ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এ মাসেই শ্রম আইন ২০০৬ -এর সংশোধনীর প্রাথমিক খসড়া


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭, শুক্রবার
এ মাসেই শ্রম আইন ২০০৬ -এর সংশোধনীর প্রাথমিক খসড়া

দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটি চলতি মাসেই আইন সংশোধনের প্রাথমিক খসড়া এবং আগামী নভেম্বর মাসে খসড়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন , শ্রম আইন ২০০৬ -এর সম্ভাব্য সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটি এ পর্যন্ত তিনটি বৈঠক করেছে। এই কমিটি চলতি মাসেই আইনের সম্ভাব্য সংশোধনী খসড়া দাখিল করবে। আগামী নবেম্বর মাসে চূড়ান্ত সংশোধনী সরকারের কাছে দাখিল করা হবে। এছাড়া শ্রম আইন ২০০৬ এর আগেও ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৩ সালে তিন দফা সংশোধন করা হয়েছে এবং ২০১৫ সালে আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের বিদ্যমান শ্রম আইনটি শ্রমিক বান্ধব ও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দেয়ায় এই আইনটি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ব্রাক সেন্টারে এই আইনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বৃহস্পতিবার হতে তিনব্যাপী ত্রিপক্ষীয় কমিটির বৈঠক শুরু হয়।শনিবার এ বৈঠক শেষে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরকারের কাছে দাখিল করা হবে।

‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ সংশোধন বিষয়ক কমিটি’ গঠন করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি আদেশ জারি করা হয়েছে। নয় সদস্যের এই কমিটির সদস্যরা হলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি,বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের উপদেষ্টা কামরান টি রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সদস্য আব্দুস সালাম খান ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের চৌধুরী আশিকুল আলম। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (শ্রম) কমিটির সদস্য সচিব কাম কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রম আইন সংশোধন প্রসঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ ও সুস্থ শ্রম পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জন ও বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সময়ে সময়ে আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন সংশোধন করা হয়। সুস্থ শ্রম পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, মালিক- শ্রমিক সুষ্ঠু সমন্বয় এবং শ্রম অধিকার সুনিশ্চিতের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ প্রণয়ন করা হয়েছে যা ২০০৯, ২০১০ এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে তিনটি ধাপে সংশোধন করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৫ জুন শ্রম আইন সংশোধনের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার জন্য ত্রিপক্ষীয় (সরকারি, মালিক ও শ্রমিক) সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এই কমিটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করে সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে জমা দিবে। শ্রম আইন সংশোধন কমিটি সংশোধনের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটিকে কার্যপদ্ধতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

বাংলাদেশের শ্রমমান ও শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশের শ্রম আইনের সংশোধনী আনা, ইপিজেড আইনে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়ন বিরোধী বৈষম্যের তদন্ত করা এবং ইউনিয়নের নিবন্ধন স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে করার কথা বলা হয়েছিল।
এছাড়া দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও শ্রম আইন সংশোধনের দাবি করে বেশ কিছু সংশোধনী আনার প্রস্তাব কমিটির কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নেতা বাসসকে জানান।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ হাজার ৫ শ’৩৭ টি ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকর রয়েছে। সকল ট্রেড ইউনিয়নের নেতাই শ্রম আইনে শ্রমিকদের স্বার্থ বিরোধী বিধি-বিধান গুলি বাতিল করে শ্রমবান্ধব শ্রম আইন প্রণয়ন করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন।

অমৃতবাজার/অনির্বান

Loading...