ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনি নোটিশ


কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনি নোটিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্বিখণ্ডিত না করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ভূমি অধিগ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি পাস হওয়া মেগা প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৩ কি. মি. দূরে জমি অধিগ্রহণ করে ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর আন্দোলনের পর তাদের পক্ষ থেকে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

তবে এই ‘উকিল নোটিশকে গুরুত্ব দিচ্ছি না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

জানা যায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামাল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাবাসীর ১৩ জন বাদীর পক্ষে গত ৩০ মে এ আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন। তবে ওই সময় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সম্প্রতি বিষয়টি আলোচনায় আসে।

আইনি নোটিশ প্রেরণের ব্যাপারটি নিশ্চিত করে নোটিশদাতা আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, গত ৩০ মে সংশ্লিষ্টদের বরাবর এলাকাবাসী কয়েকজনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেছি। যেহেতু এখনো তারা নোটিশের ব্যাপারে কোন জবাব দেননি তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

নোটিশটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইউজিসির চেয়ারম্যান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা পুলিশ সুপার, কোটবাড়ী পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্বিখণ্ডিত করার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমান ক্যাম্পাসের সাথে নতুন ক্যম্পাসের সাথে একটি সুপ্রশস্ত নিজস্ব সংযোগ রাস্তা করে দেবে এমন আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে ফিরে আসে।

তবে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ অক্টোবর ২০১৮ একনেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদনের বিষয়টি জানার পর একটি প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এলাকায় (ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত এলাকা) প্রায় ১ বছর আগে বিশাল সম্পত্তি কিনে নিয়েছে।

নোটিশটিতে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভূমি অধিগ্রহণে কুমিল্লা সদর উপজেলার লালমাই মৌজার অন্তর্ভুক্ত ৭, ৯, ১২ ও ১৩ নং সিটের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। উক্ত জমি বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্বিখণ্ডিত করার মধ্য দিয়ে প্রভাবশালী এ মহলটি গভীরে চক্রান্ত করছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমান ক্যাম্পাসটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাস্পাস সম্প্রসারণে যেকোনো শর্তে ভূমি দিতে প্রস্তুত বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও শালবন বিহার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, ‌‌‌‘আমরা সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের এই উদ্যোগকে স্বাগতম জানাই। তবে আমাদের দাবী ক্যাম্পাসের পাশেই পর্যাপ্ত খালি জায়গা রয়েছে এবং এলাকাবাসী যে দামে দূরে জায়গা নেয়া হচ্ছে সেই দামেই ক্যাম্পাস সংলগ্ন জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দিতে প্রস্তুত।’

নোটিশ প্রেরণের তারিখ হতে ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশ দাতাগণের প্রার্থীত দাবির প্রক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘একটি মহল ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা করছে। বর্তমান ক্যাম্পাস সংলগ্ন যাদের জমি আছে তারা যে কোন শর্তে জমি দিতে প্রস্তুত এবং এ ব্যাপারে তারা হাইকোর্টেও লিখিত দিয়েছে। আমরা অখণ্ড ক্যাম্পাস চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, সরকার আমাদের যেদিকে জায়গা দিয়েছে আমরা সেদিকেই নিব। এই উকিল নোটিশ আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না। তবে এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা আব্দুল মতিন খসরু (এমপি) এর সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

অমৃতবাজার/মাহফুজ/আরএইচ