ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ | ৫ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আলোচিত মেঘলা বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার!


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৪২ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রোববার
আলোচিত মেঘলা বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার!

বাংলাদেশে মডেলিংয়ের পরিচিত মুখ, উদীয়মান নায়িকা মেঘলা মুক্তা অভিনীত তেলেগু সিনেমা ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’ দেড়শ’টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে চলছে। সেখানকার দর্শক তাঁর অভিনয়ে অভিভূত হয়ে আনন্দে-বেদনায় একাকার। মেঘলায় বুদ হয়ে দর্শক যখন শিস দিতে দিতে বেরুচ্ছে সিনেমাহল থেকে তখন ভারতের হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এই বাংলাদেশি নায়িকা! এয়ার ইন্ডিয়ার গ্রাউন্ড স্টাফের কাছে ভয়ংকর নিগ্রহের শিকার হয়ে দর্শক-সমালোচকের থেকে পাওয়া ভালোবাসা ম্লান হয়ে যাচ্ছে লহমায়।

দেশে ফিরে মেঘলা জানিয়েছেন, এটা আমার জীবনের ভয়ংকরতম এক অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর আর কোনও যাত্রীই যেন আমার মতো নিগ্রহের শিকার না হন।

ছবি মুক্তি উপলক্ষে এর প্রচারণায় অংশ নিতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে হায়দরাবাদে উড়ে যান মেঘলা। সফল প্রচারণা আর অভিনয় প্রশংসা নিয়ে গেল ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন এই অভিনেত্রী। তবে টানা এক সপ্তাহে দক্ষিণের দর্শক-সমালোচকদের কাছ থেকে পাওয়া অসামান্য সেই ভালোবাসার প্রায় সবটুকুই ম্লান হয়ে গেল হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে। সেখানে এয়ার ইন্ডিয়ার এক গ্রাউন্ড স্টাফের কাছে ভয়ংকর নিগ্রহের শিকার হলেন ঢাকার মেয়ে মেঘলা মুক্তা।

দেশে ফিরে ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটাই জানালেন তিনি। বললেন, ‘অভিনেত্রী হিসেবে নয়, পৃথিবীর কোনও সাধারণ যাত্রীই যেন আমার মতো এমন অপমান আর নিগ্রহের শিকার না হন। এই প্রার্থনাই করছি সেদিনের পর থেকে। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা।’

কিন্তু সেদিন কী এমন ঘটেছিল? অভিনেত্রীরাও তো অন্যায় করতে পারেন! এমন অভিমতের বিপরীতে মেঘলা বললেন, ‘দেখুন ভুল বলেন আর অন্যায় বলেন, কিছু একটা তো হয়েছেই। তবে সেই ভুলের জন্য যে এত বড় মূল্য আমাকে দিতে হবে সেটি কল্পনাও করিনি।’

মেঘলা এবার বললেন সবিস্তারে, ‘‘যাত্রী হিসেবে আমার ক্যারি করার সুযোগ ছিল ২৮ কেজি। আমি সে হিসেবেই বন্দরে এসেছি। কিন্তু সেখানে আসার পর চেকইন কাউন্টার থেকে বললো আমার মালামালের ওজন ২৯ কেজি। মানে এক কেজি বেশি। তো এটা তো হয়েই থাকে। বাড়তি চার্জ দিয়ে দিলেই প্রবলেম সল্ভড। মূলত তখন থেকেই আমাকে অপমান করার শুরু। কিন্তু আমি সেসব গায়ে না মেখে বিনয়ের সঙ্গেই এয়ার ইন্ডিয়ার ঐ স্টাফকে বললাম, ‘বাড়তি এক কেজির জন্য আমি নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করছি। সমস্যা নেই।’ এর পরেও ঐ গ্রাউন্ড স্টাফ সুপারভাইজার কানিজ ফাতেমা আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করতে থাকলেন। বললেন, ‘পরিশোধ করতে হলে ক্রেডিট কার্ডে করতে হবে। আছে আপনার কাছে?’ বললাম, ‘না। আমার কাছে ডলার আছে। সেটি কনভার্ট করে আমি পরিশোধ করছি। একটু সময় দিন।’ তখন সেই ভদ্র মহিলা ক্ষেপে গিয়ে বললেন, ‘ক্রেডিট কার্ড নেই যখন আপনার বাসে চলাচল করা উচিত। বিমানে নয়!’’

মেঘলা আরও জানালেন, এভাবে অনেকক্ষণ ধরে সবার সামনে আমি যখন অহেতুক হেনস্তা হতে থাকলাম তখন একই বিমানের কয়েকজন যাত্রী এগিয়ে এলেন। তারা চাইলেন আমার ব্যাগের বাড়তি ওজন শেয়ার করতে। কিন্তু তাতেও কানিজ ফাতেমা রাজি হয়নি। উল্টো ঐ ভদ্রমহিলা সবার সামনে বলে বসলেন, ‘আপনি এখানে কোনও ব্যবসা বা চুক্তি করতে পারেন না।’ এরপর আমি নিজের পরিচয় দিলাম। বললাম, ‘আমি একজন অভিনেত্রী।’ এটা শুনে সে আরও বাজে ব্যবহার শুরু করলো। এরপর উপায় না দেখে বললাম, ‘আপনি একজন যাত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারেন না। আমি আপনার নামে কমপ্লেইন দেবো।’ তিনি হেসে উঠে আমাকে ভর্ৎসনা করে বললেন, ‘অভিযোগ করে কোনও লাভ নেই। করুন।’’

অবশেষে মেঘলা ডলার এক্সচেঞ্জ করে বাড়তি ওজনের ফি দিয়ে বিমান ছাড়ার আগমুহূর্তে ছাড়া পান।

মেঘলা মুক্তা সেদিন এয়ার ইন্ডিয়ার AI780 নম্বর ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন। সেদিন বিমানবন্দরেই এয়ার ইন্ডিয়ার অভিযোগ ডেস্কে বিষয়টি জানান। দেশে ফিরে এর প্রতিকারের জন্য বিমানটির সদর দফতরে একটি লিখিত অভিযোগও করেন তথ্য-প্রমাণসহ।

মেঘলা বললেন, ‘দেখুন আমি দেশে ফিরে সব ভুলে গেলেই পারতাম। কারণ, কাজের স্বার্থেই হায়দরাবাদে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে হবে এখন। কিন্তু আমি নিজের স্বার্থে সেদিনের অন্যায় অপমান হজম করতে চাই না। আমি চাই না, পৃথিবীর কোনও যাত্রী এমন ছোট্ট কারণে এত বড় অপমানের শিকার হোক। প্রতিটি যাত্রী সমান সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। একজন যাত্রীর কাছে ক্রেডিট কার্ড না থাকা মানে সে বিমানে চড়ার যোগ্যতা হারাবে! এই কথা বলার অধিকার একজন বিমান স্টাফ কেমন করে পায়? অতিরিক্ত ওজন হলে সেটির সমাধানও তো আছে। বাড়তি পে করতে হবে। করেছিও। কিন্তু বিনা কারণে আমি সেদিন একটা ঘণ্টা হেনস্তা হলাম। এটা তো মেনে নেওয়া অন্যায়। আমি এর বিচার দাবি করে যাবো। আমি এয়ার ইন্ডিয়াকে মেইল করে অফিশিয়াল লেটার দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে যৌক্তিক উত্তরের অপেক্ষায় আছি।’

অমৃতবাজার/পিকে