ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ইডেনের ছাত্রী সাদিয়া হত্যা মামলায় ৮ আসামি খালাস


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
ইডেনের ছাত্রী সাদিয়া হত্যা মামলায় ৮ আসামি খালাস

ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী সাদিয়া নূর মিতা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য তাদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেওয়া হলো।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফজলুল হক খান ফরিদ ও এস এম শাহজাহান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল।

রায়ের পর মনিরুজ্জামান রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আদালতের পর্যবেক্ষণের আলোকে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩০ আগস্ট গোপালগঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী সাদিয়া নূর মিতা। পরে মিতার মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মিতার বাবা লিয়াকত হোসেন মোল্লা গোপালগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়, মিতা যে ঘরে ঘুমিয়েছিল সেখানে তার সঙ্গে একই বিছানায় তার আপন ছোট বোন অন্তরা এবং তার চাচাত বোন শ্রাবণী ঘুমিয়েছিল। তবে এজাহারে মিতাকে ঘর থেকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কাউকে সন্দেহ করা হয়নি। পরে এর ভিত্তিতে শ্রাবণী এবং শ্রাবণীর ভাই মনি, জনিসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। রায়ে আসামি নিপুন, মামুন ও ডগু খন্দকারকে মৃত্যুদণ্ড এবং তুষার কাজী, জনি, শ্রাবণী ও শেখ নাজমুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া অপর আসামি মনিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ডেথ রেফারেন্স ও অন্যান্য আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও বিধি অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আবেদন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উভয়পক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার রায় দেন হাইকোর্ট।

অমৃতবাজার/শাওন