ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বঙ্গকবি ফরিদ আহমেদের ‘টিম টাইগার’র আত্মপ্রকাশ


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ১১:৫৫ এএম, ১৫ মে ২০১৯, বুধবার
বঙ্গকবি ফরিদ আহমেদের ‘টিম টাইগার’র আত্মপ্রকাশ

যশোরের ঝিকরগাছার ছেলে কবি ও আবৃত্তিশিল্পী ফরীদ আহমাদ। জীবনের ৩০ বছরটাকে ছুঁয়ে দিতে চাওয়া একজন টগবগে যুবক। সারাদেশে বঙ্গকবি নামেও বেশ পরিচিত। যিনি বহু আগেই জেনেছিলেন বড় হওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তিই একজন মানুষকে বড় করে তোলে।

ছোটবেলা থেকেই ক্লাসের বই পড়তে ভালো না লাগলেও; সাদা কাগজের বুকে কবিতার চাষাবাদ রীতিমত তাঁর নেশায় পরিণত হয়। যেখানে মাঝে-মাঝে চাষ করেন গীত ও গীতিকবিতা। তাঁর লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন ম্যাগাজিন, দেয়ালিকা, স্মরণিকা, জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকাসহ বিদেশের একাধিক বাংলা ম্যাগাজিনে।

তাঁর কলমে-কণ্ঠে কখনো বিদ্রোহী সুরের ঝংকার আবার কখনোবা আবেগপ্রবণতা। খুলনা বেতার, এস.এ টিভিসহ একাধিক ইলেকট্রিক মিডিয়ায় কবি হিসেবে নিমন্ত্রণ পেয়েছেন। সাক্ষাৎকার প্রচার হয়েছে রেডিও একাত্তর (লাইভ প্রোগ্রাম) ও এসএ টিভিতে। অল্প বয়সেই বিশেষ অতিথি, প্রধান অতিথি, বিশেষ আকর্ষণ এমনকি প্রধান আকর্ষণ হিসেবেও দেশের বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসন অলংকৃত করে চলেছেন। পেয়ে থাকেন সম্মানিও। প্রায় দেড়যুগ ধরে কাব্যসাহিত্যে বিচরণ করছেন। দেশ ও দেশের বাইরে আছে বহু ভক্ত-শিষ্যানুরাগী।

বিশ্ব গাংচিল শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ আয়োজিত, দুই বাংলার কবিতা উৎসবে ২০১৫ সালে খুলনা বইমেলায়- নির্ধারিত সময়ে ‘চুকনগরের গণহত্যা’ শিরোনামে তাৎক্ষণিক কবিতা লিখে ভারত ও বাংলাদেশি কবিদের মাঝে ‘প্রথম হিরকখন্ড’ হিসেবে নির্বাচিত হন। সাহিত্যে চলার পথে পেয়েছেন পুরস্কার ও লিখিত সম্মাননা সনদ। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচারকের দায়িত্বভারও আসে তার কাঁধে। দেশের বিভিন্ন সাহিত্য আসরে তাঁর অবাধ বিচরণ। তিনি কাব্য সাহিত্যের গুরু হিসেবে, যাঁর নিকট শিষ্যত্ব বরণ করেন, তিনি হলেন জাগ্রতযুগের প্রবর্তক, জাগ্রতকবি আল্লামা মুহিব খান। বেশ আগেই সিঙ্গার নিক্সন এর সুরে জনপ্রিয় ‘পিরিতি’ শিরোনামের গানটির মাধ্যমে গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এবার চমক হিসেবে, আগত ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ঘিরে- নিজের কথা, সুর ও কণ্ঠে ক্রিকেটের ‘টিম টাইগার’ শিরোনামের গানটি বুধবার (১৫ মে) আত্মপ্রকাশ করেছেন। ‘টিম টাইগার লড়বে আমার পরাজয় ছিঁড়ে খাবেই/ বিশ্বমাঠে গর্জে উঠে দেখিয়ে তাই দেবেই/ সব নিরাশার গগন ছেদি/ লক্ষ বাঁধার বক্ষ ভেদি/ সাত সমুদ্র তের নদী/ দেবেই ওরা পাড়ি...’ এমন অনুপম কথামালায় আবিষ্কার করেছেন উদ্দীপনাময় ক্রিকেটের গান এবং গেয়েছেন দরাজকণ্ঠে।

‘শেখ রাসেল শিল্পীগোষ্ঠী’র প্রযোজনা ও চলচ্চিত্র পরিচালক নুরুল ইসলাম বিপ্লব পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ মাল্টিমিডিয়া’র পরিবেশনায় পরিবেশিত হয়েছে- ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ঘিরে ‘কাব্যারোহী ব্যা-’র গান ‘টিম টাইগার। এই গানটির মাধ্যমেই ‘কাব্যারোহী ব্যা-’র যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রায় ৪ (৩:৫৩) মিনিটের গান। গানটি ‘মেঘলা আকাশ মাল্টিমিডিয়া’ ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেছে।

এছাড়াও শিল্পীর নিজস্ব ‘বঙ্গকবি’ ফেসবুক পেজেও গানটি আপলোড করা হয়েছে। গানটি উৎসর্গ করেছেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র, বাংলাদেশ ক্রিকেটবোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেলকে। গানটির অডিও ক্লিপ শুনে কয়েকজনের মন্তব্য ঃ গান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্নের নায়ক, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, ‘গানটি সত্যিই প্রসংসার দাবী রাখে।’ এছাড়াও বর্তমান খুলনার সাহিত্যের রাজপুত্র, স্বনামে ধন্য, সব্যসাচী লেখক, ফিরোজ আহমদ ‘টিম টাইগার’ গানটিকে বাংলাদেশের অদ্বিতীয় ক্রিকেট সঙ্গীত হিসেবে বিবেচিত করেন।

গান প্রসঙ্গে শিল্পী ফরিদ আহমেদ বলেন, আমার যে আবেগ অনুভুতি ও স্বদেশপ্রীতি নিয়ে লেখা, অনুরুপ আবেগ-অনুভুতি ও স্বদেশপ্রীতি যদি দর্শকশ্রোতার মনে উদয় হয় তবেই--আমার লেখা, সুর ও কণ্ঠে গাওয়া টিম টাইগার গানটি সার্থকতা পাবে আর স্বার্থক হব আমি। টিম টাইগার গানের মাধ্যমে চির জাগ্রত হোক ওরা ১১ জন। বিশ্বকাপ হবে আমাদের।

ফরীদ আহমেদ একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গিতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিক, প্রকাশক। বহু গুনের অধিকারী একজন মানুষ। এছাড়াও তার প্রতিষ্ঠিত কবিতার জলাগ্নি নিয়ে শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘কাব্যারোহী’ নামে একটি কাব্যচর্চা কেন্দ্র আছে এবং জাগ্রতচেতনার বহিঃপ্রকাশ শ্লোগানকে সামনে রেখে- জাগ্রতকবি গবেষণা পরিষদ নামে আরো একটি গবেষণাধর্মী সংগঠন আছে। তিনি একজন সুদক্ষ সংগঠকও বটে। তরুন প্রতিভাবান এই সঙ্গিতশিল্পীর জন্ম- যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের কানাইরালী গ্রামে। মৃত ক্বারী আব্দুর রশিদ ও ফাতিমা রশিদের ছোট ছেলে।

ভিডিও লিংক:

অমৃতবাজার/আরএইচ