ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চোখ হারানো সেই ২০ জনের ক্ষতিপূরণের রায় ২১ অক্টোবর


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৮, সোমবার
চোখ হারানো সেই ২০ জনের ক্ষতিপূরণের রায় ২১ অক্টোবর

চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে ২০ জনের চোখ হারানোর ঘটনায় হাইকোর্টের জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামি ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে রায় দেওয়া হবে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত।

এর আগে গত ১ এপ্রিল ‘চোখ হারানো’ এই ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ‌চোখ হারানো’ ২০ জনকে এক কোটি টাকা করে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন এক আইনজীবী।

‘চক্ষুশিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন! শীর্ষক শিরোনামে ২৯ মার্চ বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ আসে। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষুশিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। তবে বাসায় ফিরেই ২০ জন রোগীর চোখে সমস্যা দেখা দেয়।

৫ মার্চ অস্ত্রোপচারের পর ৬ মার্চ তাদের প্রত্যেককেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে ওই দিনই কারো বিকেলে, কারো সন্ধ্যায়, কারো বা রাত থেকে চোখে যন্ত্রণা ও পানি ঝরতে শুরু করে। পরের দিনই তারা যোগাযোগ করে ইমপ্যাক্ট হাসপাতালে। তাদের তখন গুরুত্ব না দিয়ে কোনো রকম চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু যন্ত্রণা অসহনীয় হয়ে উঠলে ফের তারা ইমপ্যাক্টে যায়। সেখান থেকে তখন কয়েকজন রোগীকে স্থানীয় এক চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্থানীয় ওই চক্ষু বিশেষজ্ঞ তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এদের মধ্যে চারজন রোগী নিজেদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্বজনদের নিয়ে ঢাকায় আসে। পরে ইমপ্যাক্ট থেকে ১২ মার্চ একসঙ্গে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ৫ মার্চের ওই অপারেশনের ফলে তাদের চোখের এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে, ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়।

অমৃতবাজার/সুজন