ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘দণ্ডিত ব্যক্তি ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলে সংবিধান লঙ্ঘন হবে’


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
‘দণ্ডিত ব্যক্তি ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলে সংবিধান লঙ্ঘন হবে’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি-কোনো আদালত এ রকম আদেশ দিতে পারেন না; যাতে সংবিধানের একটি বিধান অকার্যকর হয়ে যায়। দণ্ডিত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হলে সম্পূর্ণভাবে সংবিধান লঙ্ঘন হবে।

খালেদা জিয়ার রিটের বিষয়ে বিভক্ত আদেশের পর মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তার ভাষ্য-বিষয়টি তো আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কোনো ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার পক্ষে তিনটি রিট পিটিশন হয়েছিল। সোমবার সারা দিন এ পিটিশনের শুনানি হয়েছে। আজ আদেশে দুজন বিচারপতির মধ্যে একজন বিচারপতি রুল, স্টে ও ডিরেকশন দেয়ার পক্ষে ছিলেন। অন্যজন তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। যেহেতু দুজন বিচারপতি ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেননি, সেহেতু এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে, বললেন মাহবুবে আলম।

‘প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি পরবর্তী বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। এতে আইনগত অবস্থা দাঁড়াল এখন পর্যন্ত উনি কোনো আদেশপ্রাপ্ত হননি।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দুই বছরের বেশি সাজা পেলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া যায় না।

বিএনপি নেতা ইকবাল মাহমুদ টুকু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়ন গ্রহণে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওনারা অনেক আগেই এই দণ্ড স্থগিত করার জন্য আবেদন করেন। সেই পিটিশন হাইকোর্টে এলাও করা আছে এই যুক্তিতে একটি বেঞ্চ তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আদেশ দিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার এ আবেদনে দ্রুত শুনানি শেষ হবে কিনা-প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটি নিশ্চিত প্রধান বিচারপতি দ্রুত শুনানির আদেশ দেবেন। যত তাড়াতাড়ি এ বেঞ্চ আদেশে সই করে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাবে। প্রধান বিচারপতি তড়িৎগতিতে ব্যবস্থা নেবেন।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা কীভাবে নির্বাচন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাজমুল হুদার ব্যাপারে আমি জানি না, কি যুক্তিতে তাকে দেয়া হয়েছে। তার কাগজপত্র না দেখে আমি কোনো কথা বলতে পারব না।

‘কিন্তু যেই কাগজপত্রগুলো আমার সামনে আছে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে, তিনি তো দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি এবং এখনও তিনি দণ্ড ভোগ করছেন। তার ব্যাপারে কোনো তর্কের অবকাশ নেই। যেহেতু এখন বিচারাধীন আছে আমি এর বেশি কিছু বলব না।

তিনি বলেন, তবে আমার অভিমত হল-সাংবিধানিক যে বিধিবিধান আছে, সেটি হল দেশের সর্বোচ্চ আইন। দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে যদি নির্বাচন করতে দেয়া হয়, তা হলে টোটালি সংবিধান লঙ্ঘন করা হবে।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। কিন্তু মঙ্গলবার এ বেঞ্চ থেকে দ্বিধা বিভক্ত আদেশ আসে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে খালেদা জিয়ার নির্বাচনের ভাগ্য আটকে যায়।

অমৃতবাজার/ইকরামুল