ঢাকা, রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রিমান্ড শেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্র কারাগারে


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার
রিমান্ড শেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্র কারাগারে

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের নবম দিনে পুলিশের উপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দুই মামলায় বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থসাউথ, সাউথইস্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার আসামিদের মধ্যে ২০ জনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে এবং দুই জনের জামিনের আবেদনের শুনানি রোববার ধার্য করে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।

বাড্ডা থানার মামলায় কারাগারে যাওয়া ১৪ ছাত্র হলেন- রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক, রিসালাতুল ফেরদৌস, হাসান ও রেদোয়ান আহমেদ।

আর ভাটারা থানার মামলায় কারাগারে যাওয়া ৮ ছাত্র হলেন- ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান, আজিজুল করিম ও মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ।

এদিন দুই দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার দুই তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আসামিপক্ষে ঢাকার বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান হওলাদার, একেএম মহিউদ্দিন ফারুক, কামরুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের জামিন আবেদন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন শুনানিতে বলেন, আসামিরা সবাই ছাত্র হলেও এজাহারে তা উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। আমরা কেউ সমাজের বাইরে নই। আপনিও (বিচারক) জানেন তাদের সঙ্গে কী হয়েছে। ঘটনার দিন যারা মার খেল আর তারাই আসামি হলো। বাংলাদেশের মানুষ সবাই জানে ছাত্রদের কোনো অপরাধ নেই। জামিন না পেলে তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যে কোনো শর্তে আসামিদের জামিনের প্রার্থনা করেন আইনজীবীরা।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ।

জামিন বাতিল শুনানিতে তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা পুলিশের ওপর হামলার কথা স্বীকার করেছে। ছাত্ররা ছাত্রদের মতো করে চলবে। কিন্তু তারা সবাই সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত। সরকারকে উৎখাতের জন্য তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। ছাত্ররা রাস্তায় নামতেই পারে, আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু তারা কী ধরনের আন্দোলন করেছে, তা সবাই দেখেছে।

অমৃতবাজার/সুজন