ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাঁকড়ায় কৃষকের জমি দলিল ছাড়াই রেকর্ড করে নেয়ার অভিযোগ


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা

প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ২০ মার্চ ২০২০, শুক্রবার
বাঁকড়ায় কৃষকের জমি দলিল ছাড়াই রেকর্ড করে নেয়ার অভিযোগ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ায় এক কৃষকের জমি দলিল ছাড়াই রেকর্ড করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতে মামলায় ডিক্রি পেয়েও জমির দখল পাচ্ছে না ঐ কৃষক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত খোদা বক্স গাজীর চার পুত্র নূর মোহাম্মদ গাজী, দীন মোহাম্মদ গাজী, নুরুল হক গাজী ও নুরুল ইসলাম গাজী। তাদের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া মুকুন্দপুর মৌজায় এসএ ৮৯ ও ১৬৫ খতিয়ানের মোট ১০০ শতক জমি আছে। যা চার ভাই ২৫ শতক করে অংশীদারীত্ব পায়। এর মধ্যে তিন ভাইদীন মোহাম্মদ গাজী, নুরুল হক গাজী ও নুরুল ইসলাম গাজী মোট ৭৫ শতক জমি একই গ্রামের মৃত আকরাজ গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তারের নিকট বিক্রয় করে। কিন্তু নূর মোহাম্মদ জমি বিক্রয় করেনি। কিন্তু আব্দুস সাত্তার ও তার পুত্র বাবলুর রহমান ৭৫ শতক জমি রেকর্ড করার সময় নূর মোহাম্মদের ২৫ শতক এবং পাশে এসএ ১০ খতিয়ানের ৭৭০ দাগের ৪ শতক সহ মোট ২৯ শতক জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নেয়।

পরে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঐ জমি দখল নিতে গেলে নূর মোহাম্মদ বিজ্ঞ ঝিকরগাছা সহকারী জজ আদালত, যশোরে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১০/১৯, তারখি- ২৭/০২/২০১৯ ইং। মামলায় সকল কাগজপত্র পর্যলোচনা করে আদালত ১৮/০৬/২০১৯ তারিখে বাদী নূর মোহাম্মদের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন। আদালতের রায় পেয়ে নূর মোহাম্মদ ও তার ছেলেরা জমিতে দখল নিতে গেলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পোষ্য গুন্ডরা হামলা করে।

এ সময় নূর মোহাম্মদ ও তার পুত্ররা গুরুতর আহত হয় এবং যশোর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ঝিকরগাছা আমলী আদালতে ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- সিআর- ১২৮/২০২০। আসামী করা হয়- মৃত আকরাজ গাজীর পুত্র আব্দুস সাত্তার ও আলাউদ্দীন গাজী, আব্দুস সাত্তারের ছেলে বাবলুর রহমান, রমজান গাজীর মশিয়ার রহমান ও মুজিবর রহমান এবং মৃত আজিবার রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফু।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, দলিল ছাড়া জমি কোনভাবেই রেকর্ড হতে পারে না। আব্দুস সাত্তার ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে জমি রেকর্ড করেছে। আদালতে সে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। যে কারণে আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু আব্দুস সাত্তার স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও সন্ত্রাসীদের টাকা দিয়ে অবৈধভাবে জমি নিতে চাচ্ছে। এবং বিভিন্ন লোক ধরে জমি ক্রয়ের কথা বলছে। কিন্তু আমার জমি আমি বিক্রয় করবো না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান, আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে শালিশে বসেছি কিন্তু আব্দুস সাত্তার নিজের পক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তিনি টাকার জোরে নিরহ মানুষের নিকট থেকে জমিটি নেয়ার পায়তারা করতে এবং আদালতের রায় অমান্য করছে।

এ ব্যাপারে আব্দুস সাত্তারের ছেলে বাবলুর রহমান জানান, জমিটি আমাদের ক্রয়কৃত। সে সময় জমিটি তার ছেলের নামে ছিল। আর ছেলে নাবালক হওয়ায় জমিটি রেষ্ট্রি হয়। এই সুযোগে এখন তারা জমির দাবী করছে। ওরা যে দেওয়ানী মামলার রায় পেয়েছে, সেই মামলাটি কবে করেছিল তা আমরা জানি না। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অমৃতবাজার/এমএএন