ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রতিবাদ দিয়ে সক্রিয় চৌগাছার সেই মাদক কারবারিরা


যশোর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০২:১৮ পিএম, ০১ মে ২০২০, শুক্রবার
প্রতিবাদ দিয়ে সক্রিয় চৌগাছার সেই মাদক কারবারিরা

যশোর চৌগাছা উপজেলার বড়বাড়ি ও রাজাপুর গ্রামের মাদক কারবারিরা স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবাদ দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল যশোরের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের মাদক কারবার নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ হয়। কিন্তু যশোর পুলিশের চোখে ধুলো দিতে ও প্রকৃত কারবার আড়াল করতে পহেলা মে যশোরের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদের প্রতিবাদ দিয়েছে ওই চক্র।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবাদ নিয়ে গ্রামে হাস্যরসের গল্প তৈরি হয়েছে। তারা সত্যিই চিহ্নিত মাদক কারবারি।

সরেজমিনে জানা যায়, রাজাপুর গ্রামের জাফরিন পাশ, আব্দুস সালাম, মুকুল মিয়া, বড়বাড়ি গ্রামের শুকুর আলী, আতিয়ার রহমান, আসকুল মিয়া আশিকুর, তোতা মিয়া, ইউছুপ আলীসহ ৩০ মাদক কারবারি রয়েছে। এই চক্রটি প্রতিদিন ১০ লাখ টাকার উপরে মাদক বেচাকেনা করেন বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকাবাসী ভয়াবহ এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শুধু তাই নয়, পবিত্র রমজান মাসে যখন মানুষ সিয়াম সাধনায় ব্যস্ত। করোনা নিয়ে যখন ঝিনাইদহের পুলিশ, র‌্যাব ও জেলা প্রশাসন ব্যস্ত তখন মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি নির্জন বাগানে পেশাদার কয়েকজন মাদকসেবী নিশ্চিন্তে গাঁজার আসর বসিয়ে ফূর্তি করছে।

এলাকার সচেতন মহল তাদের নিষেধ করলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। হাবিবুর রহমান রাসেল যিনি নিজেকে গণটেলিভিশনের ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দেন। তার নেতৃত্বেই এই গাঁজার আসর বসেছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চৌগাছা উপজেলার ১৬৭ গ্রামের প্রায় ১৫০ স্পটে গাঁজা, মদ, হেরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি হয়। প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে গাঁজা সেবনের আড্ডার আখড়া। বিশেষ করে বড়বাড়ি, রাজাপুর, চানপুর, দিঘলসিংহা, ঢেঁকিপোঁতা, মনমথপুর, কাবিলপুর, মাশিলা, টেঙ্গুরপুর, আন্দুলিয়া, শাহাজাদপুর, বল্লভপুর, পুড়াপাড়া, রামকৃষ্ণপুর, ফাঁসতলা, বড়খানপুর, বুন্দলীতলা, দৌলতপুর, সলুয়া, নিমতলা, চান্দা আফরার মোড়, কয়ারপাড়া, লশকারপুর, পুড়াপাড়া, মশিউরনগর মোড় এলাকায় মাদকের বিস্তার বেশি। এসব এলাকায় প্রতিনিয়ত মাদক বিক্রি হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চানপুরের ফারুক, তরিকুল, মফা, খালিদ, লিটন, বাবুল, রফিকুল, বুদো, আকতারুল, মনমথপুরের শরিফুল, মিজানুর, শাহীন, বিশ্বাসপাড়ার আনোয়ার, কারিগরপাড়ার বাদল, সামাদ, পশ্চিম কারিগরপাড়ার ইমরান মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া চৌগাছা বাজারের জাহিদ ও হাফিজুরের চায়ের দোকানে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্ত এলাকার ১৫ জন ইউপি সদস্য (মেম্বার) মাদক কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। মাদকের মামলায় মাঝেমধ্যে জনপ্রতিনিধিরাও গ্রেফতার হচ্ছে। এ ছাড়া মাদক সেবনের তালিকায় রয়েছে চেয়ারম্যান, কলেজ অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তি। মাদক কারবার করে কোটি টাকার মালিকও হয়েছে অনেকে। মাদক কারবারের অভিযোগে মাদকসম্রাট কাবিলপুরের একসের আলী ও তার ড্রাইভারের নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

জানতে চাইলে চৌগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিফাত খান রাজীব বলেন, তিনি মাদক কারবারীদের তথ্য জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যে বড়বাড়ি ও রাজাপুর গ্রামের মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যারা পত্রিকায় প্রতিবাদ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে জোর তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ নির্দোষ থাকলে তাকে হয়রানি করা হবে না। তবে, যদি কেউ মাদকের সাথে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদকের ব্যাপারে চৌগাছা থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন বলে তিনি জানান।