ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘আলতা বানু’ আজকের দিনের শেষের কবিতা


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার
‘আলতা বানু’ আজকের দিনের শেষের কবিতা

শহরের সঙ্গে খুব পাল্লা দিয়ে বদলাচ্ছে বাংলাদেশের গ্রামগুলো। পাল্টাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি, হচ্ছে নতুন ও পুরনো বিশ্বাসগুলোর মিশ্রণ। তাই আজকের সিনেমায় বদলে যেতেই হবে চরিত্র, চরিত্রের ঘটনা এবং পরিণতিগুলো। সেই পরিবর্তনের হাওয়াটা অনুভব করা যায় জালালের গল্পে, মাটির প্রজার দেশে আর আলতাবানুতে। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের মাটি আর মানুষের নতুন গল্প।

আলতাবানু আমার কাছে আজকের দিনের শেষের কবিতা। শেষের কবিতার মূল উপজীব্য ছিল যুগসন্ধিক্ষণ, সেটার একটা ২০১৮ সালের রূপ আছে আলতাবানুতে। কুসংস্কার, সাইবার ক্রাইম, নারীবাদ, ওমেন ট্রাফিকিং, ছাত্রনেতা, ভাল-খারাপ দু`ধরণের পুলিশিং, গার্মেন্টস, সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্ট অন ওয়ারকিং এরিয়া, ভায়োলেন্ট দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ- তাও আবার ভিকটিম নারীর, দুটো ভিন্ন চেহারার দুটি আধুনিক নারী, জঙ্গিবাদের ইঙ্গিত, প্রতারণা, অব্যক্ত প্রেম- সমসাময়িক অনেক কিছু এসেছে আলতাবানুতে- কিন্তু সবচেয়ে অভাবনীয় বিষয় হচ্ছে এত সব কিছুতে ফোকাস সরেনি- বড়বোনের ছোট বোনকে খুঁজে বেড়ানোর জার্নিটার পরতে পরতে মিশে গেছে কনটেমপরারি কনন্টেন্টগুলো।

দর্শককে ধরে রাখার ক্ষমতা। আমার দুপুর একটায় একটা জরুরি কাজ ছিল, যেখানে ছবি শেষ হতে হতে পৌনে দুইটা। আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম, ঘণ্টা খানের আগে বেরিয়ে যাব, পারিনি, অরুনদা বসিয়ে রেখেছেন, কাজের বারোটা বাজিয়েছেন- তাতেও অনাবিল সুখ একটা দেশি চলচ্চিত্রই তো আটকে রেখেছে। বাংলাদেশের এক একটা ভাল সিনেমা আমার বুকের ছাতি আরেক ধাপ বড় করে দেয়।

মমর অভিনয়ের ক্ষমতার সঙ্গে আমি পরিচিত। ছুয়ে দিল মনে- তার ছিটে ফোটাই পেয়েছি। এখানে অনেকটা। স্যালুট করার মত পারফরমেন্স, গর্ব করার মত শিল্পী। মিলন ভাই- আহা। বিদেশের ওমেন ট্রাফিকিং এর সঙ্গে যুক্ত ভালমানুষের মুখোশ পরে থাকা নায়ক-চরিত্রের পরিণতিতে হয়ে উঠে প্রেমিক-ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মার খেয়ে ভুত হয়ে যায়- কিন্তু ভেতরের মানুষটা জেগে উঠে। কী সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে চরিত্রটি। আহা মিলন ভাই- অনেকদিন পর তোমাকে পেলাম। রিক্তা, রমিজ রাজু, অন্তু, সাবেরী আপা, দিলারা মা- কাকে বাদ দিয়ে কার কথা বলি। ভাল অভিনয়ের মেলা বসেছে আলতাবানুতে।

আলতা বানুর গল্পটা বুঝতে হলে আপনাকে মাথা খাটাতে, অরুনদা আপনাকে চামচে করে খাইয়ে দেবেন না। মূল গল্পের অনুসঙ্গ বুঝতে হলে, দেশের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক উপাদানগুলোর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আপনাকে কিছু লিঙ্ক মিলিয়ে নিতে হবে, যে লিঙ্কগুলো ছবির পরতে পরতে অরুনদা দিয়ে গেছেন। আমি তাই আলতাবানুকে স্মার্ট সিনেমার কাতারে রাখবো। আমার মতে স্মার্ট সিনেমার মূল গুণ এটাই।

আপনার পছন্দ নাও হতে পারে এরকম কিছু কিছু বিষয় আছে আলতাবানুতে- তবে পজেটিভ মন দিয়ে দেখলে সেগুলো আপনি ইগনোর করতে পারবেন অনেক অনেক ভাল বিষয়ের ভিড়ে। ইনফ্যাক্ট সেগুলো নিয়ে কথা বলার সময়ই পাবেন না। কেন্দ্রীয় আলতা চরিত্রের অস্থিরতা- খানিকটা সিনেমাটাকে সংক্রমণ করেছে আর তাতেই জাস্টিফিকেশন হয়েছে অস্থিরতাটা, তবে দু`একবার থিতু হয়ে বসলে কাঁদলে- কাঁদালে খারাপ লাগতো না হয়তো।

অমৃতবাজার/জয়