ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভিসা বাতিল, আর ভারতে যেতে পারবেন না চিত্রনায়ক ফেরদৌস!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার
ভিসা বাতিল, আর ভারতে যেতে পারবেন না চিত্রনায়ক ফেরদৌস!

চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ মঙ্গলবার ভারত থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেয়ায় ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করেছে ভারত সরকার। এজন্য দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এরপরই মঙ্গলবার রাতে বিমানে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে থেকে টলিউডে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। সেই বাংলাদেশী অভিনেতা ফিরদৌস আহমেদকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেনার্স ডিভিশন।

মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তাকে ‘লিভ ইন্ডিয়া মেসেজ’ দেয়া হয়। ‘বিজনেস ভিসা’ নিয়ে এ ভারতে গিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রচারে যোগ দেয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।

ফিরদৌসকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হয়েছে। এ দিনই সন্ধ্যার বিমানে তিনি দেশে ফিরে গিয়েছেন। কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ফেরদৌসের পক্ষে ভারতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে দেশটির বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, ‘‘ভিসার শর্ত মানেননি ফিরদৌস। বিদেশে এসে রাজনৈতিক দলের প্রচারে যোগ দেয়াও নজিরবিহীন। তাই ভবিষ্যতে তাকে ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব দেখানো হবে,’’ বলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, শুধু ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, কলকাতার বাংলাদেশী উপদূতাবাস থেকেও ফিরদৌসকে দ্রুত ঢাকায় ফিরে যেতে বলা হয়। এ রাজ্যে এসে ভোটের সময় ওই অভিনেতা রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ১৪ এপ্রিল ‘বিজনেস ভিসা’ নিয়ে কলকাতায় আসেন ফিরদৌস। ভিসার শর্ত অনুযায়ী তিনি সিনেমার শুটিং, বিনোদনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারতেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত ভিসা ছিল তার।

ফিরদৌস রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালের হয়ে প্রচার করেছেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। তৃণমূল জানিয়েছে, ১৪ এপ্রিল উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লকের হেমতাবাদ, বাঙালবাড়ি, নওদা, বিষ্ণুপুর ও চইনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা এবং রায়গঞ্জ ব্লকের মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রোড শো করে নির্বাচনী প্রচার চালান ফিরদৌস। ১৫ এপ্রিল তিনি করণদিঘি ও ইসলামপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতেও প্রচার করেন তিনি।

কানাইয়ালাল অবশ্য মঙ্গলবার দাবি করেন, ফিরদৌস তার সমর্থনে হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জে রোড শো করে প্রচার চালিয়েছেন বলে তার জানা নেই। তবে জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য বলেন, ‘‘উত্তর দিনাজপুরের সঙ্গে বরাবর যোগাযোগ রয়েছে ফিরদৌসের। এর আগে তিনি ছবির শুটিং করতে একাধিক বার এই জেলায় এসেছেন।’’

সংবাদমাধ্যমে ফিরদৌসের ভোট-প্রচারের খবর দেখে তথ্য যাচাই করে দিল্লি। কলকাতার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে সবিস্তার রিপোর্ট পেয়েই উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ফিরদৌসকে দেশ ছাড়ার নোটিশ ধরানো হয়। ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করায় ভবিষ্যতে তার ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানাচ্ছেন দিল্লির কর্তারা।

খবরে বলা হয় যে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেনেছে, ১৫ এপ্রিল রাতে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ফিরদৌস রায়গঞ্জ শহরের একটি হোটেলে ওঠেন। মন্ত্রণালয়ের কর্তারা তার খোঁজ করায় হোটেল-কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানান, ফিরদৌস রাতে হোটেলে থাকেননি।

তিনি ছিলেন তৃণমূলের এক জেলা নেতার বাড়িতে। যদিও মন্ত্রণালয়ের কর্তারা খবর পান, ওই অভিনেতা রায়গঞ্জের হোটেলেই ছিলেন। বাংলাদেশী অভিনেতার এ ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার খবর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও জানিয়েছে দিল্লি।

এক মুখপাত্র জানান, ভিসার শর্ত মানাই শেষ কথা নয়, বিদেশে গিয়ে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করা অনৈতিক। ফলে ব্যবস্থা নিতেই হচ্ছে।

ফিরদৌসের প্রচারে যোগদান নিয়ে এ দিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) আরিজ আফতাবের কাছে অভিযোগ করেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ বলেন, ‘‘কোনো বিদেশি নাগরিক কোনোভাবেই আমাদের দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে বা সরকার গঠনে নাক গলাতে পারেন না।

অর্থাৎ ভোটের প্রচারে নেমে জনমতকে প্রভাবিত করার অধিকার বিদেশি নাগরিকের নেই। তা সত্ত্বেও তৃণমূল ইসলামপুরে দুই বাংলাদেশী অভিনেতাকে এনে প্রচার করিয়েছে। কারণ, দলীয় কর্মী এবং নিজেদের শিবিরের চিত্রতারকাদের উপরে আর তাদের ভরসা নেই।’’

অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী অফিসার সঞ্জয় বসু জানান, এই ঘটনায় জেলা নির্বাচন অফিসার তথা জেলাশাসকের রিপোর্ট চাওয়া হয়। সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে।

ওই কমিশন সূত্রের ব্যাখ্যা, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর হয়ে বিদেশীদের প্রচারের বিষয়টি নির্বাচনী বিধিভঙ্গ কি না, সেটা কোথাও স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সম্প্রতি কোথাও এই ধরনের বিষয় সামনে আসেনি। সেই জন্যই বিষয়টি নিয়ে কমিশনকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

রাহুলবাবুর দাবি, ফিরদৌস-সহ দুই বাংলাদেশী অভিনেতাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। যে-তৃণমূল নেতা বা কর্মীরা তাদের ডেকে এনেছেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা উচিত। ‘‘

এক কদম এগিয়ে রাজ্যসভার বিজেপি সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘এই ঘটনাকে ছোট করে দেখলে চলবে না। কারণ, এই উদাহরণ থেকে গেলে পাকিস্তান থেকেও কেউ এসে এখানে ভোটের প্রচারে নেমে পড়তে পারেন।’’অভিযোগের জবাবে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’’

অমৃতবাজার/পিকে