ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চলে গেলেন রুমা গুহঠাকুরতা


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:১৩ পিএম, ০৩ জুন ২০১৯, সোমবার
চলে গেলেন রুমা গুহঠাকুরতা

চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী রুমা গুহঠাকুরতা। ৩রা জুন সোমবার ভোরে কলকাতায় নিজের বাড়িতে ঘুমের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বড় ধরণের কোনো অসুস্থতা ছিল না। বার্ধক্য জনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তিন পুুত্র-কন্যা এবং অসংখ্য অনুরাগী রেখে গেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ সোমবারই ছেলে অমিতকুমার মুম্বই থেকে আসার পর রুমার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।্ ১৯৩৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন রুমা গুহঠাকুরতা। 

পিতা সত্যেন ঘোষ এবং মা সতী ঘোষ সংস্কৃতি জগতের মানুষ ছিলেন। ১৯৫২ সালে কিম্বদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রুমার। ১৯৫৮ সালে অবশ্য বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল তাদের। গায়ক অমিতকুমার তাদের সন্তান। ১৯৬০ সালে অরূপ গুহঠাকুরতাকে বিয়ে করেছিলেন। গায়িকা শ্রমণা চক্রবর্তী, অয়ন গুহঠাকুরতা রুমা এবং অরূপবাবুর সন্তান। রুমা সুগায়িকা ছিলেন। গণনাট্যের সঙ্গেও তার যোগ ছিল। গণসংগীত শিল্পী হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। তৈরি করেছিলেন ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যার। ‘বিস্তীর্ণ দু পারে অসংখ্য মানুষের’ কিংবা ‘ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম’ গানগুলি রুমার সংগীত পরিচালনার অনন্য উদাহরণ। গান গেয়েছেন ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’, ‘বাঘিনী’, ‘পলাতক’সহ আরও বেশ কিছু বিখ্যাত ছবিতে।

অভিনেত্রী হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন রুমা। নানা ধরণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার, রাজেন তরফদার প্রমুখ চিত্রনির্মাতার ছবিতে প্রশংসনীয় অভিনয় করেছেন। রুমার অভিনীত ছবিগুলি হলো ‘গঙ্গা’, ‘শাখাপ্রশাখা’ ‘আশিতে আসিও না’, ‘অভিযান’, ‘পলাতক’, ‘বাঘিনী’, ‘নির্জন সৈকতে’, ‘বালিকা বধূ’, ‘পার্সোন্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘হংসমিথুন’, ‘ত্রয়ী’, ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’ প্রভৃতি। ‘জোয়ার ভাটা’, ‘মশাল’, ‘আফসর’, ‘রাগ রং’-এর মতো হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি।

অমৃতবাজার/পিকে