ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯ | ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সঙ্গীত জগতে নতুন বছরের পরিকল্পনা


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার
সঙ্গীত জগতে নতুন বছরের পরিকল্পনা

নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়েও হিসাব-নিকাশে বসেছেন সবাই। পুরনো বছরের জরাজীর্ণতা মুছে নতুন বছরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সাফল্যের দিকে পা বাড়ানোর প্রত্যাশা সবার। গানের জগতের মানুষরাও নতুন পরিকল্পনায় সাজাবেন তাদের নতুন বছর। কয়েকজন শিল্পী সে কথাই জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের পুরো বছরই গান নিয়ে মেতে ছিলেন বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর। বছরের শুরুতে ১০০ গান করবেন বলে জানিয়েছিলেন। বছর শেষে সেই টার্গেট পূরণও করেছেন। নতুন বছরের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন বছরে গানের টার্গেট আরও বাড়ালাম। এবার ১৫০। সুস্থ থাকলে আশা করি হয়ে যাবে। পাশাপাশি কিছু মিউজিক ভিডিওর কাজ করব। তবে সেটি ২০১৮ সালের চেয়ে কম।

কারণ তাতে মিউজিক ভিডিও করার খরচ কমাবে প্রডিউসাররা। তা ছাড়া নিজের কাছেও মনে হয়েছে মিউজিক ভিডিওর কাজ কিছুটা কমানো দরকার। সামনের বছরও নতুনদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। এ বছর দেশের বাইরে শো করার পরিকল্পনা আছে। শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটা ভালো, তাই স্টেজ শো করা হবে অনেক।’

২০১৮ সালে বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওর কাজ করেছেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। ফোকাস সব সময় সেখানেই ছিল। নতুন একটি মিউজিক ভিডিও দিয়ে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের যাত্রাও শুরু হয়েছে গেল বছর। কয়েকটি ভিডিও সেখান থেকে প্রকাশও হয়েছে। নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বছরের মূল পরিকল্পনা নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ডেভলপ করা। কারণ গান এখন ইন্টারনেট মাধ্যমেই প্রচার হয়।

শ্রোতা-দর্শকরাও সেখান থেকে নিজেদের পছন্দের গান বেছে নেন। এ বছর নিজের গান করার পাশাপাশি নতুন শিল্পীদের নিয়ে বেশ কিছু কাজ করার পরিকল্পনা আছে।’

গানের বাইরে আমার কোনো পরিকল্পনা কোনো বছরই থাকে না আরেক জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আঁখি আলমগীরের। তিনি বলেন, ‘সারা বছর একই গতিতে কাজ করে যেতে চাই। ঢাকার বাইরে বেশ কয়কেটি শো করার পরিকল্পনা আছে। দেশেরে বাইরেও শো করা হবে। এর বাইরে নতুন কোনো পরকিল্পনা নেই। কারণ আমি গানের বাইরে যেটুকু সময় পাই আমার মেয়েদেরকেই দেই।’

নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘কখন যে নতুন বছরে পা রাখলাম, টেরই পেলাম না। নতুন বছরে সবারই নতুন প্রত্যাশা থাকে। তবে প্রত্যাশা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আসলে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমার ক্ষেত্রে সেটা আরও বেশি। পরিকল্পনা করে কিছু করা হয় না। তারপরও পরিকল্পনা করতে হয়।

নতুন বছরে গান ও অ্যালবামকে ঘিরেই আমার সব পরিকল্পনা। এর বাইরে কিছু সিঙ্গেল গান প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। অন্যান্য অ্যালবামেও গান করা হবে। তা ছাড়া বাইরের স্টেজ শোগুলো তো থাকছেই।

প্লেব্যাকের কথা এখনই কিছু জানাতে পারছি না। কারণ চলচ্চিত্রের গানের অবস্থা আগের মতো নেই যে, ইচ্ছা করলেই গাইতে পারব। অনেক কিছু বোঝার বিষয় থাকে। আপাতত এর বাইরে কোনো পরিকল্পনা নেই।’

নতুন বছরের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সঙ্গীতশিল্পী মুহিন খান বলেন, এ বছর আমার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবারই আমার ক্যারিয়ারের এক যুগ পূর্ণ হচ্ছে। ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার কয়েকজন মিলে নতুন একটি প্রজেক্টের কাজ করব। পাশাপাশি নিজেরও গান নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে। স্টেজ শো করা হবে বেশি। সিঙ্গেল গানেরও কিছু পরিকল্পনা আছে।

২০০৮ সালে নিজের কোনো সলো গান নিয়ে আলোচনায় আসতে না পারলেও আসিফ আকবরের সঙ্গে একটি দ্বৈত গান নিয়ে বেশ আলোচনায় ছিলেন সালমা। তাই আলোচনায় থাকতে ২০১৯ সালের পুরোটা সময় ভালো কাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সালমা বলেন, ‘এ বছর পুরোদমে কাজ করতে চাই। ঠিক করেছি আমার ভক্তদের আর বঞ্চিত করব না। সিঙ্গেল গানের পাশাপাশি অ্যালবাম প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। কিছু দ্বৈত গানেও কণ্ঠ দেয়ার কথা আছে। অডিও গানের পাশাপাশি মানুষ এখন দেখতেও চায় কোন শিল্পী গান করছেন। তাই দর্শক চাহিদা অনুযায়ী কিছু গানের ভিডিও করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সুস্থ ধারার কিছু মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে। স্টেজ শো করব, তবে এবার দেশের বাইরের শো করা হতে পারে। ঢাকার বাইরের শো করার কথা আছে। সব কিছু মিলিয়ে নতুন বছরটি নতুন করে নিজের মতো করে নেব।’

অমৃতবাজার/ইকরামুল