ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৩৫ লাখ টাকা অনুদান বিতর্ক, নীরবতা ভাঙলেন আহমেদ শরীফ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার
৩৫ লাখ টাকা অনুদান বিতর্ক, নীরবতা ভাঙলেন আহমেদ শরীফ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ শরীফ। তাকে ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, আহমদ শরীফ ও তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এই অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কী অসুখের জন্য স্বামী-স্ত্রী এই অনুদান পেলেন সেটা জানা যায়নি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তার কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন আহমেদ শরীফ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে একটি ছবি। এখানে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক গ্রহণ করছেন এই অভিনেতা।

কিন্তু গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বলা যায়, ফেসবুুকে ভাইরাল নামটি এখন ‘আহমেদ শরীফ’। এই অভিনেতার অনুদান পাওয়ায় অনেকেই নানা প্রশ্ন সামনে তুলে আনছেন। সেখানে তার মজবুত অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি তার গোপন অসুখ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশকিছু কলামও প্রকাশ হয়েছে আহমেদ শরীফকে অনুদান দেয়া প্রসঙ্গে। সেই সব লেখায় একদিকে যেমন আহমেদ শরীফের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ফুটে উঠেছে তেমনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার নেতিবাচক ধারণার কথাও উঠে এসেছে।

ঘটনা সত্যতা জানতে আজ যোগাযোগ করা হয় এই অভিনেতার সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয়, তার অসুখের কথা।

উত্তরে আহমেদ শরীফ বলেন, ‘বার্ধক্যজনিত কারণে আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ঠিক মতো হাঁটাচলা করতে পারি না। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, প্রস্টেটের অসুবিধাসহ নানা অসুখে ভুগছি। কিছুদিন আগে, পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ার কারণে অস্ত্রোপচারও করেছি। আমি ঠিকমতো হাটতে পারি না। অনেক আগে শুটিং করতে গিয়ে, পড়ে পা ভেঙে গিয়েছিল। সেসময় অস্ত্রোপচার করে পায়ে রড বসানো হয়েছে। ১৮ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছি।’

আহমেদ শরীফ বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৭৪ বছর। এই বয়সে একজন মানুষ কতটুকুই সুস্থ থাকে। শরীরও এখন আগের মতো সাড়া দেয় না। দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে শুয়ে-বসে কাটাতে হয়। চিকিৎসার অভাবে আমার স্ত্রীর চোখটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওর চোখের রেটিনায় সমস্যা। আমার একটি মেয়ে আফিয়া মোবাসসিরা মৌরি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিনগুলো কাটছে আমার।’

কথা উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর থেকে অনুদানের চেক নিয়ে ওই দিন রাতেই চলচ্চিত্র প্রযোজক শফি বিক্রমপুরীর ৫০তম বিয়েবার্ষিকীর আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দেন আহমেদ শরীফ। ওই অনুষ্ঠানে তিনি মেতে ছিলেন আনন্দ-আড্ডায়, এ নিয়েও ফেসবুকে চলছে তুমুল সমালোচনা।

এ প্রসঙ্গে আহমেদ শরীফ বলেন, ‘চলচ্চিত্র প্রযোজক শফি বিক্রমপুরীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তার অনেক ছবিতে আমি অভিনয় করেছি। তাদের বিয়েবার্ষিকী অনুষ্ঠানে গিয়েছি, এটা সত্য। কিন্তু আনন্দ-আড্ডায় তো আর মাতিনি। উপস্থিত অতিথিরা নিশ্চয়ই দেখেছেন, আমি সেখানেও অসুস্থবোধ করছিলাম। তাই দেরি না করে বাসায় চলে এসেছি।

জানা গেছে, আহমেদ শরীফের বড় ভাই বিজিএমই’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। ডেনিম গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আহমেদ শরীফ। উত্তরায় তার হাউজিং ব্যবসা আছে।

অমৃতবাজার/পিকে