ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাঁকড়ার সাংবাদিক পরিচয়ধারী সেই বিল্লাল-জব্বার পুলিশের খাঁচায়


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ১৭ মে ২০২০, রোববার
বাঁকড়ার সাংবাদিক পরিচয়ধারী সেই বিল্লাল-জব্বার পুলিশের খাঁচায় বিল্লাল হোসেন ও আব্দুল জব্বার- ফাইল ফটো

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ার সেই সাংবাদিক পরিচয়ধারী বিল্লাল হোসেন ও আব্দুল জব্বারসহ চারজনকে আটক করেছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর মোল্যাপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

পরে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির করা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শহিদুল ইসলাম জানান, তার বড় ভাই আব্দুল হাই সিদ্দিক একজন নিকাহ রেজিস্টার (কাজী)। তিনি বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে পড়ানোর কাজ করে থাকেন। ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. লিটন এবং কেফায়েতনগর গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে অঞ্জলী খাতুনের বিয়ে হয়। তিনি তাদের নিকাহ রেজিস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। বিয়ের পর লিটন কেফায়েতনগরে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন। এরই মধ্যে লিটন তার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেন। কিন্তু জামাই লিটনের অজান্তে তার শাশুড়ি গরুটি বিক্রি করে টাকা বড় জামাইকে দেন।

তিনি আরো জানান, এ বিষয়টি লিটন জানতে পেরে রাগারাগি করে স্ত্রীকে নিয়ে ফুলবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। এ ঘটনার পর অঞ্জলী খাতুনের মা তার মেয়ের বাল্যবিয়ে হয়েছে বলে প্রচার করেন। এ সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা শনিবার কাশিমপুর মোল্যাপাড়ায় কাজী শহিদুল ইসলামের বাড়িতে আসেন।

তারা এ সময় নিজেদের মানবাধিকারকর্মী এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি (শহিদুল) অঞ্জলী খাতুনের বাল্যবিয়ে পড়ানোর কাজ করেছেন। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তারা এই বাল্যবিয়ে সম্পর্কে তদন্ত করতে এসেছেন। বাল্যবিয়ে পড়ানোর অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। নতুবা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেন।

পুলিশ জানায়, সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী চারজনকে আটক করেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় তাদের কাছে মানবাধিকারকর্মী এবং সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন নিশ্চিত হন তারা প্রতারক। পরে আটক তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে ফুলবাড়ি ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই কানু চন্দ্র জানান, আটককৃতরা অখ্যাত পত্রিকার সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পরিচয় দিলেও কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। ফলে সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, আটক প্রতারকদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম। রোববার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহেদ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন পেশায় গরুর দালাল এবং মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল জব্বার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গোন্ডি পার হয়নি। ছোট বেলায় পিতার সাথে আইসক্রিম ও ভাজা বিক্রয় করতেন। পরে ভারতে নারী পাচারকারী হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন। তার নামে নারী পাচারের মামলাও হয়েছিল। লিয়াকত আলীর ছেলে তারিফুল ইসলাম শিমুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও আনছার ভিডিপির সদস্য।

অমৃতবাজার/আরএইচ