজলি বাতি, এড়িয়ে চলে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রকৃতির সান্নিধ্যে খুঁজে পায় বাঁচার উপকরণ। প্রাণের অস্তিত্ব।

বাদুইরা তাদের নিজস্ব আইন-কানুনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অনেকটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সংমিশ্রনে তাদের নিজস্ব ধর্ম আছে। তারা প্রাণি হত্যা করে না। ব্যাভিচার, মাতলামি, চুরি এবং মিথ্যা বলা তাদের কাছে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। টাকা-পয়সা, সোনা-রুপার আদান-প্রদান, রঙিন-উজ্জ্বল পোশাক এবং গহনা পরিধান করে না। জৈবিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং সীমিত আকারে পশুপালন করে থাকে। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করে না এবং বাইরের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলে। কোন ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে না। কালো বা নীল রঙ্গের পোশাক পরিধান করলেও, জুতা পরে না।

দু`ভাগে বিভক্ত বসতির ভিতরের চারটি গ্রামের ৫০০ বাদুই কঠিন রীতিনীতি অনুসরণ করলেও, বাইরের ২২ টি গ্রামের অধিবাসীরা কিছুটা শিথিল জীবন-যাপন করে থাকে। এরা কুকুর দিয়ে পশু শিকার করে মাংস ভক্ষণ করে। কাজ বা উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য শহরাঞ্চলে যাতায়াত করে এবং টাকা-পয়সা আদান প্রদান করে থাকে। আধুনিকতার কিছুটা ছাপ পড়েছে তাদের জীবন-যাপনে। বাড়তি আধুনিকতা অবলম্বন করতে হলে গোত্র ও বসতির বাইরে চলে যেতে হয়।

আশ্চর্যের ব্যাপার, যেখানে সবাই আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে মরিয়া, সেখানে সরকারের দেয়া বিদ্যুৎ সংযোগের প্রস্তাব এবং বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে এই বাদুই উপজাতিরা৷ ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে তাদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিতে এখনও খালি পায়ে হাঁটতেই পছন্দ করে তারা৷ (লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

অমৃতবাজার/সোহান

Loading...