ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিপিবি সমাবেশে বোমা হামলা: ১৯ বছর পর রায় আজ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
সিপিবি সমাবেশে বোমা হামলা: ১৯ বছর পর রায় আজ

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলার ১৯ বছর পর রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার মামলায় ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাচ্ছি। আশা করি, আদালত সব আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেবেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাইনউদ্দিন আসামিদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে আসামিরা নির্দোষ। আমরা আসামিদের নির্দোষ খালাস দাবি করছি।

মামলার আসামিরা হলেন- হুজির নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, হুজির সদস্য মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নূর ইসলাম। আসামিদের মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য মামলায়। আর শেষের সাতজন পলাতক।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে ভয়াবহ বোমা হামলায় ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের নেতা মোক্তার হোসেন। ওই ঘটনায় আহত খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বোমা হামলায় আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী।

হামলার ঘটনায় সিপিবির তত্কালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরপর ফের শুরু হয় এ মামলার তদন্ত। সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১০৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২ ডিসেম্বর আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

অমৃতবাজার/আরইউ