ঢাকা, রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হতাশায় ভুগছে অভিসার, মধুমিতায় জয়জয়কার!


আকাশ নিবির

প্রকাশিত: ০২:২৫ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শনিবার
হতাশায় ভুগছে অভিসার, মধুমিতায় জয়জয়কার!

সম্পতি ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে ১১৭টি হলে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান-বিদ্যা সিনহা মীম অভিনীত ‘আমি নেতা হব’। অন্যদিকে একই সাথে ২২টি হলে মুক্তি পেয়েছে অদ্রিত-পূজা চেরী অভিনীত দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘নূরজাহান’। যদিও গতকাল ঢাকায় জোনাকি আর মধুমিতাসহ সারাদেশে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শুক্রবারের তিনটা শো’তে হাউজ ফুল এর তকমাটা লাগিয়েছে ‘আমি নেতা হব’। আবার সিনেমাপ্রেমীরা আবার ফিরতে চলেছে। দেশীয় সিনেমায় তেমনটি চোখে পড়ল গতকালে সবে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘আমি নেতা হব’তে। এমনকি গতকাল ৬টার শোতে টিকিটের না পাওয়ার জন্য মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে দারোয়ানের মার পর্যন্ত খেতে হয়েছে সিনেমাপ্রেমী ভক্তদের।

ছবি প্রসঙ্গে মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, অনেকদিন পর হল মালিকদের মুখে আনন্দের হাসিও ফুটেছে। যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিং খান খ্যাত শাকিব খানের জোয়ারটাই বেশি সেহেতু সারা বাংলাদেশে ‘আমি নেতা হব’ এর দিক থেকে শাকিব খানই এগিয়ে। প্রথমে আমার ম্যানেজার খুব হতাশার মধ্যেই ছিলো। কেননা শাকিব-অপুর বিয়ে, বাচ্চা নিয়ে দর্শকদের মনে হয়তো কোন ধকল গিয়েছে। সেই নিয়ে আমি আমার হলের ম্যানেজার সহ নিজেই বেশ টেনশনেই ছিলাম। কিন্তু ৬টার শো শেষ না হতেই আমার ম্যানেজারের মুখে হাসি দেখতে পাচ্ছি। বেশ করে প্রায় কয়েক মাস পর তিনটা শোতে হাউজফুল দেখে আমারও খুব ভালো লাগছে। আমি সত্যি অনেক খুশি আমাদের দেশীয় সিনেমায় আবারও ফিরতে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, অভিসার হল থেকে আমাকে ফোন দিয়েছিল। তারা ‘নেতা হব সিনেমা’ না চালিয়ে বেশ হতাশায় ভুগছে আর আফসোস করছে। যতদূর জানি তাদের ছবি খুব বেশি দর্শক টানতে পারছে না। কেন যেন দর্শকও যৌথ প্রযোজনার ছবি নিতে চাচ্ছে না। অন্যদিকে অনেকেই আমাদের দোষারোপ করে, সিনেমা হল থেকে প্রযোজক নাকি টাকা ফেরত পায় না। কই গতকালের সিনেমায় তো বলায় আছে ৫০-৫০%। আমার প্রথম শো’তে প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকার মত টিকেট বিক্রি হয়েছে। তারা তো আবার দিনের টাকা দিনেই ভাগাভাগি করে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই শাপলা মিডিয়ার মত সবাই ৫০% এ আসেন। সিনেমা ব্যবসা করলে তো আমাদের টাকা দিতে কোন সমস্যা নেই। অন্যথায় কারো সিনেমায় যদি ৪-৫ জন দর্শক হয়! তাহলে আমি কিভাবে তাদের টাকা ফেরত দিব। আমার সব সময় শুভ কামনা থাকবে দেশীয় ছবির প্রতি।

"/

অন্যদিকে ধূমকেতুখ্যাত পরিচালক সফিক হাসান বলেন, আসলে আমাদের দেশের মানুষ যে এখনও সিনেমা দেখে তার প্রমান গতকালই আমরা পেয়েছি। এটাই হলো দেশকে ভালবাসা আর দেশের প্রতি টান। আমাদের দেশে শাকিব খান শুধু নয়। যে কোন নায়ক-নায়িকার সিনেমা হলে গিয়ে দেখবে। এটাই আমরা চাই। প্রতিটি সিনেমা গল্প, গান, লোকেশন ভালো থাকে, সে সিনেমা সব সময় চলবেই। আর এ যাবৎ বিদেশি সিনেমা আমাদের দেশে কোন চলেনি আর কোনদিন কোনদিনও চলবেও না। সেটা যতবড় ছবিই হোক। তার প্রমাণ কলকাতার জিৎ এর সিনেমা। সেই সিনেমা কিন্তু আমাদের দেশের দর্শক সাদরে গ্রহণ করেনি। পরিশেষে আমি দর্শকের উদ্দেশে একটি কথাই বলব—বাংলাদেশের সবারই ছবি দেখুন আর বাংলাদেশকে ভালবাসুন। তাহলে আমি কিংবা আমরা আরো ভালো ছবি আপনাদের উপহার দিতে পারব।

সিনেমাটি নিয়ে এক শাকিব ভক্ত বলেন, আমরা আগের শাকিব খানকে এই সিনেমায় তেমনটা পাইনি। আমরা সকলেই জানি, সেই শুটিং এর সময় তার উপর মামলা-হামলা-ঝামেলা নিয়ে খুব চাপ ছিলো। হয়তো সেই জন্য নিজের অভিনয় থেকে এদিক-সেদিক সরে গিয়েছিলো। তবুও আমরা তাকে মেনে নিয়েছি। শাকিব খান আমাদের বস্। বাংলাদেশের সেরা নায়ক। আমরা সব সময় তার সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

অমৃতবাজার/নিবির/মাসুদ