ঢাকা, রোববার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নারীদের অস্থিরতা ও নির্যাতন নিয়েই মার্তার ‘আরোরাবরেলিস’


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৭, সোমবার
নারীদের অস্থিরতা ও নির্যাতন নিয়েই মার্তার ‘আরোরাবরেলিস’

হাঙ্গেরির পরিচালক মার্তা মেসজারোস পরিচালিত ‘আরোরাবরেলিস’ ফেস্টিভ্যালের একটি গুরুত্ব পূর্ণ চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে জানার আগে পরিচালক সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার। ইউরোপের পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্তা। কান, বার্লিন, ভেনিস এবং মস্কোসহ বিশ্বের সকল বড় ফেস্টিভ্যালে তার চলচ্চিত্র দেখানও হয়েছে। পরিচালক মার্তা অনেক চলচ্চিত্রে পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।

১৯৬৮ সাল থেকে চলচ্চিত্র জগতে আছেন তিনি। ৮৬ বছর বয়সের এই নির্মাতার চলচ্চিত্র দেখলে মনে হয় একজন ইয়ং অ্যান্ডইনোসেন্ট মহিলা জীবনের প্রথম পর্যায়ের চলচ্চিত্র তৈরি করছে । এমন প্রতিভা সকলের মধ্যে থাকে না। তার চলচ্চিত্রর বিষয়বস্তু খুবই সহজ সরল। একজন নারীর চোখ দিয়ে খুবই সূক্ষ্ম ও সুচারু ভাবে তিনি জগতকে দেখাতে পছন্দ করেন।

মার্তা যখন চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন, তখন ইউরোপ তথা বিশ্বচলচ্চিত্র জগতে রাজত্ব করতেন গোদার, তারকভস্কি, জাবো, অ্যালারেনে, ওয়াইদার মতো অন্যতম ইউরোপিয়ান পরিচালকরা। এই সময়ে নিজেকে প্রতিষ্টিতা করা ভিষণ চ্যালেঞ্জিং ব্যপার ছিলো। তিনি নিজেকে প্রতিষ্টিতা করতে পেরেছিলেন তার সততা ও সারল্যের মাধ্যমে। তিনি সোভিয়েত অধিগৃহীত হাঙ্গেরিতে কৈশোর এবং যৌবন কাটিয়েছিলেন। তার চলচ্চিত্রে বারবার সেই সময়ের গল্পই ফিরেফিরে আসে।

ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার সমেয় গল্প বলার জন্য তখন অনেক পুরুষ পরিচালক ছিলেন। কিন্তু, নারীদের অস্থিরতা ও নির্যাতনের ভিন্ন রূপ উপলব্ধি করা ও চলচ্চিত্রে সেটা দেখানোর জন্য একমাত্র ছিলেন মার্তা। ‘অরোরা বরেলিস’ চলচ্চিত্রেও আর একবার তিনি এই গল্পই বলেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপের রাশিয়ান কমিউনিস্ট অপশাসন ও ডিক্টেটরশিপের মাঝে মারিয়া নামক একজন ইনোসেন্ট মেয়ের জীবনযুদ্ধের গল্প আমরা এই চলচ্চিত্রে দেখতে পাই। মার্তার চলচ্চিত্রের বিভিন্ন নারীচরিত্রগুলোকে দেখলে মনে হয় এই নারী যেন মার্তা নিজে। এই ধরনের গভীর জীবনবোধ উপলব্ধি না করতে পারলে এমন ভাবে চলচ্চিত্র তৈরি করা যায় না।

অমৃতবাজার/ইকরামুল

Loading...