ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধ: লিয়াকত-আমিনুলের মৃত্যুদণ্ড


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার | আপডেট: ০১:৫৯ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
মানবতাবিরোধী অপরাধ: লিয়াকত-আমিনুলের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়াকরি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে আদালত। তাদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে সাজা কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (৫ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।

গতকাল রোববার এ মামলার রায়ের তারিখ ঠিক করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল গত ১৬ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম।

মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখাইয়ের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক লিয়াকত আলী ও কিশোরগঞ্জের আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ পায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৮ মে দুই যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। একই বছরের ১ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর প্রসিকিউশন পক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিদের পক্ষে কেউ সাক্ষী দেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত লিয়াকত আলী হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি হয়।

আসামি লিয়াকত আলী ১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে ফান্দাউক ইউনিয়নে রাজাকার কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। অন্য আসামি রজব আলী ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘের ভৈরব হাজী হাসমত আলী কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে অষ্টগ্রামে আল বদর বাহিনী গঠন করে কমান্ডার হন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে দালাল আইনে তিনটি মামলা হয় এবং ওইসব মামলার বিচারে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। ১৯৮১ সালে রজব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ‘আমি আলবদর বলছি’ নামে বই লেখেন।

অমৃতবাজার/সুজন