ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছায় করোনা সচেতনতা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে চলছে মোবাইল কোর্ট


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ১২:০০ এএম, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার
ঝিকরগাছায় করোনা সচেতনতা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে চলছে মোবাইল কোর্ট

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের কঠোর নিদের্শনা থাকার স্বর্তেও সাধারণ মানুষের মাঝে তেমন কোন প্রভাব দেখা দিচ্ছে না। মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা, পৌরসভা ও প্রত্যেক ইউনিয়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশ থেকে দেশে আসা মানুষকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য  প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারির রুপ নিয়েছে। এই মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য সরকারের নিদের্শনা মোতাবেক ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে সদস্য সচিক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে।

এছাড়া পৌরসভা ও ১১ টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একজন কলেজ প্রতিনিধি, একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ২ জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সকল ইউপি সদস্য, সকল সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার সকল জায়গায় মাইকিং, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ৫শ মসজিদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ইমামদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নিয়মগুলোর আলোচনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানার তৈরির কাজ চলছে। এগুলো হয়ে গেলে প্রত্যেক হাট-বাজার ও মোড়ে টাঙ্গানো হবে। জনসমাগম এড়ানো ও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উপজেলার কায়েমকোলায় হোম কোয়ারেন্টাইন না মানার জন্য আবু ছালেহ নামে এক বিদেশ ফেরতকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিস্কুট খোলা জায়গায় রাখায় ভোক্তা অধিকার আইনে মোবারকপুর গ্রামের দোকানদার রাজ হোসেনকে দুই হাজার, পিয়াজ বেশী দামে বিক্রির অভিযোগে মোবারকপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামকে তিন হাজার, চাউল বেশী দামে বিক্রির অেিযাগে হাড়িয়া দেয়াড়ার শরীফ আহম্মদ কে তিন হাজার টাকা, বাঁকড়া বাজারের বি.কে ষ্টোরের মালিক বীরেন কুন্ডু ও ভাই ভাই ব্যাকারীর আব্দুল করিমকে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসন একটি বিশেষ ঘোষনা আকারে একটি লিফলেট বের করেছে। তাতে ৮ টি নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে। নিদের্শনায় উল্লেখ করা হয়েছে- বিদেশ ফেরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১৪ দিন অবশ্যই নিজ কক্ষ থেকে বের হতে পারবে না। তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ তার থেকে আলাদা থাকবেন। তার থালা, বাটি, গ্লাস, কাপড় সহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিষপত্র আলাদা করে রাখতে হবে এবং ঐ পরিবারের সদস্যবৃন্দ মসজিদ সহ কোন ধরনের লোক সমাগমে যেতে পারবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপজেলায় সকল প্রকার গণজমায়েত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান।

প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারনকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ এবং যত্রতত্র বাজার, মোড় বা দোকানে অযথা আড্ডা বা বসে এবং যে কোন ধরনের খেলাধুলা করা নিষেধ । চায়ের ষ্টল সহ যে কোন ধরনের দোকানে টিভি ও বসার বেঞ্চ সরিয়ে রাখা একং দোকানে সামনে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ রাখতে হবে। উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার আ ব্যাচের ছাত্র পড়ানো বন্ধ ঘোষনা। এ সকল নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে  আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ব্যক্তি এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নিকটবর্তী পুলিশ কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকর্মীকে অবহিত করতে হবে। এবং যে কোন বিষয়ে সহযোগিতার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বসানো হয়েছে। যার ফোন নং- ০১৯১২৩৪১০৬৯।

এত কিছুর পরও সাধারন মানুষের মাঝে তেমন কোন সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের কর্মব্যস্ত মানুষের তেমন কোন ভিড় না থাকলেও ব্যাংক, কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারে ছিল মানুষের ব্যাপক ভিড়। গ্রাম অঞ্চলের চায়ের দোকান সহ সর্বত্র মানুষের সমাগম চোখে পড়ার মত।

এ ব্যাপারে নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইমলাম জানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদের নির্দেশনা মোতাবেক সরকারের সকল কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে আমরা একটি ইউনিয়ন কমিটি করেছি।  প্রতিটি ওয়ার্ড বা গ্রামে একটি করে কমিটি করার জন্য ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছি। যদি কোন ব্যক্তি আইন না মানে তাহলে আমাকে অথবা প্রশাসনের কাছে জানানোর জন্য বলেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমি মজুমদার জানান, আজকেও অনেক গুলো বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়ে। অনেকের জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করছি।

অমৃতবাজার/এমএএন